Ajker Patrika

জেনে নিন বর্ষাকালে কোন ধরনের সাবান ব্যবহার করা ভালো

ফিচার ডেস্ক 
জেনে নিন বর্ষাকালে কোন ধরনের সাবান ব্যবহার করা ভালো
গ্লিসারিন ও অ্যালোভেরা যুক্ত সাবান বৃষ্টির পানির অ্যাসিড থেকে সৃষ্ট ত্বকের চুলকানি দূর করে। ছবি: পেক্সেলস

বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বাতাসে আর্দ্রতা ও ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ত্বক সারাক্ষণ চিটচিটে থাকে, যার ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের আক্রমণ বাড়ে। ফলে ত্বকে চুলকানি, ঘামাচি, দাদ বা বডি অ্যাকনের মতো সমস্যা দেখা দেয়। বর্ষাকালে ত্বকের এই বিশেষ সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে প্রতিদিনের গোসলের সাবানে পরিবর্তন আনা জরুরি। এসময় সাধারণ সুগন্ধি বা চড়া ক্ষারযুক্ত সাবানের বদলে ব্যবহার করা উচিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানযুক্ত, টি-ট্রি অয়েল সমৃদ্ধ অথবা গ্লিসারিন-বেসড সাবান। বর্ষার দিনগুলোতে ত্বকের সুস্থতা ও সতেজতায় কোন ধরনের সাবান ব্যবহার করা ভালো তা জেনে নিন।

টি-ট্রি অয়েল ও নিম সমৃদ্ধ সাবান

টি-ট্রি অয়েল এবং নিমের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। বর্ষার আর্দ্রতায় ত্বকে যেসব ক্ষতিকর জীবাণু ছড়ায়, এই উপাদানগুলো সেগুলোকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের পিঠে বা বুকে ব্রণ হয়, তাদের জন্য এই সাবান অত্যন্ত কার্যকরী।

মৃদু অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবান

বর্ষাকালে ত্বকের ইনফেকশন এড়াতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবান দারুণ কাজ করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে সাবানটি যেন ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক না করে ফেলে। চড়া কেমিক্যালের বদলে মৃদু ফর্মুলার অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবান বেছে নিন, যা জীবাণু দূর করার পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখবে।

গ্লিসারিন ও অ্যালোভেরা বেসড সাবান

অনেকেরই ধারণা বর্ষায় ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ সাবান দরকার নেই। কিন্তু অতিরিক্ত ঘাম ও বৃষ্টির পানিতে ভেজার কারণে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। গ্লিসারিন ও অ্যালোভেরা যুক্ত সাবান ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং বৃষ্টির পানির অ্যাসিড থেকে সৃষ্ট ত্বকের চুলকানি দূর করে।

বর্ষাকালে ত্বকের ইনফেকশন এড়াতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবান দারুণ কাজ করে। ছবি: পেক্সেলস
বর্ষাকালে ত্বকের ইনফেকশন এড়াতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবান দারুণ কাজ করে। ছবি: পেক্সেলস

চারকোল বা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড যুক্ত সাবান

যারা দীর্ঘ সময় বাইরে কাটান, বৃষ্টির কাদা-পানি ও বাতাসে থাকা দূষণে তাদের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। চারকোল বা স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত সাবান ত্বকের গভীর থেকে ময়লা ও অতিরিক্ত তেল বা সিবাম টেনে বের করে আনে। এটি ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার ও সতেজ রাখে।

সাবান ব্যবহার করতে না চাইলে

যাঁরা সাবান ব্যবহার করেন না বা করতে চান না, তাঁরা বডিওয়াশ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় লক্ষ রাখতে পারেন। বর্ষাকালে ল্যাকটিক অ্যাসিড বা এএইচএ যুক্ত বডিওয়াশ ব্যবহার করুন। বর্ষায় বৃষ্টির পানি আর কাদার কারণে অনেকেরই পায়ের পাতা, গোড়ালি বা কনুইয়ের ত্বক খসখসে ও কালচে হয়ে যায়। ল্যাকটিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ বডিওয়াশ কোনো রকম চড়া স্ক্রাবিং ছাড়াই ত্বকের মৃত কোষ দূর করে। এটি ত্বককে নরম রাখার পাশাপাশি ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়াও এই আবহাওয়ায় ভারী ‘ক্রিম-বেসড’ বডিওয়াশ এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এগুলো ত্বককে আরও বেশি চটচটে করে তুলতে পারে। এর বদলে লাইটওয়েট ‘জেল-বেসড’ বডিওয়াশ বেছে নিতে পারেন। খেয়াল রাখবেন বডিওয়াশের পিএইচ মাত্রা যেন ৫.৫ বা তার কাছাকাছি থাকে। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাস্তরকে ভালো রাখবে।

জেনে রাখা ভালো

বাইরে থেকে ফিরে বা বৃষ্টির পানিতে ভিজলে দেরি না করে বর্ষাকালে ব্যবহার উপযোগী সাবান বা বডিওয়াশ দিয়ে ভালো করে গোসল করে নিন।

গোসলের সময় আন্ডারআর্ম, ঘাড় এবং আঙুলের ফাঁকগুলো ভালো করে পরিষ্কার করুন এবং গোসল শেষে তোয়ালে দিয়ে শরীর সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন।

বর্ষায় ভেজা লুফাতে দ্রুত ফাঙ্গাস জন্মায়। তাই প্রতিবার ব্যবহারের পর লুফা ভালো করে ধুয়ে কড়া রোদে বা বাতাসে শুকিয়ে নিন।

ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে তোয়ালে ব্যবহার করবেন না, এতে ত্বকে ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণ বাড়তে পারে।

সূত্র: স্মিটেন ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত