Ajker Patrika

গাছ কেন মরে যাচ্ছে, বুঝতে পারছেন না? রান্নাঘরে থাকা উপাদানেই নিন গাছের যত্ন

সাজনাত বিনতে হোসেন ছোঁয়া
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৫৩
গাছ কেন মরে যাচ্ছে, বুঝতে পারছেন না? রান্নাঘরে থাকা উপাদানেই নিন গাছের যত্ন
রান্নাঘরে থাকা উপাদানেই নিন গাছের যত্ন। ছবি: পেক্সেলস

ব্যস্ততার কারণে বারান্দায় রাখা গাছগুলোয় পানি দেওয়া ছাড়া আর কোনো যত্ন নিতে পারেন না। গাছের যত্নে সব সময় বাজার থেকেই সার কিনতে হবে বিষয়টি এমনও নয়। বরং প্রতিদিন রান্নাঘরে যে জিনিসগুলো আমরা অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দেই, সেগুলোর অনেক কিছুই হতে পারে আপনার গাছের যত্নে দারুণ উপকারী।

এক কাপ চা বানানোর পর চা-পাতা, সকালে ডিম খাওয়ার পর ডিমের খোসা কিংবা কলা খাওয়ার পর ফেলে দেওয়া কলার খোসা, এসবই কিন্তু গাছের জন্য কাজে লাগানো যায়। কারণ এসবে রয়েছে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম এবং ক্যালশিয়ামের মতো উপাদান, যা গাছের জন্য খুবই জরুরি। অর্থাৎ, যেটাকে আমরা বর্জ্য ভাবছি, সেটাই হতে পারে আপনার গাছের জন্য বাড়তি পুষ্টির উৎস। গাছের যত্ন নিতে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটি একই সঙ্গে সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধবও। তবে এসব উপকরণ সব গাছের জন্যই সমানভাবে উপকারী হবে তা নয়। তাই আগে থেকে জেনে নিয়ে ব্যবহার করাই ভালো। জেনে নিতে পারেন, রান্নাঘরের ফ্রিজে, তাকে ও ময়লার ঝুড়িতে থাকা কোন কোন উপাদানগুলো আপনার গাছের যত্নে কাজে লাগতে পারেন।

রান্নাঘরে থাকা উপাদানেই নিন গাছের যত্ন। ছবি: পেক্সেলস
রান্নাঘরে থাকা উপাদানেই নিন গাছের যত্ন। ছবি: পেক্সেলস

কফির গুঁড়ো

কফির গুঁড়ো সার হিসেবে কিন্তু খুব ভালো। সার তৈরির ঝামেলা এড়াতে চাইলে অল্প পরিমাণে মাটিতে মেশাতে পারেন। এতে নাইট্রোজেন থাকে, যা মাটির গুণমান উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে একসঙ্গে অনেকটা কফির গুঁড়ো মাটিতে দেওয়া ঠিক নয়। অল্প অল্প করে ব্যবহার করাই ভালো।

বেকিং সোডা

কেক, বিস্কুট কিংবা নানা ধরনের খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত বেকিং সোডা শুধু রান্নাঘরেই আটকে নেই। বাগানের কিছু কাজেও এটি ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে কিছু ছত্রাকজনিত সমস্যা মোকাবিলায় পাতায় হালকা বেকিং সোডার দ্রবণ স্প্রে করতে পারেন। এর জন্যে, এক লিটার পানিতে এক চা-চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তবে সব গাছের জন্য এটি উপযোগী নয়। তাই পুরো গাছে দেওয়ার আগে অল্প কয়েকটি পাতায় পরীক্ষা করে নিন।

রান্নাঘরে থাকা উপাদানেই নিন গাছের যত্ন। ছবি: পেক্সেলস
রান্নাঘরে থাকা উপাদানেই নিন গাছের যত্ন। ছবি: পেক্সেলস

চাল ধোয়া পানি

ভাত রান্নার আগে চাল ধুয়ে যে পানি আমরা ফেলে দিই, সেটিও গাছের যত্নে ব্যবহার করা যায়। এই পানিতে অল্প পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম থাকে। ঠান্ডা ভাত ধোয়া পানিও কিন্তু গাছের গোড়ায় দেওয়া যেতে পারে। তবে পানিতে যেন লবণ, তেল বা মসলা না থাকে। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।

কলার খোসা

কলা খাওয়ার পর খোসাটা সাধারণত সোজা চলে যায় ডাস্টবিনে। কিন্তু এই খোসাতেই রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও সামান্য ম্যাগনেশিয়াম। বিশেষ করে জবা, গোলাপ ও টমেটো গাছের জন্য কলার খোসা ব্যবহার করা যায়। খোসা ছোট ছোট করে কেটে মাটিতে পুঁতে দিতে পারেন। আবার পানিতে ৪৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে সেই পানি গাছের গোড়ায় দেওয়া যায়। কলার খোসা মাটিতে ধীরে ধীরে পচে গিয়ে মাটির গুণমানও ভালো করতে সাহায্য করে।

ব্যবহৃত চা-পাতা

সকালের চা তৈরির পর চা-পাতা ফেলে দেওয়ার আগে একটু থামুন। দুধ-চিনি ছাড়া ব্যবহৃত চা-পাতা মাটিতে জৈব উপাদান যোগ করতে পারে এবং এতে কিছুটা নাইট্রোজেনও থাকে। শুকনো চা-পাতা মাটির ওপর অল্প করে ছড়িয়ে দিতে পারেন। চাইলে কম্পোস্টের সঙ্গেও মিশিয়ে নিতে পারেন। গোলাপ, হাইড্রেনজিয়া ও ফার্নের মতো কিছু অ্যাসিডপ্রিয় গাছের ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগতে পারে। তবে বেশি চা-পাতা ব্যবহার না করাই ভালো।

রান্নাঘরে থাকা উপাদানেই নিন গাছের যত্ন। ছবি: পেক্সেলস
রান্নাঘরে থাকা উপাদানেই নিন গাছের যত্ন। ছবি: পেক্সেলস

ডিমের খোসা

ডিমের খোসা দেখতে যতটা সাধারণ, গাছের জন্য ততটাই ভালো কাজে লাগতে পারে। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, যা গাছের শিকড়ের সুস্থ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ। খোসাটি ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে গুঁড়ো করে মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারেন। চাইলে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানিও গাছের গোড়ায় দেওয়া যায়। টমেটো ও মরিচের মতো গাছের ক্ষেত্রেও ক্যালসিয়াম প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি উপাদান।

আপেলের খোসা

আপেল খাওয়ার পর এর খোসাগুলো ছোট ছোট করে কেটে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে এগুলো ধীরে ধীরে পচে যায়। পচনের সময় এগুলো মাটির উপকারী অণুজীবের জন্য খাবার হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে খোসাগুলো মাটির ওপরে ছড়িয়ে রাখা ঠিক নয়। এতে পোকামাকড় বা অন্যান্য ছোট প্রাণী আকৃষ্ট হতে পারে।

সবজির খোসা

আলুর খোসা, গাজরের অংশ, শসার খোসা কিংবা অন্যান্য সবজির উচ্ছিষ্ট সবই কম্পোস্ট তৈরির ভালো উপকরণ। এসব মাটিতে পচে গিয়ে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যোগ করে। ফলে গাছের পাতা ও ফল দুটির বৃদ্ধিতেই এটি সহায়তা করতে পারে। সময় কম থাকলে বিভিন্ন সবজির খোসা পানিতে ফুটিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। এই পানি ঠান্ডা করে ছেঁকে নিয়ে গাছের গোড়ায় দিন।

গাছের যত্ন মানেই যে দামি সার বা নানা ধরনের গার্ডেনিং পণ্য কিনতে হবে, এমনটি নয়। আমাদের প্রতিদিনের রান্নাঘরের অনেক সাধারণ জিনিসই সঠিকভাবে ব্যবহার করলে গাছের যত্নে কাজে লাগতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো মূল সারের বিকল্প নয়। অতিরিক্ত বা ভুলভাবে ব্যবহার করলে উল্টো মাটির ক্ষতি হতে পারে। তাই অল্প পরিমাণে, প্রয়োজন বুঝে ব্যবহার করাই আপনার গাছের জন্য উপকারী।

সূত্র: আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত