ফিচার ডেস্ক

দাম্পত্য জীবনে ঝগড়া বা মতবিরোধ চলতে থাকে। তবে এমন পরিস্থিতিতে অনেক স্ত্রীর অভিযোগ, রাগ বা অভিমান করলে তাদের স্বামী নীরব হয়ে যায়। বাইরে থেকে এটি উদাসীনতা বা অনুভূতি প্রকাশ না করা মনে হলেও, মনোবিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি সব সময় তেমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে এই নীরবতা আসলে পুরুষদের মস্তিষ্কের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। একধরনের আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা।
টেক্সাসের দম্পতি বিল ও জেনের গল্প এমনই একটি উদাহরণ। দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙনের মুখে পৌঁছালে তাঁরা মনোবিজ্ঞানী ড. অ্যাভরাম ওয়াইসের শরণাপন্ন হন। জেন ছিলেন প্রাণবন্ত। তিনি কথা বলতে ভালোবাসতেন। বিল ছিলেন স্বল্পভাষী ও অন্তর্মুখী। সমস্যা হলো, জেন যত বেশি কথা বলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে চাইতেন, বিল তত বেশি নিজেকে গুটিয়ে নিতেন।
জেনের অভিযোগ ছিল, স্বামী পাশে থাকলেও তিনি একাকিত্ব অনুভব করতেন। কাউন্সেলিংয়ে বিল জানান, তিনি চুপ করে থাকাকেই নিরাপদ মনে করতেন। তাঁর ধারণা ছিল, কথা বললে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত জেন এই নীরবতা আর সহ্য করতে না পেরে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।
ড. অ্যাভরাম ওয়াইস জানান, এ ধরনের ঘটনা খুবই সাধারণ এবং এর পেছনে পুরুষদের কিছু মানসিক ও জৈবিক বাধা কাজ করে।
ভয় ও লজ্জার বেড়াজাল
ড. ওয়াইসের মতে, পুরুষেরা কথা বলতে না পারার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে—লজ্জা ও উপেক্ষিত হওয়ার ভয়। সমাজ পুরুষদের শেখায় আত্মনির্ভরশীল হতে, নিজের দুর্বলতা প্রকাশ না করতে। ফলে কাউকে প্রয়োজন, এ কথা স্বীকার করাকে তারা দুর্বলতা বলে মনে করে। এ ছাড়া অনেক পুরুষ বিশ্বাস করে, ঝগড়ার সময় মুখ খুললে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তাই ঝুঁকি এড়াতে তারা নীরবতা বেছে নেয়। স্ত্রী সামান্য অসন্তুষ্ট হলেই তারা সেটিকে নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখে। একটি জনপ্রিয় প্রবাদ আছে, ‘স্ত্রী খুশি তো সংসার সুখী’। অনেকের জীবনের নীতিবাক্য এটি। ফলে নিজের অনুভূতি চাপা দিয়ে শুধু শান্তি বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় ব্যক্তিসত্তা।

