নতুন বছরের শুরুতে ঝলমলে চুল পেতে চান? এই নভেম্বর-ডিসেম্বরেই নিতে হবে বিশেষ প্রস্তুতি

ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে আর মাত্র দুই মাস পর দরজায় কড়া নাড়বে নতুন বছর ২০২৭। নতুন বছর মানেই নতুন পরিকল্পনা, নতুন উৎসব আর নতুন করে নিজেকে সাজিয়ে তোলার আনন্দ। সামনে শীত আসছে, বছরের এই শেষ দুটি মাস, অর্থাৎ নভেম্বর ও ডিসেম্বরেই প্রকৃতিতে জেঁকে বসে শীত। বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে এই সময়ে চুল হয়ে পড়ে শুষ্ক, প্রাণহীন আর রুক্ষ। ডগা ফাটা কিংবা খুশকির উপদ্রব তো রয়েছেই। তাই নতুন বছরের শুরুতে যদি এক মাথা রেশমি-চকচকে চুল নিয়ে নিজেকে মেলে ধরতে চান, তবে যত্নটা শুরু করতে হবে এখন থেকেই। নভেম্বর আর ডিসেম্বরের এই দুই মাসকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে নতুন বছরের জন্য আপনার চুলকে প্রস্তুত করবেন, জেনে নিন তারই সব খুঁটিনাটি।
হট অয়েল থেরাপি
কসমেটোলজিস্ট ও শোভন মেকওভারের স্বত্বাধিকারী শোভন সাহা বলেন, ‘শীতের শুরুতে স্কাল্প বা মাথার ত্বক খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়, যা চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। নভেম্বর ও ডিসেম্বর জুড়ে সপ্তাহে অন্তত দুবার চুলে হালকা গরম তেল ম্যাসাজ করুন।’ তিনি পরামর্শ দেন, নারকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল এবং বাদাম তেল একসঙ্গে মিশিয়ে হালকা গরম করে মাথার ত্বকে আলতো হাতে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এটি চুলের গোড়া শক্ত করে এবং ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়। ম্যাসাজ করার পর গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে মাথায় ১০ মিনিট জড়িয়ে রাখলে তেলের কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
কন্ডিশনিং ও হেয়ার মাস্কের সঠিক ব্যবহার
বছরের শেষ এই দুই মাসে সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। শ্যাম্পু কেবল মাথার ত্বক পরিষ্কার করে, কিন্তু কন্ডিশনার চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে। এছাড়া সপ্তাহে একদিন চুলে ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক ব্যবহার করুন। শোভন সাহা জানান, রান্নাঘরের সহজ কিছু উপাদান যেমন: পাকা কলা, মধু, টকদই এবং ডিমের কুসুম একসঙ্গে মিশিয়ে একটি প্রাকৃতিক হেয়ার মাস্ক তৈরি করে চুলে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখতে পারলে উপকার পাওয়া যাবে। এটি ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে সারিয়ে তুলে নতুন বছরের আগেই চুলকে করে তুলবে মসৃণ।
খুশকি দূর করতে আগেভাগেই নিতে হবে প্রস্তুতি
নভেম্বর-ডিসেম্বরে বাতাসে ধুলোবালি বাড়ে এবং মাথার ত্বকে মৃত কোষ জমে খুশকির সৃষ্টি হয়। খুশকি থাকলে চুল কখনোই ঝলমলে দেখাবে না। তাই এই সময়ে সপ্তাহে একদিন শ্যাম্পুর সাথে লেবুর রস বা নিম পাতার রস মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছেন শোভন সাহা। এছাড়া আপেল সিডার ভিনেগার পানির সঙ্গে সমপরিমাণে মিশিয়ে শ্যাম্পু করার পর চুল ধুয়ে নিলে মাথার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং খুশকি দূরে থাকে।

গরম পানির ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ
শীতের আমেজে অনেকেই চুলে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করে ফেলেন। এটি চুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অতিরিক্ত গরম পানি চুলের প্রাকৃতিক তেল কেড়ে নিয়ে চুলকে রুক্ষ করে দেয়। তাই চুল ধোয়ার জন্য সবসময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন এবং সবশেষে এক মগ সাধারণ ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এতে চুলে একটি প্রাকৃতিক চকচকে ভাব আসে।
ট্রিম করুন এবং হিটিং টুলসকে ‘না’ বলুন
নতুন বছরে যদি চুলে ঝলমলেভাব চান, তবে নভেম্বর মাসের শুরুতেই চুলের নিচের ফাটা অংশ ট্রিম করুন বা ছেঁটে ফেলুন। ডগা ফাটা চুল বাড়তে পারে না এবং দেখতেও ভালো লাগে না। একইসঙ্গে এই দুই মাস হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লারের মতো হিটিং টুলস ব্যবহার করা থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকুন।

ভেতর থেকে পুষ্টি জোগাতে হবে
বাইরের যত্নের পাশাপাশি চুলের উজ্জ্বলতা নির্ভর করে আপনার খাদ্যাভ্যাসের ওপর। আসছে শীতের সময়ে বাজারে প্রচুর রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল পাওয়া যায়। আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পালং শাক, গাজর, আমলকী, ডিম, বাদাম ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ রাখুন। এই খাবারগুলো চুলের ফলিকলকে মজবুত করে এবং চুলকে প্রাকৃতিকভাবেই উজ্জ্বল করে তোলে। পাশাপাশি দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতে ভুলবেন না।
নভেম্বর ও ডিসেম্বরের এই সুনির্দিষ্ট পরিচর্যা আপনার চুলকে দেবে শীতের রুক্ষতা থেকে মুক্তি। বছরের প্রথম দিনটিতে যখন আপনি আয়নার সামনে দাঁড়াবেন, তখন একরাশ ঝলমলে আর প্রাণবন্ত চুল দেখে নিজেই হেসে উঠবেন তৃপ্তির হাসিতে।
সূত্র: হেলথলাইন ও অন্যান্য
ক্যাপশন
বছরের শেষ এই দুই মাসে সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। ছবি: পেক্সেলস
নতুন বছরে যদি চুলে ঝলমলেভাব চান, তবে নভেম্বর মাসের শুরুতেই চুলের নিচের ফাটা অংশ ট্রিম করুন বা ছেঁটে ফেলুন। ছবি: পেক্সেলস









