অনেকে মনে করেন, ভাগ্য হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে আসে। কিন্তু বাস্তবে ভাগ্য তৈরি হয় আমাদের অভ্যাস, দৃষ্টিভঙ্গি এবং চারপাশের পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের আচরণের মাধ্যমে।
১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট। জাপানের হিরোশিমায় কাজ করছিলেন সুতোমু ইয়ামাগুচি। সেদিন ইতিহাসের প্রথম পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হয় ঠিক তাঁর সামনেই। তিনি প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু শরীরে মারাত্মক পোড়া ক্ষত তৈরি হয় এবং কানের পর্দাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চিকিৎসার আশায় তিনি বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর বাড়ি ছিল নাগাসাকিতে। মাত্র তিন দিন পর সেখানেও আরেকটি পারমাণবিক বোমা ফেলা হয়। দ্বিতীয়বারও তিনি বিস্ফোরণের কাছাকাছি ছিলেন এবং আবারও গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে যান।
দুটি পারমাণবিক হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া হাতে গোনা কয়েকজন মানুষের একজন ছিলেন ইয়ামাগুচি। তাঁকে বলা হয় ‘ডাবল হিবাকুশা’। এরপরও তিনি দীর্ঘ ৯৩ বছর বেঁচে ছিলেন এবং জীবনের বড় একটি সময় ব্যয় করেছেন শান্তি ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে কাজ করে।
এ ঘটনা আমাদের সামনে এক জটিল প্রশ্ন তৈরি করে। ইয়ামাগুচি কি চরম দুর্ভাগা ছিলেন, নাকি অসম্ভব ভাগ্যবান? উত্তরটা নির্ভর করে আপনি কোন দিক থেকে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছেন, তার ওপর। এখানেই বোঝা যায় ঘটনাকে আমরা কীভাবে দেখি এবং তার প্রতিক্রিয়া জানাই, সেটাই আসল।

ভাগ্য নিয়ে গবেষণা কী বলছে
মনোবিজ্ঞানী রিচার্ড উইসম্যান তাঁর বই ‘দ্য লাক ফ্যাক্টর’-এ প্রায় ১০ বছর ধরে এমন মানুষদের নিয়ে গবেষণা করেন, যাঁরা নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবান বা চরম দুর্ভাগা বলে মনে করেন। তাঁর গবেষণায় উঠে আসে এক চমকপ্রদ সত্য। এই দুই দলের মানুষের জীবনের পরিস্থিতিতে খুব বেশি পার্থক্য নেই। পার্থক্যটা মূলত তাঁদের আচরণ ও মানসিক অবস্থায়। যাঁরা নিজেকে দুর্ভাগা মনে করেন, তাঁরা সাধারণত বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হন। এই দুশ্চিন্তা তাঁদের দৃষ্টি সংকীর্ণ করে দেয়। তাঁরা শুধু ভয় বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই আটকে থাকেন। ফলে চারপাশে থাকা হঠাৎ সুযোগগুলো চোখে পড়ে না।
অন্যদিকে, যাঁদের আমরা ভাগ্যবান বলি, তাঁরা তুলনামূলকভাবে মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকেন। এতে তাঁরা চারপাশ ভালোভাবে লক্ষ করতে পারেন, ছোট ছোট ইঙ্গিত ধরতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে পরিকল্পনা বদলাতেও দ্বিধা করেন না।
আশাবাদী মানুষের বাস্তবতা যখন বদলে যায়
ভাগ্যবান মানুষদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো আশাবাদী হওয়া। তাঁরা বিশ্বাস করেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ভালোই হবে। এই বিশ্বাস তাঁদের কথাবার্তা ও আচরণে স্বাভাবিকতা আনে। ফলে মানুষও তাঁদের প্রতি ইতিবাচক থাকে। একসময় এই প্রত্যাশাই বাস্তব ফলাফলে রূপ নেয়। দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা সবার জীবনেই আসে। কিন্তু ভাগ্যবানেরা ব্যর্থতাকে শেষ বলে মনে করে না। তাঁরা এটাকে সাময়িক বাধা বা ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা হিসেবে দেখেন।
এই মানসিকতা তাঁদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। নইলে একটি খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয় হতাশা। আর হতাশা থেকে আসে আরও ভুল সিদ্ধান্ত। এভাবেই তৈরি হয় নেতিবাচক চক্র।
দৈনন্দিন জীবনে যেভাবে ভাগ্য ঠিক করা যায়
যদি ভাগ্য কিছুটা হলেও তৈরি করা যায়, তাহলে এর জন্য খুব বড় কিছু করার দরকার নেই। দৈনন্দিন জীবনে সামান্য কিছু পরিবর্তনই যথেষ্ট। মনোবিজ্ঞানী রিচার্ড উইসম্যান বলেন, একঘেয়ে জীবন ভাগ্য আটকে দেয়। প্রতিদিন একই সময় বের হওয়া, একই পথে যাওয়া, একই মানুষের সঙ্গে থাকা আর একই জায়গায় খাওয়া—এভাবে চললে নতুন কিছু পাওয়ার সুযোগ খুব কম থাকে।
কিন্তু ছোট ছোট পরিবর্তন অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। যেমন একদিন বাড়ি ফেরার সময় অন্য রাস্তা নিলেন, কফি শপে একটু বেশি সময় বসলেন কিংবা এমন কারও সঙ্গে কথা বললেন, যাঁকে চেনেন কিন্তু কখনো কথা বলা হয়নি। এসব সাধারণ কাজ থেকে অনেক সময় অপ্রত্যাশিত সুযোগ তৈরি হয়।
ভাগ্য মানে এই নয় যে সবকিছু সব সময় ঠিকঠাক হবে। ভাগ্য হলো একধরনের দৃঢ় প্রত্যাশা। ভালো কিছু ঘটতে পারে, এই বিশ্বাস রাখা এবং যদি না-ও ঘটে নমনীয় থেকে এগিয়ে যাওয়া।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে

রেটিনলসমৃদ্ধ প্রসাধনীর কথা প্রায় সবারই জানা। বিশেষ করে সেরাম। কিন্তু ত্রিশের পর যাঁরা রেটিনল সেরাম ব্যবহারের কথা ভাবছেন, তাঁদের জানিয়ে রাখি, মুখে মাখার চেয়ে পান করলে রেটিনল আরও ভালো ফল দেয়। চোখ কপালে তোলার কারণ নেই। রেটিনল জুস এখন ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে। বাজারে পাওয়া এ জুস পানে আপত্তি থাকলে ঘরেই...
২ ঘণ্টা আগে
বরইয়ের মৌসুমে প্রায়ই বাড়িতে আনা হয় এ ফলটি। পুষ্টিগুণে ভরপুর এ ফলটি দিয়ে সালাদ তৈরি করে খেতে পারেন। কীভাবে তৈরি করবেন? জানাচ্ছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।...
৪ ঘণ্টা আগে
জ্যাম আর দূষণের এই শহরে অফিসে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা তরতাজা থাকা ভীষণ কঠিন। তারপরেও বিষয়টি নিয়মিত চর্চার মধ্যে নিতে হয়। নইলে দুশ্চিন্তাসহ সবকিছুর ছাপ ফুটে ওঠে শরীরে। তখন মানসিক চাপ আরও বাড়ে। একজন মানুষের দিনে অন্তত দুই লিটার পানি পান করা উচিত। শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে অফিসে থাকা অবস্থায় পর্যাপ্ত পানি...
৬ ঘণ্টা আগে
ব্রিটানিকার মতো কিছু সূত্রে জানা যায়, প্রাচীন রোমান উৎসব লুপারকালিয়াকে কিছু গবেষক ভ্যালেন্টাইনস ডের মূল বলে মনে করেন। খ্রিষ্টপূর্ব সময়ে, ফেব্রুয়ারি মাস ছিল প্রাচীন রোমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি সেখানকার মানুষ উদ্যাপন করত লুপারকালিয়া নামের এক উর্বরতা উৎসব। তবে এটি একই...
১৭ ঘণ্টা আগে