চাপের মুখে ‘বন্ধ’ হয়ে যায় মস্তিষ্ক
এটি শুধু মনের ব্যাপার নয়। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যায়, তীব্র ঝগড়ার সময় পুরুষদের মস্তিষ্কের সেই অংশগুলো কম সক্রিয় হয়ে পড়ে, যেগুলো আবেগ ও সহমর্মিতা বুঝতে সাহায্য করে।
ইউএসসির কগনিটিভ অ্যান্ড ইমোশনাল ল্যাবের পরিচালক ড. মারা ম্যাথার জানান, অতিরিক্ত চাপের মুখে পুরুষদের মস্তিষ্ক ভয় বা রাগের মতো আবেগপূর্ণ মুখভঙ্গি ঠিকভাবে ধরতে পারে না। তখন মস্তিষ্ক নিজেকে রক্ষা করতে একধরনের বিশ্রাম অবস্থায় চলে যায়। এর ফলে অনেক পুরুষ চুপ করে যায়। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটে। চাপ বাড়লে তাদের আবেগ বোঝার ক্ষমতা আরও তীব্র হয়। তাই তারা তখন বেশি কথা বলতে এবং অনুভূতি ভাগাভাগি করতে চায়। এতেই তৈরি হয় সমস্যা। স্ত্রী যত বেশি কথা বলে কাছে আসতে চায়, স্বামী তত বেশি চাপ অনুভব করে নীরব হয়ে যায়। আর এই নীরবতাই দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
সমাধানের পথে সহানুভূতি
এই বিষয় যদি আমরা জৈবিক বাস্তবতা হিসেবে বুঝতে পারি, তাহলে দাম্পত্য সম্পর্কে সহনশীলতা ও বোঝাপড়া বাড়ানো সম্ভব। অনেক সময় পুরুষের নীরবতা মানে অনুভূতির অবহেলা নয়, তা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাই এমন অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে কথা বলার জন্য চাপ না দিয়ে, শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করলে পুরুষদের পক্ষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা সহজ হয়।
দাম্পত্য জীবনে সুস্থ সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি হলো একজন আরেকজনের আচরণের পেছনের কারণ বোঝার চেষ্টা করা। এতে অনেক সময় নীরবতার আড়ালেও না বলা বহু কথা লুকিয়ে থাকে।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে

দাম্পত্য জীবনে ঝগড়া বা মতবিরোধ চলতে থাকে। তবে এমন পরিস্থিতিতে অনেক স্ত্রীর অভিযোগ, রাগ বা অভিমান করলে তাদের স্বামী নীরব হয়ে যায়। বাইরে থেকে এটি উদাসীনতা বা অনুভূতি প্রকাশ না করা মনে হলেও, মনোবিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি সব সময় তেমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে এই নীরবতা আসলে পুরুষদের মস্তিষ্কের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। একধরনের আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা।
টেক্সাসের দম্পতি বিল ও জেনের গল্প এমনই একটি উদাহরণ। দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙনের মুখে পৌঁছালে তাঁরা মনোবিজ্ঞানী ড. অ্যাভরাম ওয়াইসের শরণাপন্ন হন। জেন ছিলেন প্রাণবন্ত। তিনি কথা বলতে ভালোবাসতেন। বিল ছিলেন স্বল্পভাষী ও অন্তর্মুখী। সমস্যা হলো, জেন যত বেশি কথা বলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে চাইতেন, বিল তত বেশি নিজেকে গুটিয়ে নিতেন।
জেনের অভিযোগ ছিল, স্বামী পাশে থাকলেও তিনি একাকিত্ব অনুভব করতেন। কাউন্সেলিংয়ে বিল জানান, তিনি চুপ করে থাকাকেই নিরাপদ মনে করতেন। তাঁর ধারণা ছিল, কথা বললে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত জেন এই নীরবতা আর সহ্য করতে না পেরে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।
ড. অ্যাভরাম ওয়াইস জানান, এ ধরনের ঘটনা খুবই সাধারণ এবং এর পেছনে পুরুষদের কিছু মানসিক ও জৈবিক বাধা কাজ করে।
ভয় ও লজ্জার বেড়াজাল
ড. ওয়াইসের মতে, পুরুষেরা কথা বলতে না পারার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে—লজ্জা ও উপেক্ষিত হওয়ার ভয়। সমাজ পুরুষদের শেখায় আত্মনির্ভরশীল হতে, নিজের দুর্বলতা প্রকাশ না করতে। ফলে কাউকে প্রয়োজন, এ কথা স্বীকার করাকে তারা দুর্বলতা বলে মনে করে। এ ছাড়া অনেক পুরুষ বিশ্বাস করে, ঝগড়ার সময় মুখ খুললে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তাই ঝুঁকি এড়াতে তারা নীরবতা বেছে নেয়। স্ত্রী সামান্য অসন্তুষ্ট হলেই তারা সেটিকে নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখে। একটি জনপ্রিয় প্রবাদ আছে, ‘স্ত্রী খুশি তো সংসার সুখী’। অনেকের জীবনের নীতিবাক্য এটি। ফলে নিজের অনুভূতি চাপা দিয়ে শুধু শান্তি বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় ব্যক্তিসত্তা।

