Ajker Patrika

২০২৬-এর বিউটি ট্রেন্ড

ড্রেসিং টেবিলে জায়গা করে নিয়েছে যেসব গুণের প্রসাধনী

ফারিয়া রহমান খান 
ড্রেসিং টেবিলে জায়গা করে নিয়েছে যেসব গুণের প্রসাধনী
ড্রেসিং টেবিলে জায়গা করে নিচ্ছে এমন প্রসাধনী, যা ত্বক ও মন দুটোই সতেজ রাখবে। মডেল: মিসৌরি, ছবি: মঞ্জু আলম

সৌন্দর্যচর্চার জগৎ এখন কেবল বাহ্যিক রূপ সুন্দর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে সৌন্দর্যপণ্য়ের কদর করা হচ্ছে তা ত্বকে কেমন অনুভূতি জোগাচ্ছে এবং কতটা আরাম দিচ্ছে তার ওপর বিচার করে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বিউটি ট্রেন্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ক্রেতারা এখন সৌন্দর্যপণ্য কিনতে আগ্রহী, যা একই সঙ্গে ত্বকের সুরক্ষা ও আরামের পাশাপাশি মানসিক তৃপ্তিও এনে দেয়।

মাল্টি-সেন্সরি ও মানসিক সতেজতা

রূপচর্চাকে এখন কেবল একটি দৈনন্দিন রুটিন নয়, বরং মানসিক ক্লান্তি দূর করার বা ‘সেলফ-কেয়ারের’ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ পণ্যের স্পর্শ এবং টেক্সচার মস্তিষ্কে আলাদা প্রশান্তি দেয়। গতানুগতিক ফেসওয়াশের আধুনিক রূপ হিসেবে ‘মোচি ফেসিয়াল ফোম’ এখন বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এটি হুইপড ক্রিমের মতো মসৃণ ও স্থিতিস্থাপক, যা ত্বকের লোমকূপ গভীরভাবে পরিষ্কার করার পাশাপাশি ত্বকে বিশেষ কোমল অনুভূতির দেয় ও মানসিক প্রশান্তি জোগায়।

সফট ম্যাট ও হাইব্রিড ফিনিশ

অতীতে ম্যাট মেকআপ মানেই ছিল ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত মেকআপের ভার। কিন্তু এ বছর ট্রেন্ডে এসেছে ‘সফট ম্যাট’ এবং হাইব্রিড ফিনিশ, যাকে বলা হচ্ছে ‘ক্লাউড স্কিন’ লুক। এতে ত্বক সম্পূর্ণ শুষ্ক দেখায় না, বরং একটি স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও কোমলভাব ফুটে ওঠে। এ ছাড়া ক্ষতিকারক উপাদানমুক্ত লুজ পাউডার ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং কোনো শুষ্কতা তৈরি না করেই দীর্ঘক্ষণ মেকআপ ধরে রাখে।

এসপিএফযুক্ত মেকআপ

সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাতে কেবল সানস্ক্রিন ব্যবহার করার দিন শেষ। বর্তমানে সান প্রটেকশন বা এসপিএফ যুক্ত হচ্ছে আইশ্যাডো থেকে শুরু করে ব্ল্যাশ পর্যন্ত সব ধরনের মেকআপ পণ্যে। চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বককে রক্ষা করতে এখন বাজারে এসেছে এসপিএফ ৩৫ যুক্ত ক্রিম আইশ্যাডো, যা প্রসাধন ও সুরক্ষার কাজ একসঙ্গে করে। একইভাবে অ্যাভোকাডো বাটার এবং মিনারেল ইউভি ফিল্টারসমৃদ্ধ ক্রিম ব্লাশঅন ত্বকে ন্যাচারাল পিঙ্কিশ গ্লো দেওয়ার পাশাপাশি রোদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে গালের ত্বককে রক্ষা করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে জৈব প্রযুক্তিতে তৈরি ও প্রাকৃতিক প্রসাধনী ব্যবহারের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ছে। মডেল: মিসৌরি, ছবি: মঞ্জু আলম
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে জৈব প্রযুক্তিতে তৈরি ও প্রাকৃতিক প্রসাধনী ব্যবহারের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ছে। মডেল: মিসৌরি, ছবি: মঞ্জু আলম

সাইট্রাস নোটের সুগন্ধি

সুগন্ধি এখন আর শুধু প্রয়োজন নয়, বরং এটি মেজাজ সতেজ রাখার এক দৈনন্দিন উপাদানে পরিণত হয়েছে। ফ্রেশ ও সাইট্রাস নোটের বডি মিস্টগুলো ত্বক ও পোশাকে দীর্ঘক্ষণ সতেজ সুবাস ধরে রাখে। এগুলো মেজাজ চাঙা করার পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজে একধরনের মানসিক ফুরফুরে ভাব এনে দেয়।

পরিবেশবান্ধব পণ্য

পরিবেশ ও নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে সুন্দর থাকাটাই আধুনিক সৌন্দর্য দর্শন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে জৈব প্রযুক্তিতে তৈরি ও প্রাকৃতিক প্রসাধনী ব্যবহারের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রাকৃতিক উপাদান ও এনজাইমসমৃদ্ধ গার্নেট লিপ মাস্ক ঠোঁটকে গভীরভাবে আর্দ্র রাখে এবং ঠোঁটে একধরনের হালকা গোলাপি আভা এনে দেয়। এটি প্লাস্টিক ও কেমিক্যাল ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।

ভবিষ্যতের রূপচর্চায় প্রযুক্তির ভূমিকা

সৌন্দর্যশিল্পে বায়োটেকনোলজি বা জৈব প্রযুক্তির সংযোজন প্রসাধনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তে প্রাকৃতিক নির্যাস ও এনজাইমের ব্যবহার ত্বককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন প্রসাধনীর স্থায়িত্বের চেয়ে এর গুণ ও ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রজন্ম এখন আর ফরসা ও সুন্দর দেখানোর পেছনে ছুটছে না। স্পর্শ, সুগন্ধ, সতেজ অনুভূতি এবং পরিবেশ সচেতনতার যে নতুন ধারা তৈরি হয়েছে, তা রূপচর্চার আগামী দিনের নতুন পথ দেখাচ্ছে। তাই ড্রেসিং টেবিলে জায়গা করে নিচ্ছে এমন প্রসাধনী, যা ত্বক ও মন দুটোই সতেজ রাখবে।

সূত্র: সেনশিয়ান্ট বিউটি ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত