যদি তারে নাই চিনি গো সে কি আমায় নেবে চিনে
এই নব ফাল্গুনের দিনে—জানি নে, জানি নে।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
স্কুলের কোনো সহপাঠীর সঙ্গে যদি ১২ বছর পর দেখা হয়, চিনতে পারবেন তো? বাতাসে ওড়ানো যাঁর দুই বেণির গাঁথুনিতে প্রথম আটকে গিয়েছিল শিশুতোষ ভালোবাসা! স্কুলের রিইউনিয়ন অনুষ্ঠানে এভাবেই দেখা হলো শুভ্র ও বিভার। প্রথমে চোখ পড়তেই চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আবার চোখে চোখ রাখা…। তারপর…? চোখে চোখ রেখে ভরপুর স্মৃতিচারণায় কেটে গেল পুরো দিন। দুজনের আলাপে ঠিক হলো, ফাল্গুনের প্রথম দিনে আবার দেখা হবে তাঁদের।
পয়লা ফাল্গুনের ঝলমলে সোনালি রোদ ছড়ানো সকালে সাজপোশাকেও থাকা চাই নব রূপ। একটু সময় নিয়ে সাজুন। কারণ, বাংলা মাসের হিসাবে সেদিন বসন্তের প্রথম দিন আর গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডারে ১৪ ফেব্রুয়ারি, মানে ভালোবাসা দিবস। তাই পোশাকে থাকা চাই বসন্তের রূপ আর ভালোবাসার ছোঁয়া। কীভাবে সাজবেন? চিরাচরিত শাড়িই বেছে নেবেন? নাকি ক্যাজুয়াল লুকেই হাজির হবেন শুভ্রর মতো অন্য কারও সামনে?
দেহঘেরী বাসন্তী বেশ
বসন্তে সাধারণত বাসন্তী রঙের পোশাক সবাই বেছে নেন। তবে এখন হলুদ, কমলা, লেবুরঙা, লাল, গোলাপিসহ প্রায় সব রংই সমাদৃত। পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস যেহেতু একই দিনে; তাই হলুদ, লেবুরং, গোলাপি, ম্যাজেন্টা ও লাল রঙের মিলমিশ থাকতেই পারে পোশাকে। শাড়ির ক্ষেত্রে খুব বেশি ভারী ও জমকালো শাড়ি এড়িয়ে হাফসিল্ক, টাঙ্গাইল বা হ্যান্ডলুম সুতি শাড়ি বেছে নেওয়াই ভালো। ব্লাউজের কাটিংয়ে থাকতে পারে নতুনত্ব। শাড়ি ছাড়াও ভিন্ন লুক পেতে পরা যেতে পারে মাল্টিকালার আঙরাখা, টপস বা শার্ট। তবে কোন পোশাকটি সেরা হবে, তা নির্ভর করবে আরাম ও ক্যারি করার ওপর।
কাজলে কাজলে
পোশাকের ধরনের সঙ্গে সাজের ধরন যেমন পাল্টে যায়, তেমনি পাল্টে যায় কাজলের রেখাও। তবে পুরু টানা কাজল যেন সেই পুরোনো দিন থেকে আজ পর্যন্ত সব পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে গেছে। বর্তমানে যে ধরনেরই পোশাক পরা হোক না কেন, চোখের সাজ ফুটিয়ে তোলার অন্যতম উপকরণ আইব্রো। ভ্রু কালো ও দীর্ঘ করতে চোখের শেষ রেখা পর্যন্ত আইব্রো পেনসিল দিয়ে টেনে দেওয়া হয় ভ্রু। অনেকে চোখের শুরুর কোনা থেকে একটু চোখা করে রেখা বাড়িয়ে চোখের শেষে লম্বা করে টেনে নেন আইলাইনার। বড় ও মায়াবী দেখাতে চোখের নিচে এঁকে দেওয়া হয় সাদা, সোনালি ও হালকা বাদামি আই পেনসিলের রেখা।
একটি বিন্দু এঁকো
ভ্রু যুগলের মধ্যিখান থেকে টিপ কবেই উঠেছে আরেকটু ওপরে। রবীন্দ্রনাথের নায়িকাদের কপালের মধ্যিখান বরাবরই শোভা পেয়েছে ছোট-বড় টিপ। আশপাশে চোখ রাখলে দেখা যায়, এখন অনেক নারীই অনুসরণ করছেন এই লুক। আর বসন্তে শাড়ির সঙ্গে কপালের মধ্য়িখানে আঁকা টিপ ছড়াবে অন্য আবেদন।
ফুলে ফুলে
