
খাওয়াদাওয়ায় লাগাম টানার পরও বা অতিরিক্ত খাওয়া না হলেও শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় পেট যেন একটু বেশিই বড় মনে হয়। ব্যায়াম করেও বাড়তি মেদ ঝরানো মুশকিল হয়ে উঠছে। খাবারের নিয়মকানুন ও শরীরচর্চা করে অন্যরা মেদ ঝরাতে পারলেও আপনি পারছেন না কেন, সেটাই বারবার নিজেকে প্রশ্ন করে থাকলে এই লেখাটা আপনার জন্য। আপনার যা হয়েছে, তাকে সাধারণ মেদ বলে মনে করলে ভুল হবে; একে বলা হয় কর্টিসল বেলি। অর্থাৎ আপনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগছেন। আপনার শরীরে কর্টিসল অর্থাৎ স্ট্রেস হরমোন বেশি নিঃসৃত হচ্ছে। সে কারণে খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ আর ব্যায়াম করেও আপনার পেটের মেদ কমছে না।
কর্টিসল বেলি মানে শুধু পেট মোটা হওয়া নয়, এটা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের ফলে পেটে জমা হওয়া একধরনের মেদ। এর কারণে পেট বড় হয়, কিন্তু হাত-পা থাকে রোগা।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, কম ঘুম, অতিরিক্ত কাজের চাপ আর অস্বাস্থ্যকর খাবার—এগুলো মিলে শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দেয়। তখন শরীর বারবার বলে, ‘তুমি বিপদে আছ, আমি চর্বি জমিয়ে রাখছি।’ আপনি কি দিনের পর দিন নিজের মনের কথাকে অবহেলা করছেন? তাহলে এখনো সময় আছে সচেতন হওয়ার।
বিশ্বের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনো সময় কর্টিসলজনিত পেটের মেদ অনুভব করেন। এশিয়ায় এর হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। বাংলাদেশের গ্রামে কম হলেও ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরে ১০ থেকে ১২ শতাংশ মানুষের এই সমস্যা হচ্ছে বলে ধারণা চিকিৎসকদের।
দীর্ঘদিন ধরে শরীরে মানসিক চাপ এবং কর্টিসলের আধিক্য থাকলে প্রাপ্তবয়স্কদের পেট শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় স্থূল দেখা, ক্লান্তিবোধ কাজ করে, ঘুমের সমস্যা হয়, মেজাজ খিটখিটে থাকে। শিশুদের বেলায় পেট ফোলা থাকে কিন্তু ওজন কম হয়, স্কুলে মনোযোগ দিতে পারে না। একটুতেই কান্নাকাটি করে। প্রবীণদের ক্ষেত্রে পেশির সমস্যা দেখা দিতে পারে, হাত-পা রোগা হলে পেটটাই বড় দেখায়, সারাক্ষণ ঘুম পায়।
আমাদের মস্তিষ্ক যখন বিপদ টের পায়, তখন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে কর্টিসল হরমোন নিঃসরণ করে। কর্টিসল রক্তের চিনি বাড়ায় এবং ভিসেরাল ফ্যাট বা পেটের ভেতরে মেদ জমতে সাহায্য করে।
যাঁরা দিনে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, যাঁদের কাজ বা সংসারে সব সময় টানাপোড়েন থাকে, যাঁরা চিনি ও ভাজাপোড়া বেশি খান, ধূমপান বা মদ্যপান করেন, তাঁদের পেটে এ ধরনের মেদ জমার ঝুঁকি বেশি থাকে। মেয়েদের মেনোপজের পর কর্টিসলের প্রভাব আরও বেড়ে যায়।
কর্টিসল মেদের চিকিৎসা সহজ কিন্তু ধারাবাহিক হতে হয়। জীবনযাপনেও আনতে হবে বড় পরিবর্তন। যোগাসন ও মেডিটেশনে ধীরে ধীরে হলেও সেরে ওঠা সম্ভব। রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। চিনি, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার একেবারে বাদ দিতে হবে। প্রতিদিন ২০ মিনিট দ্রুতগতিতে হাঁটতে পারলে ভালো। চিকিৎসক প্রয়োজনে মানসিক চাপ ঠিক করার জন্য কাউন্সেলিং এবং কিছু ওষুধ দিতে পারেন।
জেনে রাখা ভালো, ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা এ সমস্যায় বেশি ভোগেন। কারণ, এই বয়সে চাকরি, সংসার, সন্তানের পড়াশোনা, ঋণ—সব মিলিয়ে একসঙ্গে চাপ আসে। বয়স বাড়ায় কর্টিসল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যায় বলে পেটে মেদ জমে সহজে। তবে অতিরিক্ত কর্টিসল নিঃসরণই নয়, জীবনযাত্রা ঠিক না থাকলেও কর্টিসল বেলি হতে পারে। তাই দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট অভ্যাস বদলালেই আপনি ফিরে পেতে পারেন নিজের সুস্থ শরীর ও মনের শান্তি।
লেখক: সদস্যসচিব, প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ

সকালে এক কাপ গরম চা বা কফি। অনেকের কাছে এটাই দিনটা চমৎকার কেটে যাওয়ার একটা দারুণ শুরু বলে মনে হয়। এই এক কাপ গরম পানীয় দিয়ে দিন শুরু করা আমাদের অনেকের নিত্যদিনের অভ্যাস। বিশেষ করে শীতের দিনে ধোঁয়া ওঠা পানীয় শরীরে এক মুহূর্তে চাঙা ভাব এনে দেয়।
৩ ঘণ্টা আগে
ত্বক মুহূর্তে উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত ও দাগহীন করতে রূপচর্চার জগতে এখন নতুন ক্রেজ গ্লোয়িং স্কিন আইভি ড্রিপ। কসমেটিক ক্লিনিক ও বিউটি পারলারগুলোতে বড় বড় বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, কোনো প্রকার নাইট ক্রিম, সিরাম বা ফেশিয়াল না করে, স্রেফ স্যালাইনের মতো একটি ইনফিউশনের মাধ্যমে
৫ ঘণ্টা আগে
সকালের নাশতায় মচমচে ও সুস্বাদু ফ্রেঞ্চ টোস্ট অনেকে পছন্দ করেন। তবে সাধারণ ফ্রেঞ্চ টোস্টে শর্করা ও ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকায় ডায়েট চলাকালে এটি কেউ কেউ এড়িয়ে চলেন। তবে সামান্য কিছু উপকরণ বদলে নিয়ে আপনি খুব সহজে সাধারণ এই ক্ল্যাসিক নাশতা বানিয়ে ফেলতে পারেন পুষ্টিকর ‘হাই-প্রোটিন ফ্রেঞ্চ টোস্ট’।
৭ ঘণ্টা আগে
আধুনিক যুগে সমুদ্রসৈকতে যাওয়া মানেই রোদচশমা, বিকিনি আর খোলা হাওয়ায় হইচই। তবে ইতালি উপকূলের এক বিশেষ সৈকতে নামলে আপনার চোখ ছানাবড়া হতে বাধ্য। কারণ, সেখানে সমুদ্র আর বালুকাবেলার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ১০ ফুট উঁচু এক সাদা পাকা দেয়াল। এক পাশে শুধু নারীদের রাজ্য, অন্য পাশে পুরুষদের।
২১ ঘণ্টা আগে