
এখন বিভিন্ন দিবস পালন করা হয়, প্রতি মাসেই। এই সব দিবসের মধ্যে কিছু আছে আবার ডিজিটাল দুনিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পালন করা দিবস। এগুলোর মধ্যে আছে বিশ্ব ইমোজি দিবস, ডেটা গোপনীয়তা দিবস, আন্তর্জাতিক ক্যাপসলক দিবস ইত্যাদি।
গতকাল ছিল আন্তর্জাতিক পোক ডে। মজার বিষয় হলো, এই পোক ডেকে অনেকেই সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের পোক অর্থাৎ ভার্চুয়াল খোঁচাখুঁচি থেকে তৈরি হওয়া দিবস মনে করে থাকেন। তবে এটি ভুল। আন্তর্জাতিক পোক দিবসের সঙ্গে ফেসবুকের কোনো যোগাযোগ নেই। বরং এর যোগাযোগ আছে খাবারের সঙ্গে।
পোক দিবসের এই ‘পোক’ হলো হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের একটি জনপ্রিয় ও সুস্বাদু ঐতিহ্যবাহী খাবার। হাওয়াইয়ান ভাষায় পোক শব্দের অর্থ হলো টুকরো করা। সাধারণত কাঁচা মাছ ছোট ছোট কিউব বা টুকরো করে কেটে, বিভিন্ন মসলা ও সস দিয়ে মাখিয়ে ভাতের ওপর সাজিয়ে খাওয়া হয় এই খাবারটি। এটি বিখ্যাত জাপানিজ খাবার সুশির মতো কাঁচা মাছ দিয়ে তৈরি খাবার। সুশির মতো খাবারের খোঁজখবর যারা রাখেন, তাঁরা পোক নামের খাবারটির সঙ্গেও পরিচিত। তাজা মাছ, সবজি, ভাত ও নানা ধরনের সসের সমন্বয়ে তৈরি এই খাবার বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেশ জনপ্রিয়। রেস্তোরাঁর আধুনিক পোক বোলের পেছনে রয়েছে হাওয়াইয়ের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ইতিহাস। প্রতিবছর ২৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক পোক দিবস। এ দিনটি জনপ্রিয় এই খাবারের ঐতিহ্য ও বিশ্বজুড়ে এর বিস্তারকে উদ্যাপন করার একটি উপলক্ষ।
পোকের ইতিহাস কয়েক শতাব্দী পুরোনো। পলিনেশীয়দের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে আগমনের সঙ্গে কাঁচা মাছ খাওয়ার ঐতিহ্যও সেখানে পৌঁছায়। হাওয়াইয়ের জেলেরা মাছ ধরার পর সেগুলোর অব্যবহৃত অংশ ছোট করে কেটে তাতে সামুদ্রিক লবণ, সামুদ্রিক শৈবালসহ স্থানীয় কিছু উপকরণ মিশিয়ে খেতেন। সহজে তৈরি করা যেত বলে এটি ছিল জেলেদের জন্য দারুণ উপযোগী খাবার। ঐতিহ্যবাহী পোকে লিমু নামের সামুদ্রিক শৈবাল এবং ভাজা ও গুঁড়া করা কুকুই বাদাম থেকে তৈরি ইনামোনা ব্যবহার করা হতো। পরবর্তী সময়ে হাওয়াইয়ে বসতি গড়া জাপানি অভিবাসীদের খাবারের সংস্কৃতির প্রভাবও পোকের ওপর পড়ে। সয়া সস ও তিলের তেলের মতো উপকরণ ধীরে ধীরে আধুনিক পোকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

সত্তরের দশকে টুনা মাছ, হাওয়াইয়ান লবণ ও সামুদ্রিক শৈবাল দিয়ে তৈরি পোকের প্রচলন বাড়তে থাকে। এরপর ২০১০ সালের দিক থেকে উত্তর আমেরিকায় পোক বোলের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে। বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় নিজের পছন্দমতো মাছ, ভাত, সবজি ও টপিং বেছে নিয়ে বোল তৈরির সুযোগ দেওয়া শুরু হয়। সেখান থেকেই খাবারটি ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
না, মানে দিবস তো পেরিয়েই গেছে। তাই পোক নামের খাবারটি ঝুটঝামেলা ছাড়া চেখে দেখতে চাইলে কাছাকাছি কোনো পোক রেস্তোরাঁয় চলে যেতে পারেন, যদি খোঁজ পান। অবশ্য তাই ধীরেসুস্থে একটি পোক বোল তৈরি করে নিতে পারেন বাড়িতেই। ইউটিউবে এর প্রচুর রেসিপি পাওয়া যায়। এখানেও একটি দেওয়া রইল।

সুগন্ধি চালের ভাত বা সুশি রাইস ১ কাপ, মাছ ২০০ গ্রাম। জানিয়ে রাখি, এ খাবারে ঐতিহ্যগতভাবে কাঁচা টুনা বা স্যামন মাছ ব্যবহার করা হয়। তবে আপনি চাইলে হালকা সেদ্ধ করা চিংড়ি বা পনির ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া দরকার হবে কিউব করে কাটা শসা কুচি, গাজর কুচি বা অ্যাভোকাডো, ২ টেবিল চামচ সয়া সস, ১ চা-চামচ তিলের তেল, ১ চা-চামচ লেবুর রস ও সামান্য মধু এবং গার্নিশের জন্য তিল ও কাঁচামরিচ কুচি।
প্রথমে একটি পাত্রে সয়া সস, তিলের তেল, লেবুর রস ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার কিউব করে কাটা মাছ বা চিংড়ি এই সসের মিশ্রণ দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে ১০ মিনিট ম্যারিনেট করে রাখুন। একটি বড় বোলে বা বাটিতে গরম ভাত দিন। তার ওপর ম্যারিনেট করা মাছ, শসা ও গাজর কুচি এবং অ্যাভোকাডোর টুকরোগুলো আলাদা আলাদা লাইনে সাজিয়ে দিন। তারপর ওপর থেকে সামান্য তিল এবং কাঁচামরিচ কুঁচি ছড়িয়ে দিয়ে ঝটপট পরিবেশন করুন।
পোক নামে এই খাবারটিতে ব্যবহার করা জনপ্রিয় মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে টুনা। ঐতিহ্যবাহী পোকে সয়া সস ব্যবহারের আগে কুকুই বাদাম থেকে তৈরি ইনামোনা ব্যবহার করা হতো। হাওয়াইয়ে পোক অনেক সময় মূল খাবারের পাশাপাশি হালকা নাশতা বা অ্যাপেটাইজার হিসেবেও খাওয়া হয়। সময় বদলের সঙ্গে পোকের রেসিপিতেও এসেছে বৈচিত্র্য। টুনার পরিবর্তে স্যামন, অক্টোপাস, চিংড়ি এমনকি মুরগির মাংসও ব্যবহার করা হয়।
আন্তর্জাতিক পোক দিবস শুধু একটি খাবার খাওয়ার উপলক্ষ নয়। এর মাধ্যমে হাওয়াইয়ের খাবার ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি পোকের পেছনে থাকা পলিনেশীয় ঐতিহ্য এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রভাব সম্পর্কেও জানা যায়। আন্তর্জাতিক পোক দিবসের সূচনা করেন কানাডার এডমন্টনে স্প্ল্যাশ পোক রেস্তোরাঁর সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যাঞ্জেলা ওয়ং।
পোক দিবস হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের একটি বিশেষ খাবারের ঐতিহ্য ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য পালন করা হলেও, এর মাধ্যমে পৃথিবীর খাদ্যসংস্কৃতির প্রতি গভীর দৃষ্টি দেওয়া যেতে পারে। পোক দিবস স্মরণ করে যেকোনো দেশের ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার খেতে পারেন।
সূত্র: অ্যাওয়ারনেস ডেজ

কোরিয়ান ওমুরাইসের ইতিহাস বেশ আকর্ষণীয়। এই খাবারটি জাপানি শাসনের সময় কোরিয়াতে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে সেখানকার একটি অন্যতম ঘরোয়া খাবারে পরিণত হয়। সবজি ও মাংস দিয়ে ভাজা ভাতকে একটি পাতলা ডিমের ওমলেটের ভেতর মুড়িয়ে ওপর থেকে টক-মিষ্টি কেচাপ বা গাঢ় ডেমি-গ্লেস সস দিয়ে পরিবেশন করা হয় এই খাবারটি। এর...
৪ ঘণ্টা আগে
নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রাণঘাতী বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের কারণে দেশটির বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এবং পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস...
১৬ ঘণ্টা আগে
ঘুমের সময় ঘাড়, কাঁধ বা পিঠে ব্যথা হলে অনেকেই বিছানা বা গদির দিকে নজর দেন। কিন্তু সমস্যার কারণ হতে পারে বালিশও। ঘুমের ধরন, কাঁধের প্রস্থ, গদির নরম-শক্তভাব—এসব বিবেচনা করেই নিজের জন্য উপযুক্ত বালিশ বেছে নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার স্কুল অব ফিজিওথেরাপির সহযোগী অধ্যাপক ও ফিজিওথেরাপিস্ট
১৯ ঘণ্টা আগে
কথায় আছে, বিড়ালের নয় জীবন। কিন্তু ভূমধ্যসাগরের দুই খুদে দ্বীপে গেলে মনে হবে, নয় জীবন নয়; একেবারে রাজ্য গড়ে সেখানে রাজত্ব করছে হাজার হাজার বিড়াল। একটি হলো ভূমধ্যসাগরের পূর্ব কোণের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস। অন্যটি স্পেনের ছোট্ট দ্বীপ নুয়েভা তাবারকা। মানুষের চেয়ে বিড়ালের দাপট যেখানে বেশি...
২০ ঘণ্টা আগে