দিন দিন ফুলের গয়না তৈরি ও ফুল দিয়ে চুল সাজানোর ধরনে এসেছে পরিবর্তন। খুব আঁটসাঁট করে চুল বাঁধার চেয়ে খোলা চুল দুলিয়ে যাঁরা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন, তাঁরা ফাল্গুনের সাজে মাথায় পরে নিতে পারেন ফুলের মুকুট। চুল পরিপাটি করে আঁচড়ে মাথায় ফুলের মুকুট পরুন। এখন সব ফুলের দোকানেই পাওয়া যায় সেগুলো। জারবেরা, গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিভিন্ন ফুল দিয়ে মুকুট বানানো হয়। চাইলে ফুলের দোকানে গিয়ে শাড়ি বা পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পছন্দের ফুল দিয়ে বানিয়েও নেওয়া যায়। মুকুট পরার সুবিধা হচ্ছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা পশ্চিমি—যে ধরনের পোশাকই পরুন না কেন, সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে যাবে নিশ্চিত।
যাঁরা চুল কেটে ছোট রাখতে ভালোবাসেন, তাঁরা খোঁপা বাঁধার আক্ষেপ ছাড়াই চুলে ফুল জড়াতে পারবেন এই বসন্তে। এ ছাড়া পয়লা ফাল্গুনের সকালে যদি কোনো অনুষ্ঠানে যেতে হয়, তাহলে চুলে বেণিও করে নিতে পারেন। ড্রেপিং স্টাইলে শাড়ির সঙ্গে দারুণ লাগবে বাহারি বেণি। মাঝখানে সিঁথি কেটে দুই পাশের চুল একটু পাফ করে ক্লিপ দিয়ে আটকে নিন। এবার বেণি গেঁথে নিন। এর মাঝে মাঝে একটি করে ফুল গুঁজে নিতে পারেন। এ ছাড়া বেণির গোড়ায় জড়িয়ে নিতে পারেন গাজরা বা গাঁদা ফুলের মালা।
প্রিয়তম থাকুক পরিপাটি
পরিপাটি কি কেবল নারীই থাকবেন? সচেতন পুরুষটিও চান প্রিয় মানুষটির সামনে সুন্দর রূপে উপস্থিত হতে। বসন্তের প্রথম দিনে উজ্জ্বল রঙের পাঞ্জাবি পরা যেতে পারে, সঙ্গে জিনস বা ক্লাসিক্যাল পায়জামা। এতে আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্য়—দুটোই থাকবে। ব্লকপ্রিন্ট, টাইডাই, এমব্রয়ডারি করা বিভিন্ন পাঞ্জাবি পরা যেতে পারে। লিনেন বা সুতির হাফহাতা কিংবা ফুলহাতা ব্লকপ্রিন্টের ফতুয়াও পরা যেতে পারে। সঙ্গে থাকা চাই মানানসই ডেনিম বা গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ও জুতা।

সকালের বেঁচে যাওয়া বাসি রুটি অনেক সময় আমরা খাওয়ার অনুপযোগী ভেবে ফেলে দিই কিংবা গৃহপালিত পশুকে খাইয়ে দিই। কিন্তু জেনে নিন, এই বাসি রুটিই হতে পারে আপনার ঝকঝকে ও প্রাণবন্ত ত্বকের রহস্য? রাসায়নিকযুক্ত দামি কসমেটিকসের পেছনে হাজার টাকা খরচ না করে বাসি রুটি দিয়ে ঘরে বসেই সুন্দরভাবে ত্বকের যত্ন নিতে...
৪ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় বাজার থেকে দুটি ৮০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ (প্রতিটি ১,২০০ টাকা দরে) কিনেছিলেন নারায়ণ চন্দ্র। চলতি মৌসুমে এটাই ছিল তাঁর প্রথম ইলিশ কেনা। রাতে পাতে প্রিয় মাছটির স্বাদের কথা মনে মনে কল্পনাও করছিলেন তিনি...
৭ ঘণ্টা আগে
সকালে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ কফি ছাড়া অনেকেরই দিন শুরু হয় না। ওয়েলনেস ও স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনায় কফি নিয়ে নানা মতামত রয়েছে—কারও মতে এটি মেটাবলিজম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের দারুণ উৎস, আবার কারও মতে এটি পাকস্থলী জ্বালাপোড়া ও মানসিক চাপ বা কর্টিসল হরমোন বাড়ানোর কারণ।
১১ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণের আনন্দ শুধু ঐতিহাসিক স্থাপত্য কিংবা প্রকৃতির শোভা দর্শনেই সীমাবদ্ধ নয়। এর এক বড় অংশজুড়ে থাকে স্বাদের অভিজ্ঞতা। আর যদি বিষয় হয় ‘পিৎজা’, তবে তো কথাই নেই। রোম থেকে শুরু করে কাসের্তার মতো ঐতিহ্যবাহী শহরে এখনো গড়ে উঠছেন বিশ্বের তাবড় তাবড় পিৎজা কারিগর।
১৩ ঘণ্টা আগে