Ajker Patrika

তালাকের ক্ষেত্রে দেনমোহরের টাকা স্বামীকে দিতে হবে

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৪, ১৩: ৩৮
তালাকের ক্ষেত্রে দেনমোহরের টাকা স্বামীকে দিতে হবে

প্রশ্ন: আমার বান্ধবীর স্বামী একজন প্রবাসী এবং আট বছর ধরে দেশের বাইরে আছেন। আট বছরে তার স্বামী মাত্র দুইবার দেশে এসেছেন এক বা দুই মাসের জন্য। তারা নিঃসন্তান। এদিকে সন্তান হচ্ছে না বলে বান্ধবী শ্বশুরবাড়িতে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সম্মুখীন হচ্ছে। পরিবার আর্থিকভাবে অতটা সচ্ছল নয়। তাই তারা মামলা-মোকদ্দমায় যেতে চাইছে না।

মেয়েকে তারা আবারও বিয়ে দিতে চায়। কিন্তু বারবার বলার পরও বান্ধবীর স্বামী তাকে তালাক দিচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে বান্ধবীর বা তার পরিবারের করণীয় কী? স্বামী বিদেশে থাকা অবস্থায় তাকে কি তালাক দিতে পারবে? তালাক দেওয়া গেলে কীভাবে দিতে হবে? সেক্ষেত্রে আমার বান্ধবী দেনমোহরের টাকা পাবে কি না?
আনিছা আক্তার, গোপালগঞ্জ 

উত্তর: আপনার বান্ধবীর ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে তা শুনে খুব খারাপ লাগল। তাঁর স্বামী আট বছরে মাত্র দুইবার দেশে এসেছেন এবং তাঁর সন্তান না হওয়ার জন্য যে শ্বশুরবাড়ির লোক তাঁকে নির্যাতন করছে, এ কারণেই তিনি তাঁর স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। তাঁদের বিয়ের নিকাহনামার ১৮ নম্বর ক্লজে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষমতাবলেও তিনি তালাক দেওয়ার অধিকার রাখেন। এ জন্য নিকাহনামা নিয়ে যেকোনো কাজি অফিসে যেতে হবে। কাজি সাহেব তখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। যেহেতু আপনার বান্ধবীর স্বামী বিদেশে থাকেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর কাছে নোটিশ পৌঁছাতে হলে দেশের ঠিকানায়, বিদেশের ঠিকানায় এবং ই-মেইল থাকলে ই-মেইলের মাধ্যমে তালাকের নোটিশটি পাঠাতে হবে। দেশের আইন অনুযায়ী তালাকের নোটিশ পাঠানোর তিন মাস পর তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। তখন তিনি পুনরায় বিয়ে করতে পারবেন।

অনেক স্বামী নিজে থেকে তালাক দিতে চায় না এ জন্য যে তারা মনে করে, তালাক যদি স্ত্রী দেন তাহলে দেনমোহরের টাকা দিতে হবে না। কিন্তু এটা ভুল ধারণা। তালাক যে পক্ষই দিক না কেন দেনমোহরের টাকা স্বামীকে দিতেই হবে। এ ক্ষেত্রে আপনার বান্ধবীকে যদি দেনমোহরের টাকা দেওয়া না হয়ে থাকে তাহলে তিনি তালাকের নোটিশ পাঠানোর সময় তাঁর ইদ্দতকালীন তিন মাসের ভরণপোষণের সঙ্গে দেনমোহরের টাকাও দাবি করতে পারেন। আর শেষে বলব, দেশে একটি কথা প্রচলিত আছে তা হলো, অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সয়, দুজনই সমান অপরাধী।

সন্তান না হওয়ার জন্য আপনার বান্ধবীর ওপর যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে, সেটা সহ্য না করে আপনার বান্ধবীর উচিত সেই অন্যায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা। নিকটস্থ থানা বা পুলিশ স্টেশনে গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তাদের বিরুদ্ধে আপনার বান্ধবী মামলা করতে পারেন।

পরামর্শ দিয়েছেন, ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইসিসি থেকে বিসিবি বছরে আসলে কত টাকা পায়

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে ইরান, বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পতুষ্টি করছে বললেন খামেনি

খামেনির ছবিতে আগুন দিয়ে সিগারেট ধরাচ্ছেন ইরানি নারীরা—নেপথ্যে কী?

ছয়জনের লিফটে বরসহ ১০ জন উঠে আটকা, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় উদ্ধার

‘রাতারাতি’ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম জাপান—চীনের বিস্ফোরক দাবি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত