Ajker Patrika

রমজান মাসজুড়ে ঘর রাখুন সুগন্ধময়

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৩: ২৫
রমজান মাসজুড়ে ঘর রাখুন সুগন্ধময়
সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারের সুবাস যেমন মন ভালো করে দেয়, তেমনি ঘরের পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধময় পরিবেশ মনে প্রশান্তি আনে। প্রতীকী ছবি এআই দিয়ে তৈরি।

রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি ঘরের পরিবেশ নির্মল ও সুগন্ধময় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রমজানের পবিত্র দিনগুলোতে আমরা বেশির ভাগ সময় ঘরে কাটাই; বিশেষ করে ইফতারের রান্নাবান্নার পর ঘরে নানা রকম গন্ধ তৈরি হয়, যা অনেক সময় অস্বস্তির। সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারের সুবাস যেমন মন ভালো করে দেয়, তেমনি ঘরের পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধময় পরিবেশ মনে প্রশান্তি আনে। পরিচ্ছন্নতা মানে কোনো কেমিক্যাল বা কড়া পারফিউম নয়। এর অর্থ কোনো উটকো গন্ধ ছাড়াই বাতাস সতেজ রাখা।

এই রমজানে আপনার ঘর প্রশান্তিময় করতে কিছু কাজ করে ফেলুন নিয়ম মেনে। এমন নয় যে এ জন্য আপনাকে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হবে। আপনাকে শুধু নিয়মিত কাজগুলো করে যেতে হবে। তাতেই আপনার ঘর হয়ে উঠবে মনোরম।

নির্মূল করুন দুর্গন্ধের উৎস

ঘর সুগন্ধময় করার প্রথম শর্ত হলো দুর্গন্ধের উৎস খুঁজে বের করা। আপনার বাসা বা বাড়ির কোন ঘরের কোথায় গন্ধের উৎস আছে বা থাকতে পারে, তা খুঁজুন এবং সেগুলো দূর করুন।

রান্নাঘর ও ডাস্টবিন: সেহরি ও ইফতারের পর রান্নাঘরের ময়লা দ্রুত সরিয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে সেহরি বা ইফতারের পর খাবারের উচ্ছিষ্ট রাখার ডাস্টবিন একেবারে বাসার বাইরে রেখে আসুন, যেন পরদিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সেগুলো নিয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ময়লার ঝুড়ির নিচে কিছুটা ‘ক্যাট লিটার’ বা বেকিং সোডা ছিটিয়ে রাখতে পারেন, যা বাজে গন্ধ শুষে নেবে।

ফ্রিজ পরিষ্কার: রমজানে ফ্রিজে অনেক খাবার রাখা হয়। মাসে অন্তত একবার ফ্রিজ পরিষ্কার করুন। ফ্রিজের ভেতরের গুমোট গন্ধ দূর করতে এক টুকরো তুলা ভ্যানিলা এসেন্সে ভিজিয়ে ভেতরে রেখে দিতে পারেন।

প্রাকৃতিক সিমার পট বা সুগন্ধি হাঁড়ি

কৃত্রিম এয়ার ফ্রেশনারের বদলে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরে সুরভ ছড়াতে সিমার পট দারুণ কাজ করে। একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে দারুচিনি, লবঙ্গ, লেবুর খোসা এবং সামান্য ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে অল্প আঁচে চুলায় জ্বাল দিন। এর মিষ্টি সুবাস পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়বে। এ সুবাস ইফতারের আগের সময়টাতে মনে এক স্নিগ্ধ আমেজ তৈরি করবে।

রমজানের সন্ধ্যায় বা তারাবির পর ঘরে মোমবাতি জ্বালাতে পারেন। ছবি: পেক্সেলস
রমজানের সন্ধ্যায় বা তারাবির পর ঘরে মোমবাতি জ্বালাতে পারেন। ছবি: পেক্সেলস

সঠিক মোমবাতি ও রিড ডিফিউজারের ব্যবহার

রমজানের সন্ধ্যায় বা তারাবির পর ঘরে মোমবাতি জ্বালাতে পারেন। তবে সাধারণ প্যারাফিন মোমবাতির চেয়ে মৌচাকের মোম বা সয়াবিন থেকে তৈরি মোমবাতি ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। মোমবাতি ব্যবহারের সময় লক্ষ রাখবেন যেন ঘরটি বাতাস চলাচলের উপযোগী থাকে। এ ছাড়া সুগন্ধি তেলের রিড ডিফিউজার ব্যবহার করতে পারেন, যা ধোঁয়া ছাড়াই ঘর হালকা সুবাসিত রাখবে।

ঘর সুগন্ধি করার ঘরোয়া স্প্রে

বাজারের ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত স্প্রে বাদ দিয়ে নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন ফ্যাব্রিক রিফ্রেশার। আধা কাপ সাদা ভিনেগার, আধা কাপ পানি এবং পছন্দের এসেনশিয়াল অয়েল (যেমন: ল্যাভেন্ডার বা লেমনগ্রাস) মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে পর্দা ও সোফায় ছিটিয়ে দিন। এটি ঘর দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখবে।

গাছ ও তাজা ফুলের ছোঁয়া

রমজানের ইবাদতের ঘরে বা ড্রয়িংরুমে কিছু সুগন্ধি গাছ; যেমন বেলি, জুঁই বা পুদিনাপাতা রাখতে পারেন। এ ছাড়া ইফতারির টেবিলে একগুচ্ছ তাজা গোলাপ বা রজনীগন্ধা রাখলে তা শুধু ঘরকে সুন্দরই করবে না, বরং এক চমৎকার প্রাকৃতিক সুঘ্রাণ ছড়াবে।

বাতাসের আর্দ্রতা ও সতেজতা নিয়ন্ত্রণ

ঘরে ভ্যাপসা গন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ আর্দ্রতা। ইফতারের পর বা ভোরে সম্ভব হলে ঘরের জানালা খুলে দিন, যাতে বাইরের বিশুদ্ধ বাতাস ভেতরে আসতে পারে। যদি বাইরের বাতাস অস্বাস্থ্যকর হয়, তাহলে একটি এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন, যা বাতাসের ধূলিকণা ও জীবাণু দূর করবে।

আসবাব ও কাপড়ের যত্ন

কার্পেট বা কুশনে অনেক সময় দুর্গন্ধ আটকে থাকে। সেখানে বেকিং সোডা ছিটিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ভ্যাকিউম করে ফেলুন। এ ছাড়া আলমারির কোনায় সুগন্ধিযুক্ত ছোট্ট পোঁটলা রাখতে পারেন, যা কাপড়ে ভ্যাপসা গন্ধ হতে দেবে না।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, স্টার্স ইনসাইডার

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত