
কোরিয়ান পপ কালচার বা কে-পপ আজ বিশ্বজুড়ে এক উন্মাদনার নাম। তার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ট্রেন্ড। আপনি কি এই কে পপ সংস্কৃতির অনন্য ও আকর্ষণীয় বার্থডে ক্যাফে কালচার সম্পর্কে জানেন?
এটি এমন এক অভিনব আয়োজন, যেখানে কোনো ক্যাফেতে কোনো এক কে-পপ তারকার জন্মদিনের জাঁকালো পার্টি হবে অথচ যাঁর জন্মদিন সেই তারকা বা গেস্ট অব অনার নিজেই সেখানে উপস্থিত থাকবেন না। সিউলের হংদে এবং মেইং-দংয়ের মতো এলাকাগুলো এই বিশেষ সংস্কৃতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভক্তদের এই ভালোবাসা, সৃজনশীলতা এবং উদ্যাপনের নেপথ্যে আছে বিভিন্ন গল্প।

কে-পপ তারকাদের জন্মদিনের কয়েক মাস আগে থেকে ভক্তরা ইভেন্ট প্ল্যানার বা আয়োজকের ভূমিকা নেন। তাঁরা স্বেচ্ছায় ক্যাফে বুক করেন, থিম নির্বাচন করেন, বিশেষ মার্চেন্ডাইজ ডিজাইন করেন এবং নিজেদের হাতে ক্যাফেগুলো সাজিয়ে তোলেন। কোনো কে পপ ফ্যান যদি সেই ক্যাফেতে ঢুকে পড়েন, তবে মনে হবে, তিনি কোনো স্বপ্নরাজ্যে চলে এসেছেন। চারপাশের দেয়ালজুড়ে থাকে প্রিয় আইডলের হাসিমুখের শত শত ছবি। সিলিং থেকে ঝোলে নিয়ন সাইন ও বেলুন আর ব্যাকগ্রাউন্ডে অবিরাম বাজতে থাকে সেই তারকারই গাওয়া গান। এমনকি কফির কাপ, কাপ হোল্ডার থেকে শুরু করে কফির ওপরের আর্ট—সবকিছুতেই থাকে প্রিয় তারকার ছোঁয়া। ক্যাফেতে আসা দর্শনার্থীরা কফি পানের পাশাপাশি বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য পান এক্সক্লুসিভ ফটোকার্ড, স্টিকার ও হরেক রকমের স্যুভেনির।
আমরা যখন কারও জন্মদিনের আয়োজন করি, তখন সেই ব্যক্তির উপস্থিতিই হয়ে ওঠে বড় আনন্দের বিষয়। কিন্তু এই আয়োজনের মজার বিষয় হলো, ক্যাফে মালিক থেকে শুরু করে ভক্তরা কেউই আশা করেন না, সেই তারকা নিজে ক্যাফেতে আসবেন। কারণ, একজন শীর্ষ তারকার জন্মদিনে সিউল জুড়ে হয়তো ৩০ থেকে ৪০টি ক্যাফেতে এমন আয়োজন চলে। এক দিনে সব জায়গায় যাওয়া অসম্ভব। আবার সাধারণ ক্যাফেগুলো সেই তারকাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার মতো অবস্থাও থাকে না। তাহলে মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, তারকারা না এলে ভক্তরা কেন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন? ক্যাফেগুলোর মালিকেরা বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেন ভিন্নভাবে। তাঁদের মতে, এটি আসলে এমন একটি জায়গা খুঁজে পাওয়ার আনন্দ, যেখানে একই ভালোবাসার মানুষগুলো একসঙ্গে জড়ো হতে পারে। এখানে এক খাঁটি ও পবিত্র আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়। ভক্তরা এখানে এসে ক্যাফে ট্যুর করেন। অর্থাৎ, একই আইডলের জন্য সাজানো ৮ থেকে ১০টি ক্যাফেতে ঘুরে ঘুরে তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন থিম উপভোগ করেন। কোথাও আইডলের সাম্প্রতিক অ্যালবামের কনসেপ্ট থাকে। কোথাও আবার কোরীয় ঐতিহ্যবাহী প্রথম জন্মদিনের আদলে তারকার শৈশবের ছবি প্রদর্শন করা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে শুরু হওয়া এই সংস্কৃতি এখন আর শুধু কে-পপ বা কোরিয়ান তারকাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর পরিধি এখন ফুটবল বা বেসবল খেলোয়াড় ছাড়িয়ে ইতিহাসের কিংবদন্তিদের দিকেও এগোচ্ছে। যেমন বোস্টন বা সিউলের হংদে-তে বিখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের প্রয়াত কিংবদন্তি জন লেননের জন্মবার্ষিকী স্মরণেও বার্থডে ক্যাফে আয়োজিত হচ্ছে, যা ভক্তদের এক অদ্ভুত নস্টালজিয়ায় ভাসিয়ে দেয়। চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই সংস্কৃতি এখন ধর্মীয় রূপও ধারণ করেছে। সিউলের ‘ইয়নহওয়াসা’ মন্দিরের গেটের কাছে স্বয়ং গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন উপলক্ষে বার্থডে ক্যাফে খোলা হয়। মন্দিরের দরজায় ঝোলে লোটাস ল্যাটে বা পদ্ম চা হাতে বসা এবং মাথায় বার্থডে ক্যাপ পরা বুদ্ধের কার্টুন ব্যানার। ভেতরে ঝোলে ‘হ্যাপি বুদ্ধস ডে’ লেখা বেলুন। সেখানে ল্যাটে অর্ডার করলে ভক্তরা পান বুদ্ধের বিশেষ ফটোকার্ড।
তরুণ প্রজন্মকে ধর্মের প্রতি ইতিবাচকভাবে আকৃষ্ট করতে এবং সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে এই আধুনিক সংস্কৃতিকে ব্যবহার করছে কোরিয়ান বৌদ্ধমন্দিরগুলো।
এই ক্যাফেগুলোর জনপ্রিয়তা এখন আন্তর্জাতিক। বিটিএসের সদস্য ভি-এর জন্মদিনে জাপানের এক ভক্ত কোরিয়ায় চলে এসেছিলেন শুধু তাঁর প্রিয় আইডলের ক্যাফে ভাইবটা কাছাকাছি থেকে অনুভব করার জন্য। মাঝে মাঝে এস্পা বা এনসিটির মতো কিছু বড় ব্যান্ডের সদস্যদের সারপ্রাইজ ভিজিট দিতে দেখা গেলেও এই সংস্কৃতির মূল ভিত্তি কিন্তু ভক্তরাই। এটি এমন এক যৌথ ভালোবাসার উদ্যাপন, যেখানে মূল মানুষটি সামনে না থাকলেও তাঁর প্রতি থাকা অনুরাগ বিশ্বের হাজারো মানুষকে একই ছাদের নিচে এনে এক পরম আত্মিক শান্তি দেয়।
সূত্র: সিএনএন, দ্য কোরিয়া হেরাল্ড

বিরিয়ানি রান্নার ক্ষেত্রে আমরা দমপুখত শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু খাসির মাংসের দমপুখত! হ্যাঁ, সেই খাবারও আছে। বেলুচিস্তানের রন্ধন ঐতিহ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি দমপুখত মাটন। ‘দমপুখত’ শব্দটি এসেছে ফারসি ভাষা থেকে। ‘দম’ অর্থ বাষ্প বা নিশ্বাস এবং ‘পুখত’ অর্থ রান্না করা।
২ ঘণ্টা আগে
কর্টিসল ডিটক্স। ভাবছেন, এটা আবার কী? আর আদৌ কি কোনো হরমোন ডিটক্স করা যায়? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তো বলছেন, যায়। আপনার শরীর অতিরিক্ত পরিমাণে কর্টিসল তৈরি করছে কি না তা কীভাবে নির্ণয় করবেন এবং এই স্ট্রেস হরমোনের কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সমাধান কী করে করবেন, জেনে নিন...
১৬ ঘণ্টা আগে
ধরুন, ঘড়িতে বাজে রাত ২টা। পুরো দুনিয়া গভীর ঘুমে মগ্ন আর আপনি বিছানায় শুয়ে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছেন; কিংবা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিংয়ের বিশ্ব রেকর্ড গড়ার চেষ্টা করছেন। যাঁরা রাতে ঘুমাতে পারেন না, কিন্তু সকালে ঠিকই অফিস বা ক্লাসের জন্য সময়মতো উঠতে অ্যালার্ম দিতে হয়,
১ দিন আগে
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমাদের চারপাশে রয়েছে অবিরাম তথ্যের স্রোত, দীর্ঘ স্ক্রিন-টাইম আর নানামুখী ব্যস্ততা। এখন মানুষের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বা অ্যাটেনশন স্প্যান আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মন শান্ত করতে এবং মনোযোগের ক্ষমতা বাড়াতে মানুষ নানান উপায় খুঁজছে।
১ দিন আগে