চাপের মুখে ‘বন্ধ’ হয়ে যায় মস্তিষ্ক
এটি শুধু মনের ব্যাপার নয়। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যায়, তীব্র ঝগড়ার সময় পুরুষদের মস্তিষ্কের সেই অংশগুলো কম সক্রিয় হয়ে পড়ে, যেগুলো আবেগ ও সহমর্মিতা বুঝতে সাহায্য করে।
ইউএসসির কগনিটিভ অ্যান্ড ইমোশনাল ল্যাবের পরিচালক ড. মারা ম্যাথার জানান, অতিরিক্ত চাপের মুখে পুরুষদের মস্তিষ্ক ভয় বা রাগের মতো আবেগপূর্ণ মুখভঙ্গি ঠিকভাবে ধরতে পারে না। তখন মস্তিষ্ক নিজেকে রক্ষা করতে একধরনের বিশ্রাম অবস্থায় চলে যায়। এর ফলে অনেক পুরুষ চুপ করে যায়। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটে। চাপ বাড়লে তাদের আবেগ বোঝার ক্ষমতা আরও তীব্র হয়। তাই তারা তখন বেশি কথা বলতে এবং অনুভূতি ভাগাভাগি করতে চায়। এতেই তৈরি হয় সমস্যা। স্ত্রী যত বেশি কথা বলে কাছে আসতে চায়, স্বামী তত বেশি চাপ অনুভব করে নীরব হয়ে যায়। আর এই নীরবতাই দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
সমাধানের পথে সহানুভূতি
এই বিষয় যদি আমরা জৈবিক বাস্তবতা হিসেবে বুঝতে পারি, তাহলে দাম্পত্য সম্পর্কে সহনশীলতা ও বোঝাপড়া বাড়ানো সম্ভব। অনেক সময় পুরুষের নীরবতা মানে অনুভূতির অবহেলা নয়, তা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাই এমন অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে কথা বলার জন্য চাপ না দিয়ে, শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করলে পুরুষদের পক্ষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা সহজ হয়।
দাম্পত্য জীবনে সুস্থ সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি হলো একজন আরেকজনের আচরণের পেছনের কারণ বোঝার চেষ্টা করা। এতে অনেক সময় নীরবতার আড়ালেও না বলা বহু কথা লুকিয়ে থাকে।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে

বাস্তবে আমরা কমবেশি ছোট-বড় মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ফেলি। ছোটদের ক্ষেত্রে এটি সহজাত মনে হলেও বড়দের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। সত্যকে মেনে নেওয়ার অভ্যাসটি কষ্টকর হলেও এটি আপনাকে অনেক মূল্যবান শিক্ষা দেয়। তবে সদিচ্ছা থাকলে এই অভ্যাস পরিবর্তন করা সম্ভব...
৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসা যাচাই ও অভিবাসন প্রক্রিয়া...
৮ ঘণ্টা আগে
শিশু সদ্যই স্বাভাবিক খাবার খেতে শুরু করেছে। সকাল, দুপুর কিংবা বিকেলে নানা ধরনের খাবারের সঙ্গে তো তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে, পাশাপাশি এসব খাবারের পুষ্টিগুণও যাচাই করতে হবে। আবার সুস্বাদু না হলে সবকিছুই বরবাদ। এ সবই পূরণ হবে এক প্যান কেকে। শিশুকে তৈরি করে দিন বিভিন্ন স্বাদের এই প্যান কেক। কীভাবে...
১০ ঘণ্টা আগে
কনফিডেন্স আপনার আকাশছোঁয়া। তবে খেয়াল রাখবেন, কনফিডেন্স যেন ওভার কনফিডেন্সে না বদলে যায়। বসের ভুল ধরতে যাবেন না। কারণ, ‘বস ইজ অলওয়েজ রাইট’, বিশেষ করে যখন মাসের শেষ! সঙ্গীর সঙ্গে তর্কে জেতার চেষ্টা করবেন না। মনে রাখবেন, শান্তিতে ডাল-ভাত খাওয়া, ঝগড়া করে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে ভালো।
১০ ঘণ্টা আগে