
জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত কয়লা ও উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য নিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে মতপার্থক্য নিরসনে সিঙ্গাপুরের একটি সালিসি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ভারতের আদানি পাওয়ার। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও সেখানে বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) চেয়ারম্যানকে নিয়ে একটি প্যানেল করার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে আজকের পত্রিকা। তবে আওয়ামী লীগ আমলের চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করতে গঠিত কমিটির সুপারিশে পিডিবির আদানির সঙ্গে চুক্তি পুনর্মূল্যায়নে ব্রিটিশ আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হওয়ার খবরটি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, ভারতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুতের মূল্য নিয়ে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তিতে সিঙ্গাপুরের একটি আদালতে যাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবি যৌথভাবে কারিগরি ও আইনি দিক নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছে।
২০১৭ সালের নভেম্বরে পিডিবি ও আদানি পাওয়ারের মধ্যে বিদ্যুৎ কিনতে ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পূর্ব ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে আদানি। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানি। তদন্ত কমিটির অভিযোগ, এই চুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪-৫ সেন্ট বেশি ধরা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে বিশেষ আইনের আওতায় করা ক্রয় চুক্তিতে অনেক দুর্নীতি-অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যুতের দাম নির্ধারণে কারসাজির কারণে প্রতিবছর আদানি বাংলাদেশ থেকে ৪০-৫০ কোটি মিলিয়ন ডলার বেশি নিয়ে যাচ্ছে বলে সম্প্রতি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তির সময় ইন্দোনেশিয়ার কয়লার মূল্যকে সূচক হিসেবে ধরা হয়েছিল। চুক্তির দুই বছর পর ইন্দোনেশিয়ার কয়লার সূচকে পরিবর্তন এলেও আদানি বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের সময় তা সমন্বয় করেনি। ফলে এর পর থেকে বিদ্যুতের দাম নিয়ে পিডিবির সঙ্গে ভারতীয় কোম্পানিটির মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের উল্লিখিত কর্মকর্তা বলেন, ‘এর পর থেকে আদানি তাদের নিজেদের মতো বিল তৈরি করলেও পিডিবি তাদের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করছে। এতে করে প্রতি মাসেই একটা (গ্যাপ) ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। এখন সেই গ্যাপটা ৫০ কোটি ডলারের মতো। আমরা আদানিকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, নিজেরা বসে বিষয়টির মীমাংসা করতে। কিন্তু তারা তা না করে সিঙ্গাপুরের ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে (এসআইএসি) গিয়েছে। এই আদালতের নিয়ম হচ্ছে, আগে আদালতের বাইরে দুই পক্ষের বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞরা মিলে মীমাংসার চেষ্টা করবেন। তা সম্ভব না হলে বিষয়টি মামলা আকারে শুনানি হবে।’
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান রেজওয়ান খান (কারিগরি বিশেষজ্ঞ) এবং ব্যারিস্টার এহসান আব্দুল্লাহ সিদ্দিক (আইনি বিশেষজ্ঞ) বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বলে পিডিবি সূত্রে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলা যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বাংলাদেশে থাকা জনসংযোগ প্রতিনিধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিনিধি জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, আদানি তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বিপুল অঙ্কের বকেয়া থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রাখা হয়েছে। বকেয়া অর্থ পরিশোধে বিলম্বের কারণে আদানির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের শারীরিক শাস্তি দিতে পারবেন না। শিক্ষার্থীর প্রতি মানসিক নিপীড়নও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব বিধান লঙ্ঘন করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
২ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে সাত মাস ধরে থেমে থেমে আন্দোলন চলছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক সংগঠনগুলোর এই আন্দোলন। গত ২৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে কেন্দ্র করে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলো এবার মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়।
২ ঘণ্টা আগে
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এবার যদি কোথাও কেন্দ্র দখল হয়, কেউ ছাড় পাবে না। কেন্দ্র দখল যেন না হয়, সে জন্য কেন্দ্রে লাগানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পুলিশকে প্রায় ২৬ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হচ্ছে। ব্যবহার হবে ড্রোনও।
৫ ঘণ্টা আগে
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বরিশালে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
৬ ঘণ্টা আগে