ভ্রমণের জন্য বসন্তকাল সুন্দর সময়। শীতের কনকনে ঠান্ডা পেরিয়ে প্রকৃতি তখন নতুন প্রাণ ফিরে পায়, আবার গ্রীষ্মের তীব্রতাও শুরু হয় না। এ সময় আকাশ পরিষ্কার থাকে, ফুল ফোটে, বনজঙ্গলে প্রাণীর আনাগোনা বাড়ে। বসন্তে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একসঙ্গে পাওয়া যায় প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও উৎসবের স্বাদ।
আসাম, ভারত
বন্য প্রাণী দেখার জন্য এই বসন্তে আসাম ঘুরে আসতে পারেন। একসময় কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে মাত্র ১২টি একশৃঙ্গ গন্ডার টিকে ছিল। দীর্ঘদিনের সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ফলে এখন উত্তর ভারত ও নেপালে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ একশৃঙ্গ গন্ডার রয়েছে, যার বড় অংশই দেখা যায় আসামের কাজিরাঙায়। মার্চ মাসে শুষ্ক মৌসুমের শেষ দিকে লম্বা ঘাস কমে আসে, ফলে গন্ডারসহ নানান প্রাণী খোলা জায়গায় বেশি বিচরণ করে। এই সময় অভিজ্ঞ গাইডের সঙ্গে গেলে বাঘ, চিতা বাঘ, বন্য মহিষ, হাতি, শ্লথ, ভালুক এবং নানা প্রজাতির পাখি দেখা যায়। কাছের মানস জাতীয় উদ্যান ঘুরলেও বন্য প্রাণী দেখার সম্ভাবনা বাড়ে।
টিপস: গুয়াহাটি বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টায় কাজিরাঙা পৌঁছানো যায়।
আপার ডলপো, নেপাল
নির্জনতায় হারিয়ে যাওয়ার জন্য নেপাল অনেকের প্রিয় গন্তব্য। উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আপার ডলপো দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর অন্যতম। মার্চ থেকে মে মাস সেখানে যাওয়ার সেরা সময়। সে সময় পাহাড়ে থাকে ফুলের সমারোহ আর আবহাওয়া থাকে আরামদায়ক। তা ছাড়া উঁচু পাহাড়ি পথের বরফ গলে যাওয়ায় ট্রেকিং তুলনামূলক সহজ হয়। তিব্বতি সংস্কৃতি, পাহাড়ি গ্রাম ও নির্জন প্রকৃতি এই অঞ্চলের প্রধান আকর্ষণ।
টিপস: আপার ডলপো একটি সংরক্ষিত এলাকা। তাই সেখানে যেতে অবশ্যই নেপাল সরকার অনুমোদিত গাইড এবং বিশেষ পারমিট নিতে হবে।
ভুটান
ফুল, ট্রেকিং এবং উৎসবের জন্য সেরা এই দেশ। বসন্তে ভুটান সবচেয়ে প্রাণবন্ত রূপে ধরা দেয়। পরিষ্কার আকাশে হিমালয়ের বিভিন্ন তুষার ঢাকা চূড়া স্পষ্ট দেখা যায় দেশটি থেকে। পাহাড়ি ঢালে রডোডেনড্রন ফুল ফোটে। এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হয় পারো ছেচু উৎসব, যেখানে মুখোশ নৃত্য ও ধর্মীয় আচার পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
টিপস: ভুটানে ভ্রমণের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে বুকিং করতে হয়। ১০ থেকে ১২ দিন সময় নিয়ে ভুটান ঘুরে আসুন।

কারাকোরাম হাইওয়ে ও হিন্দুকুশ, পাকিস্তান
রোমাঞ্চকর পাহাড়ি অঞ্চল ভ্রমণের জন্য অন্যতম গন্তব্য পাকিস্তানের কারাকোরাম হাইওয়ে ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা। কারাকোরাম হাইওয়ে ধরে হুনজা উপত্যকা, গিলগিট ও চিত্রাল অঞ্চলের দৃশ্য অসাধারণ। মার্চ থেকে মে মাসে এই অঞ্চলে ফলের প্রাচুর্য থাকে এবং পাহাড়ের চূড়া পরিষ্কার দেখা যায়।
টিপস: পাকিস্তান ও চীন সীমান্ত থাকায় পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় ভিসা এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদনপত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা হওয়ায় ভূমিধস হতে পারে যেকোনো সময়। তাই ভ্রমণের জন্য বেশি সময় হাতে রেখে পরিকল্পনা করুন।
ইস্টার্ন ভিসায়াস, ফিলিপাইনস
ফিলিপাইনে সাত হাজারের বেশি দ্বীপ থাকায় প্রথমবার ভ্রমণকারীদের জন্য জায়গা বেছে নেওয়া কঠিন। বসন্তকালে কেন্দ্রীয় ভিসায়াস অঞ্চল এই সমস্যার সহজ সমাধান। মার্চ মাসে সেখানে আবহাওয়া থাকে উষ্ণ ও শুষ্ক, আবার পর্যটকের ভিড়ও তুলনামূলক কম থাকে। মালাপাসকুয়া, পাংলাও, বিলিরান কিংবা সুমিলনের সাদা বালুর সৈকতে রোদ পোহানো যায়। বোহোল দ্বীপে রয়েছে অদ্ভুত আকৃতির চকলেট হিলস। সে দ্বীপে ক্ষুদ্র বানর টার্সিয়ার দেখা যায়। পানির নিচে তিমি ও হাঙরের সঙ্গে সাঁতার, সার্ডিন মাছের বিশাল ঝাঁক এবং সামুদ্রিক কচ্ছপ দেখার অভিজ্ঞতাও মেলে।
টিপস: সেবু সিটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সহজে পৌঁছানো যায়। দ্বীপগুলো ঘুরতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় নেওয়া ভালো।
দক্ষিণ কোরিয়া
ইতিহাস ও চেরি ফুলের জন্য সেরা দক্ষিণ কোরিয়া। জাপানে বেশি ফুটলেও চেরি শুধু জাপানের ফুল নয়। বসন্তে দক্ষিণ কোরিয়াও চেরি ফুলে সেজে ওঠে। এপ্রিলে দেশটির রাজধানী সিউলের লেক, পার্ক ও প্রাসাদ এলাকা গোলাপি ফুলে ভরে যায়। দক্ষিণের জিনহে শহরে চেরি ফুলের উৎসব জনপ্রিয়। এ সময় গিয়ংজু শহরও ঘুরে দেখার মতো। একসময় সিলা রাজবংশের রাজধানী ছিল এই শহর, যেখানে এখনো ছড়িয়ে আছে প্রাচীন মন্দির, সমাধি ও প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ।
টিপস: সিউল থেকে বুলেট ট্রেনে বুসান ও গিয়ংজু যাওয়া যায়। সময় থাকলে জেজু দ্বীপ যোগ করা যায়।
উবুদ, ইন্দোনেশিয়া
আরাম ও খাবারের জন্য সেরা গন্তব্য। মে মাসে বালিতে আবহাওয়া শুষ্ক ও উষ্ণ থাকে, পর্যটকের চাপও তুলনামূলক কম থাকে সে সময়। উবুদ শহর শিল্প, সংস্কৃতি ও খাবারের জন্য পরিচিত। চারপাশে ধানখেত, জঙ্গল ও পাহাড়ঘেরা এই শহরে যোগব্যায়াম, রান্নার কোর্স এবং ওয়েলনেস রিট্রিট বেশ জনপ্রিয়।
টিপস: উবুদের ট্রাফিক এড়াতে গাড়ি ভাড়ার চেয়ে স্কুটার ভাড়া করুন। অনেক হোটেল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত শাটল সার্ভিস দেয়, সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। মশা তাড়ানোর ক্রিম বা তরল সঙ্গে রাখুন। ছোট দোকান ও মার্কেটের জন্য সঙ্গে সব সময় স্থানীয় মুদ্রা রাখুন।

কিউশু, জাপান
চেরি ফুল দেখার জন্য সেরা গন্তব্য। বসন্ত এলেই জাপান যেন নতুন রঙে সেজে ওঠে। চেরি ফুল বা সাকুরা জাপানি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। হাজার হাজার চেরি গাছ একসঙ্গে ফুলে ঢেকে গেলে সেই দৃশ্য হয়ে ওঠে চোখধাঁধানো। জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দ্বীপ কিউশুতে হোনশুর তুলনায় আগে চেরি ফুল ফোটে। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে ফুকুওকার পার্ক, কুমামোতো দুর্গের চারপাশ এবং কাগোশিমার ইয়োশিনো পার্ক গোলাপি ফুলে ছেয়ে যায়। দূরে দেখা যায় সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট সাকুরাজিমা, যা পুরো দৃশ্যকে আরও নাটকীয় করে তোলে।
টিপস: ফুকুওকা কিউশুর প্রধান পরিবহন কেন্দ্র। এখান থেকে শিনকানসেন ট্রেনে সহজে বিভিন্ন শহরে যাওয়া যায়। কিউশু ঘুরতে অন্তত পাঁচ দিন সময় নিন।
সূত্র: লোনলি প্ল্যানেট

হিডেন হাঙ্গার বা লুকানো ক্ষুধা এমন একটি অবস্থা, যেখানে একজন মানুষ পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণ করেও শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল পায় না। দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশের কঙ্কালসার শিশুদের দেখলেই আমরা অপুষ্টি বুঝি। কিন্তু এই হিডেন হাঙ্গার সেভাবে বোঝা যায় না। অর্থাৎ এই অপুষ্টি বাইরে থেকে চট করে ধরা যায় না। শিশু...
১ ঘণ্টা আগে
চিঠি লেখা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি মেজাজ ভালো রাখে এবং উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। ট্রমা বা পোস্টট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চিঠি লেখা থেরাপি হিসেবে কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা নিজেদের শারীরিক আঘাত বা কষ্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে...
৩ ঘণ্টা আগে
খুশকির আক্রমণ থেকে বাঁচতে নিমপাতা ব্যবহার শুরু করতে পারেন। এটি প্রাকৃতিকভাবে খুশকি দূর করে। নিমের অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা খুশকি ও মাথার ত্বকের চুলকানি কমাতে সহায়তা করে। শুধু তা-ই নয়, সোরিয়াসিস এবং ডার্মাটাইটিস নামক আরও দুটি ত্বকের রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে নিমপাতা। আপনি যদি কয়েক...
৫ ঘণ্টা আগে
ম্রুণাল ঠাকুরের ক্যারিয়ার টেলিভিশন সিরিজ দিয়ে শুরু হলেও পরে সিনেমা জগতে তিনি পাকা আসন গড়ে নেন। দারুণ ফিটনেস তো বটেই; মোলায়েম ত্বকের যত্নে এই লাস্যময়ী কী কী করেন, সেসব জানতে ভক্তকুলের আগ্রহের শেষ নেই। তার ওপর সামনেই বিয়ে। ফলে ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম এখন ম্রুণালময়...
৭ ঘণ্টা আগে