মালয়েশিয়ার নাম শুনলেই অনেকের মনে প্রথমে চলে আসে ঝকঝকে আকাশচুম্বী ভবন, ব্যস্ত নগরজীবন আর আধুনিকতার প্রতীক রাজধানী শহর কুয়ালালামপুরের ছবি। নিঃসন্দেহে এই শহর যেন দেশটির হৃদয়। কিন্তু মালয়েশিয়া কি শুধুই কুয়ালালামপুর? তা মোটেও নয়। দেশটি প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি আর অ্যাডভেঞ্চারের এক বিস্ময়কর সংমিশ্রণ। এর বিস্তার উপদ্বীপ থেকে বোর্নিও দ্বীপ পর্যন্ত। অনেকে তো মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের কথা বেমালুম ভুলেই যায়।
অথচ মেইনল্যান্ড মালয়েশিয়া থেকে অনেক বেশি বড় বোর্নিও দ্বীপ মালয়েশিয়ারই অংশ। মালয়েশিয়ার মেইনল্যান্ডের আয়তন হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার। আর বোর্নিও দ্বীপে মালয়েশিয়ার আয়তন হচ্ছে ১ লাখ ৯৮ হাজার বর্গকিলোমিটার। কিন্তু কয়জন মানুষ এই বোর্নিও দ্বীপের কথা জানেন কিংবা এখানে ভ্রমণের কথা চিন্তা করেন? খুব কম।
অথচ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণের পর আমি বলতে বাধ্য যে এই বোর্নিও অঞ্চলই হচ্ছে মালয়েশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর অংশ।
শুধু বোর্নিও ভ্রমণ করতেই প্রয়োজন ১০ থেকে ১৪ দিন। এখানে আছে মালয়েশিয়ার সবচেয়ে উঁচু পাহাড় কিনাবালু। ৪ হাজার ৯৫ মিটার, অর্থাৎ ১৩ হাজার ৪৩৫ ফুট উঁচু এই পাহাড় হাইকিং-প্রেমিকদের জন্য অসাধারণ জায়গা। তারপর রয়েছে সেম্পোরনা অঞ্চলের মালদ্বীপ কিংবা ফিলিপিনের মতো নীল স্বচ্ছ পানি এবং সাদা বালুর সৈকতে ঘেরা অজস্র দ্বীপের সমারোহ। অসংখ্য দেশ ভ্রমণের পর আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এই সেম্পোরনা অঞ্চলে দেখেছি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সামুদ্রিক রং। এখানে রাত কাটানোর জন্য থাকতে পারবেন নীল সাগরের মাঝে গড়ে ওঠা অসংখ্য ওয়াটার ভিলায়। সেখানে গেলে মনে হবে, মালদ্বীপে রয়েছেন কিন্তু তার কয়েক গুণ কম মূল্যে।
মালয়েশিয়ান মেইনল্যান্ডের কাছে পূর্ব উপকূলে রয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যে সজ্জিত অসংখ্য দ্বীপ। এগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য পারহেন্টিয়ান, রেডাং ও টিওমান দ্বীপ। আর পশ্চিম উপকূলে থাইল্যান্ডের নিকটবর্তী দ্বীপগুলোর মধ্যে আছে লাঙ্কাউই ও পেনাং দ্বীপ। এ দুটি দ্বীপের কথা জানেন বেশির ভাগ মানুষ। যদি পরিবার নিয়ে মালয় সংস্কৃতিতে ডুব দিতে চান, তাহলে লাঙ্কাউই দ্বীপ অসাধারণ গন্তব্য। আর যদি নরম সাদা বালুর সমুদ্রসৈকত আর নীল পানির ঢেউ উপভোগ করতে চান, তাহলে পূর্ব উপকূলের দ্বীপগুলো সেরা। এ ছাড়া যদি ঐতিহাসিক শহর আপনাকে বেশি টানে, তাহলেও আপনাদের মালয়েশিয়া হতাশ করবে না।
ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য রয়েছে জর্জ টাউন ও মালাক্কা। ইউনেসকো স্বীকৃত এসব শহরে হাঁটলেই দেখা যায় ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, প্রাচীন চার্চ, মসজিদ ও মন্দিরের সহাবস্থান। মালাক্কার ডাচ স্কয়ারের লাল ভবন কিংবা পেনাংয়ের রঙিন স্ট্রিট আর্ট—সবকিছুই যেন অতীতের গল্প বলে। শীতল আবহাওয়া উপভোগ করতে চাইলে ক্যামেরন হাইল্যান্ডস হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। সেখানকার চা-বাগানের সবুজ ঢেউ আর মেঘে ঢাকা পাহাড় মন শান্ত করে দেবে।
রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে ডে ট্যুর করে দিনে দিনে ফিরে আসা সম্ভব হলেও আমার পরামর্শ থাকবে, অন্তত একটি রাত কাটাতে হবে ক্যামেরন হাইল্যান্ডসের চা-বাগানগুলোর মধ্যে অবস্থিত অসংখ্য হোটেলের যেকোনো একটিতে। ভোরবেলা সেসব হোটেলের জানালা খুললেই দেখতে পাবেন, মেঘে ঢাকা পাহাড় আর সেই সঙ্গে নাকে লাগবে চা-পাতার সুঘ্রাণ। এই দৃশ্য ও ঘ্রাণ আপনার পুরো দিনটিকেই পরিবর্তন করে দিতে বাধ্য।
মালয়েশিয়া শুধু একটি আধুনিক দেশের নাম নয়, এটি এক বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার দেশ; যেখানে ইতিহাস, প্রকৃতি, পাহাড়, সমুদ্র আর সংস্কৃতি মিলেমিশে এক অনন্য পরিচয় গড়ে তুলেছে। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে শুধু কুয়ালালামপুরেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। মালয়েশিয়ার প্রতিটি প্রদেশে, প্রতিটি দ্বীপে লুকিয়ে আছে নতুন গল্প, নতুন বিস্ময়। যদি সত্যিই আপনি ভ্রমণ করতে চান, তাহলে মালয়েশিয়ায় দেখা এবং উপভোগ করার মতো অনেক কিছু আছে। আপনার ভ্রমণের রুচি ও অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়ে ফেলুন এবারের মালয়েশিয়া ভ্রমণের পরিকল্পনা।

আজ আপনার অলসতা অলিম্পিক পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। ইচ্ছা করবে বিছানা ছেড়ে না উঠতে, কিন্তু পেটের ক্ষুধা তো আর গ্রহ-নক্ষত্র মানে না! কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীরা আপনার টিফিন বক্সের দিকে লোলুপ দৃষ্টি দিতে পারে, নিজের খাবার আগলে রাখুন।
১ ঘণ্টা আগে
আসছে ঈদ। ভ্রমণপ্রেমীদের অনেকে এখন নতুন করে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। যাঁরা দলবলে যেতে চান, তাঁদের তো তেমন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যাঁরা একা ভ্রমণ করতে চান এবং বলতে গেলে প্রায় নতুন, তাঁদের জন্য কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। একাকী ভ্রমণের স্বাধীনতা যেমন আছে, তেমনি আছে বিভিন্ন সমস্যা।
৩ ঘণ্টা আগে
সিলেট মানে সবুজে মোড়া এক স্বপ্নরাজ্য। আর সেই স্বপ্নরাজ্যের উজ্জ্বল অংশ গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। বছরজুড়ে দেশের নানান প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন সিলেটের ভোলাগঞ্জ, জৈন্তাপুরের লালাখাল, গোয়াইনঘাটের জাফলংসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। এখানে ভারতের ডাউকির উঁচু উঁচু টিলা...
৪ ঘণ্টা আগে
আগামী দশকে জি২০ভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে প্রায় ১২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল (ডব্লিউটিটিসি)। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিনিয়োগ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক পর্যটন খাতের প্রতিযোগিতা...
৫ ঘণ্টা আগে