Ajker Patrika

বিশ্ব পোশাকের মাপে আছে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
বিশ্ব পোশাকের মাপে আছে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য
পোশাকের গড় মাপ নির্ধারণে প্রধান নিয়ামক আঞ্চলিক ও ভৌগোলিক গঠন, সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

ফ্যাশন এমন এক বৈশ্বিক ভাষা যা দেশ, সংস্কৃতি কিংবা জাতিগত সীমানা পেরিয়ে মানচিত্রের প্রতিটি কোণে নিজের ছাপ রেখে যায়। তবে পোশাকের এই বৈচিত্র্যময় দুনিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীদের পোশাকের গড় মাপের পার্থক্য বেশ চমৎকার। প্যারিসের র‍্যাম্প থেকে শুরু করে এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাজার কিংবা আফ্রিকার স্থানীয় পোশাক সবগুলোর মাপই আলাদা। পোশাকের আকারের এই বৈচিত্র্য মানবদেহের প্রাকৃতিক গঠন এবং সাংস্কৃতিক ভিন্নতার এক অপূর্ব প্রতিফলন।

সাইজিংয়ের ভিন্নতা ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য

একই মাপ বিশ্বের সব জায়গায় একভাবে প্রকাশ পায় না, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পোশাকের গড় আকার যদি ১৬ বা ১৮ হয়, যুক্তরাজ্যে পরিমাপের ভিন্নতার কারণে সেটি ২০ থেকে ২২ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ইউরোপের ভেতরে আবার দেখা যায় বৈচিত্র্য—ফ্রান্সে যেখানে ১২ থেকে ১৪ সাইজ বেশ জনপ্রিয়, ইতালিতে সেখানে ৪৪ থেকে ৪৬ সাইজের পোশাক বহুল প্রচলিত। অন্যদিকে এশিয়ায় মেদহীন ও ছিপছিপে শরীরের ওপর জোর দেওয়ার প্রবণতা বেশি। জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে গড়ে ৭ থেকে ৯ কিংবা ৪৪ থেকে ৫৫ সাইজের পোশাক বেশি দেখা যায়। তবে ভারত ও বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে পোশাকের গড় আকার কিছুটা ভিন্ন, যা সাধারণত ১২ থেকে ১৪ বা ৪০ থেকে ৪২-এর কোঠায় থাকে। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড কিংবা মালয়েশিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে গড়ে ৮ থেকে ১০ সাইজের পোশাকের চাহিদা বেশি।

পোশাকের গড় সাইজ নির্ধারণে প্রধান নিয়ামক

বিশ্বজুড়ে পোশাকে আকার বা সাইজের অমিল কেবল দৈহিক পার্থক্যের কারণে নয়। এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে জীবনযাত্রার বহুবিধ প্রভাব। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস
বিশ্বজুড়ে পোশাকে আকার বা সাইজের অমিল কেবল দৈহিক পার্থক্যের কারণে নয়। এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে জীবনযাত্রার বহুবিধ প্রভাব। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

বিশ্বজুড়ে পোশাকে আকার বা সাইজের এই অমিল কেবল দৈহিক পার্থক্যের কারণে নয়। এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে জীবনযাত্রার বহুবিধ প্রভাব।

আঞ্চলিক ও ভৌগোলিক গঠন: জিনগত বৈশিষ্ট্য বা বংশগতির কারণে অঞ্চলভেদে মানুষের উচ্চতা ও শারীরিক গঠনে স্বাভাবিক ভিন্নতা থাকে; যেমন জাপানিদের শারীরিক গড়ন সাধারণত ইউরোপীয়দের তুলনায় কিছুটা ছোট ও হালকা হয়।

সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পোশাকের ধরন: অনেক সংস্কৃতিতেই শরীর ঢেকে রাখা কিংবা ঢিলেঢালা পোশাক পরার ঐতিহ্য রয়েছে। বিশেষ করে উষ্ণ আবহাওয়ার দেশগুলোতে আরামদায়ক ও ঢিলেঢালা পোশাক পছন্দ করা হয়, যা পোশাকের গড় আকারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

খাদ্যাভ্যাস ও আধুনিক জীবনযাত্রা: বিগত কয়েক দশকে প্রযুক্তির বিকাশ, প্রক্রিয়াজাত খাবারের আধিক্য এবং হাঁটাহাঁটির অভ্যাস কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের ওজনে পরিবর্তন এসেছে। খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের পরিমাণ পোশাকের আকারের এই পরিবর্ধনে বড় ভূমিকা রাখছে।

অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার মান: স্বাস্থ্য সচেতনতা, পুষ্টিকর খাবার এবং শরীরচর্চার সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে।

ফ্যাশন উদ্‌যাপন করে বৈচিত্র্যকে

পোশাকের গড় সাইজ কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সার্বিক স্বাস্থ্য নির্দেশ করে না। ফ্যাশন আজ কেবল একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে নিজেকে বন্দী না রেখে সব ধরনের শারীরিক গঠন স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে। লন্ডনের ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে ঢাকার বৈচিত্র্যময় ফ্যাশন হাউস—সবখানে ফুটে উঠছে নিজ নিজ সংস্কৃতির রূপ। পোশাকের সাইজ যা-ই হোক না কেন, আত্মবিশ্বাস ও নিজস্ব আরামই শেষ পর্যন্ত আধুনিক ফ্যাশনের আসল পরিচয়।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত