গাজীপুর সাফারি পার্কে বিলুপ্তপ্রায় নীলগাই পরিবারে এল চার শাবক

গাজীপুরের শ্রীপুরের সাফারি পার্কে বিলুপ্তপ্রায় নীলগাই পরিবারে ফুটফুটে চারটি শাবকের জন্ম হয়েছে। তারা এখন মায়েদের সঙ্গে খুনসুটি করে সময় পার করছে। দর্শনার্থীদের দেখলেই দৌড়ে পালিয়ে যায় বনের ভেতর। আর শাবকগুলো দেখে আনন্দ পাচ্ছে পার্কে আসা দর্শনার্থীরা বিশেষ করে শিশুরা। পার্ক কতৃপক্ষও শাবকগুলোকে বিশেষ পরিচর্যা দিচ্ছে।
পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. রাজু আহমেদ বলেন, একমাস আগে পার্কের কোর সাফারির হরিণ সাফারিতে মায়ের সঙ্গে দেখা যায় শাবকগুলোকে। শাবকের নিরাপত্তা ও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়নি। শাবক চারটি নারী না পুরুষ, তা এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এরা সুস্থ রয়েছে, নিয়মিত মায়ের দুধ পান করছে। অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে ঘোরাঘুরি, দৌড়াদৌড়ি করে সময় পার করছে ৷
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বনসংরক্ষক এসিএফ মো. তারেক রহমান বলেন, একমাস আগে পার্কের কোর সাফারির দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা প্রথমে একটি নীলগাই শাবক দেখতে পান। এরপর একে একে আরও তিনটি শাবককে দেখা যায়। নতুন শাবক জন্ম নেওয়ায় পার্কে আসা দর্শনার্থীদের আনন্দ একটু বেশি হচ্ছে। সদ্য জন্ম নেওয়া চার শাবকসহ পার্কে নীলগাইয়ের সংখ্যা এখন ১৩।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, শাবকগুলোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে সবসময় তদারকি করতে পার্ক কতৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নীলগাই হলো এশিয়ার বৃহত্তম কৃষ্ণসার বা হরিণ প্রজাতির প্রাণী। এগুলো দেখতে অনেকটা ঘোড়ার মতো। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ নীলগাইয়ের রঙ ধূসর বা নীলচে-ধূসর, এদের শিং থাকে। স্ত্রী নীলগাই সাধারণত লালচে-বাদামী হয়। যদিও বাংলাদেশে এরা একসময় বিলুপ্ত ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে (২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে) ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে মাঝে মাঝে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু নীলগাই প্রবেশ করে। স্থানীয়দের সহায়তায় বন বিভাগ সেগুলোকে উদ্ধার করেছে।









