রজত কান্তি রায়, ঢাকা

পুরান ঢাকার দেবেন্দ্র দাস লেনে নিজ বাড়িতে থাকতেন বরেণ্য অভিনেতা আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। এ নামে তাঁকে চেনার কথা নয় বেশির ভাগ মানুষের। কিন্তু যদি বলি, মানুষটির নাম এ টি এম শামসুজ্জামান, তাহলে সবাই চিনে ফেলবেন এক নিমেষেই। একবার তাঁর বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল কাজের উপলক্ষে। এ কথা-সে কথার ফাঁকে খাবারদাবার নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি রসিক মানুষ। খাবারের বেলায়ও সমঝদার ছিলেন, বলাবাহুল্য। খাবারের অনেক গল্প বলে তিনি জানালেন, ‘আচার ছাড়া আমার কিন্তু চলে না বাপু।’ শুনলাম, অভিনয়ের জন্য আউটডোরে থাকলেও তাঁর খাবারে আচার থাকত উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যতিক্রম না হলে।
এই একই কথা বলতেন ক্লিওপেট্রা। না, ঠিক এ টি এম শামসুজ্জামানের মতোই হয়তো নয়, একটু ভিন্নভাবে হলেও কথাটা একই। তিনি নিয়মিত আচার খেতেন বলে জানা যায়। ক্লিওপেট্রা শুধু আচার খেতেনই না। তিনি বিশ্বাস করতেন, আচার খেলে সৌন্দর্য ঠিক থাকে। আর কে না জানেন, তাঁর সৌন্দর্য ভুবনবিখ্যাত। আচারই তাঁর সৌন্দর্যের গোপন রহস্য কি না আমরা জানি না। কিন্তু এত দিনে আমরা জেনে গেছি, আচার হলো পৃথিবীর প্রাচীন খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। মূলত ফলমূল, সবজিসহ বিভিন্ন খাবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য আচার নামের এই মজাদার খাবারটির উদ্ভব ঘটে। ধারণা করা হয়, আচার ভারতীয় উপমহাদেশের খাবার। আচার করে সংরক্ষণ করা যায় না তেমন সবজি ও ফল সম্ভবত খুব কম আছে। শসা দিয়ে বানানো আচারই পৃথিবীর প্রাচীনতম আচার বলে অনুমান করা হয় বিভিন্ন গবেষণায়।
সামনেই আসছে আমের মৌসুম। তখন পড়বে আচার বানানোর ধুম। সম্ভবত এ দেশে ফলের মধ্যে আম দিয়েই সবচেয়ে বেশি ও বৈচিত্র্যপূর্ণ আচার বানানো হয়। যেহেতু এখনো আমের মৌসুম আসেনি, তাই আপাতত সেটা থাক। এই মৌসুমে বানাতে পারেন তেঁতুল, বরই বা চালতার আচার। সবজির মধ্যে শসা, গাজর, বেগুন, টমেটো, বরবটি, আলু ইত্যাদির আচার। আর সারা বছর বানানো যায় মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা হলুদের আচার। তবে জানিয়ে রাখি, বরই দিয়ে আচার বানালে দেশি বরই কিনবেন। রসাল আপেল কুল বা বড় বড় বরই দিয়ে আচার ঠিক ভালো হবে না। ফল ও সবজি ছাড়া আচার তৈরির অন্য উপকরণগুলোর মধ্যে আছে মসলা হিসেবে পাঁচফোড়ন, সরিষার তেল, লবণ, চিনি। তবে সিরকাও দেওয়া যেতে পারে সংরক্ষণের জন্য।
বলা হয়ে থাকে, আচার ছাড়া ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার করা কঠিন ছিল। ১৪৯২ সালের আমেরিকা অভিযানে কলম্বাস তাঁর নাবিকদের রেশন হিসেবে দিয়েছিলেন আচার। সে আচার তাঁদের ভিটামিন সি-র অভাব মিটিয়ে স্কার্ভি রোগের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল বলে উল্লেখ করে থাকেন অনেক লেখক। কিন্তু কী দিয়ে সে আচার বানানো হয়েছিল, তা জানা যায় না।
বাড়ির দাওয়ায় কাচের বয়ামে আচার শুকানোর দৃশ্য আমাদের স্মৃতিকাতর করে তোলে। যাঁরা আচার বানাতে পারেন, তাঁরা সত্যই এক ধাপ ওপরের মানুষ। তাঁদের তুলনা হয় না। অনেকেই খাবার বানাতে পারলেও আচার সবাই বানাতে পারেন না। কিংবা সবার বানানো আচার সুস্বাদুও হয় না। এই বসন্তে পাওয়া সবজি বা বিভিন্ন ফল দিয়ে বানিয়ে ফেলুন মন মাতানো আচার।
আচার ভালো রাখতে
ছবি ও রেসিপি: ম্যাগডিলিনা মৃ

পুরান ঢাকার দেবেন্দ্র দাস লেনে নিজ বাড়িতে থাকতেন বরেণ্য অভিনেতা আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। এ নামে তাঁকে চেনার কথা নয় বেশির ভাগ মানুষের। কিন্তু যদি বলি, মানুষটির নাম এ টি এম শামসুজ্জামান, তাহলে সবাই চিনে ফেলবেন এক নিমেষেই। একবার তাঁর বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল কাজের উপলক্ষে। এ কথা-সে কথার ফাঁকে খাবারদাবার নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি রসিক মানুষ। খাবারের বেলায়ও সমঝদার ছিলেন, বলাবাহুল্য। খাবারের অনেক গল্প বলে তিনি জানালেন, ‘আচার ছাড়া আমার কিন্তু চলে না বাপু।’ শুনলাম, অভিনয়ের জন্য আউটডোরে থাকলেও তাঁর খাবারে আচার থাকত উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যতিক্রম না হলে।
এই একই কথা বলতেন ক্লিওপেট্রা। না, ঠিক এ টি এম শামসুজ্জামানের মতোই হয়তো নয়, একটু ভিন্নভাবে হলেও কথাটা একই। তিনি নিয়মিত আচার খেতেন বলে জানা যায়। ক্লিওপেট্রা শুধু আচার খেতেনই না। তিনি বিশ্বাস করতেন, আচার খেলে সৌন্দর্য ঠিক থাকে। আর কে না জানেন, তাঁর সৌন্দর্য ভুবনবিখ্যাত। আচারই তাঁর সৌন্দর্যের গোপন রহস্য কি না আমরা জানি না। কিন্তু এত দিনে আমরা জেনে গেছি, আচার হলো পৃথিবীর প্রাচীন খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। মূলত ফলমূল, সবজিসহ বিভিন্ন খাবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য আচার নামের এই মজাদার খাবারটির উদ্ভব ঘটে। ধারণা করা হয়, আচার ভারতীয় উপমহাদেশের খাবার। আচার করে সংরক্ষণ করা যায় না তেমন সবজি ও ফল সম্ভবত খুব কম আছে। শসা দিয়ে বানানো আচারই পৃথিবীর প্রাচীনতম আচার বলে অনুমান করা হয় বিভিন্ন গবেষণায়।
সামনেই আসছে আমের মৌসুম। তখন পড়বে আচার বানানোর ধুম। সম্ভবত এ দেশে ফলের মধ্যে আম দিয়েই সবচেয়ে বেশি ও বৈচিত্র্যপূর্ণ আচার বানানো হয়। যেহেতু এখনো আমের মৌসুম আসেনি, তাই আপাতত সেটা থাক। এই মৌসুমে বানাতে পারেন তেঁতুল, বরই বা চালতার আচার। সবজির মধ্যে শসা, গাজর, বেগুন, টমেটো, বরবটি, আলু ইত্যাদির আচার। আর সারা বছর বানানো যায় মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা হলুদের আচার। তবে জানিয়ে রাখি, বরই দিয়ে আচার বানালে দেশি বরই কিনবেন। রসাল আপেল কুল বা বড় বড় বরই দিয়ে আচার ঠিক ভালো হবে না। ফল ও সবজি ছাড়া আচার তৈরির অন্য উপকরণগুলোর মধ্যে আছে মসলা হিসেবে পাঁচফোড়ন, সরিষার তেল, লবণ, চিনি। তবে সিরকাও দেওয়া যেতে পারে সংরক্ষণের জন্য।
বলা হয়ে থাকে, আচার ছাড়া ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার করা কঠিন ছিল। ১৪৯২ সালের আমেরিকা অভিযানে কলম্বাস তাঁর নাবিকদের রেশন হিসেবে দিয়েছিলেন আচার। সে আচার তাঁদের ভিটামিন সি-র অভাব মিটিয়ে স্কার্ভি রোগের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল বলে উল্লেখ করে থাকেন অনেক লেখক। কিন্তু কী দিয়ে সে আচার বানানো হয়েছিল, তা জানা যায় না।
বাড়ির দাওয়ায় কাচের বয়ামে আচার শুকানোর দৃশ্য আমাদের স্মৃতিকাতর করে তোলে। যাঁরা আচার বানাতে পারেন, তাঁরা সত্যই এক ধাপ ওপরের মানুষ। তাঁদের তুলনা হয় না। অনেকেই খাবার বানাতে পারলেও আচার সবাই বানাতে পারেন না। কিংবা সবার বানানো আচার সুস্বাদুও হয় না। এই বসন্তে পাওয়া সবজি বা বিভিন্ন ফল দিয়ে বানিয়ে ফেলুন মন মাতানো আচার।
আচার ভালো রাখতে
ছবি ও রেসিপি: ম্যাগডিলিনা মৃ

নারী ও পুরুষের প্রেমের প্রাথমিক পর্যায়গুলো আনন্দদায়ক হলেও, একটি সুস্থ দাম্পত্যজীবন বজায় রাখার জন্য ক্রমাগত পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার প্রয়োজন হয়। ব্যস্ত সময়সূচি ও নানাবিধ দায়িত্বের মধ্যে দম্পতিরা নিজস্ব সময় কাটানো যেমন চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন, তেমনি এই সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি রূপ দেওয়াকেও জটিল বলে...
৬ ঘণ্টা আগে
হাতের আঙুলের ডগায় নিখুঁত রঙের ছোঁয়া কিংবা নখের সূক্ষ্ম কারুকাজ কেবল সাজগোজ নয়। বরং তা একজন নারীর আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিত্বের এক শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ। নখের এই ক্ষুদ্র ক্যানভাসে যাঁরা জাদুর ছোঁয়া দেন, তাঁদেরই একজন বেকি হলিস। মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রমাণ করেছেন, সদিচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে সাধারণ...
৮ ঘণ্টা আগে
বয়স বেড়ে যাওয়া প্রকৃতির এক অপরিবর্তনীয় নিয়ম। কিন্তু সেই বার্ধক্য যেন অকালে আমাদের লাবণ্য কেড়ে নিতে না পারে, তার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। বিভিন্ন গবেষণা জানাচ্ছে, সঠিক পুষ্টি শুধু আমাদের ফিটনেস বা শারীরিক সক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং ত্বক সতেজ রেখে দীর্ঘকাল তারুণ্য...
১৪ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার শরীরে এনার্জি থাকবে অলিম্পিক অ্যাথলেটের মতো। অফিসে আপনার কঠোর পরিশ্রম দেখে বস এতটাই খুশি হবেন যে আপনাকে ‘পুরস্কার’ হিসেবে আরও তিনটি প্রজেক্টের দায়িত্ব গছিয়ে দিতে পারেন। মনে রাখবেন, গাধার খাটুনি আর ঘোড়ার চালের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখাটাই আসল চ্যালেঞ্জ।
১৪ ঘণ্টা আগে