
কর্মস্থলে জেনারেশন জেড (জেন জি)-দের নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায় বিস্তর। দীর্ঘদিন ধরে যে নিয়মে কর্মস্থলের কর্মীরা চলে আসছেন সেসব যেন সহজে মেনে নিতে পারেন না জেন-জি কর্মীরা। অনেকে জেন-জি প্রজন্মকে ‘চাকরির অযোগ্য’ বলেও অভিহিত করেন। এদিকে নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, জেন-জিরা চাকরিকে ‘দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার’ হিসেবে দেখছে না; বরং তারা চাকরিকে স্বল্পমেয়াদি ‘সিচুয়েশনশিপ’ বা অস্থায়ী সম্পর্ক হিসেবে বিবেচনা করছে।
মিলেনিয়ালদের পর এবং জেনারেশন আলফার আগে জন্ম নেওয়া, আনুমানিক ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী এই প্রজন্মকে প্রথম প্রকৃত ‘ডিজিটাল নেটিভ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এই গবেষণাটি করেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার আর্থিক প্রতিষ্ঠান গেটওয়ে কমার্শিয়াল ফাইন্যান্সের গবেষকেরা। ১ হাজার ৮ জনের বেশি কর্মীর সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। এদের মধ্যে অর্ধেক ছিলেন জেন-জি এবং বাকি অর্ধেক ছিলেন ব্যবস্থাপক বা নিয়োগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মী।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা তাঁদের চাকরিকে ‘সিচুয়েশনশিপ’ হিসেবে দেখেন, অর্থাৎ এমন একটি স্বল্পমেয়াদি ও কম অঙ্গীকারমূলক সম্পর্ক, যা দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়ার জন্য নয়। এ ছাড়া, ৪৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানান, চাকরি শুরু করার এক বছরের মধ্যেই চাকরি ছাড়ার পরিকল্পনা ঘুরছে তাঁদের মাথায়।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মানুষই যেকোনো সময় চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, জেন-জি চাকরি করার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে। মাত্র ৪৬ শতাংশ মনে করেন, বর্তমান চাকরির বাজারে একই নিয়োগকর্তার সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকা কোনো বাড়তি সুবিধা দেয়। অন্যদিকে, ৩৭ শতাংশের কাছে তাঁদের বর্তমান পদটি কেবল আয়ের একটি উৎস। আর মাত্র ২৫ শতাংশ এটিকে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ হিসেবে দেখেন, যেখানে তারা সত্যিকার অর্থে বিনিয়োগ করতে চান।
চাকরি ছাড়ার সম্ভাব্য কারণ জানতে চাইলে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, অন্য কোথাও বেশি বেতনের সুযোগ পেলে চলে যাবেন তাঁরা। ৩৪ শতাংশ জেন-জি জানিয়েছেন বর্তমান কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব এবং বার্নআউটের অভিজ্ঞতার কথা। আর ২২ শতাংশ মনে করেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।
তবে নিয়োগদাতারা এই আনুগত্যহীনতায় বেশ অসন্তুষ্ট। প্রতি চারজনের মধ্যে একজন চাকরিদাতা মনে করেন, এক বছরের কম সময়ের স্বল্পমেয়াদি চাকরির অভিজ্ঞতা জেন-জির জীবনবৃত্তান্তে একটি ‘রেড ফ্ল্যাগ’। এ ছাড়া, প্রতি তিনজনের বেশি নিয়োগদাতা স্বীকার করেছেন, ঘন ঘন চাকরি বদলের প্রবণতার কারণে তারা জেন-জিদের নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আগের বিভিন্ন গবেষণায় জেন-জিদের পেশাগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যেখানে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর জোরালো গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
ব্যাংক অব আমেরিকার ২০২৫ সালের ‘বেটার মানি হ্যাবিটস’ আর্থিক শিক্ষা–সংক্রান্ত গবেষণা অনুযায়ী, গত এক বছরে ৭২ শতাংশ জেন-জি তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে মাত্র ৩৯ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা পরিবার থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪৬ শতাংশ।
ব্যাংক অব আমেরিকার কনজ্যুমার, রিটেইলার ও প্রেফার্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রেসিডেন্ট হলি ও’নিল এক বিবৃতিতে বলেন, জেন জিরা তরুণদের আর্থিক বিষয়ক প্রচলিত ধারণাকে ‘চ্যালেঞ্জ’ করছে।
ও’নিল আরও বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ও দৈনন্দিন জীবনের উচ্চ ব্যয়ের মুখে পড়লেও তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে এবং নিজেদের অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে কঠোর পরিশ্রম করছে।’
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট

‘গিভ টু গেইন’—৮ মার্চ বিশ্বব্যাপী পালিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য এটি। বিশ্বের নারীরা আজ সব বাধা তুড়ি মেরে নিজেদের পছন্দসই পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ কাজ করছেন নারীর শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য নিয়ে। যোগব্যায়াম হচ্ছে সেই মাধ্যম, যা চর্চার ফলে একজন নারী সব দিক থে
৩ ঘণ্টা আগে
কখনো কখনো রং রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে, আবার কখনো সেই রংই হয়ে ওঠে বিভিন্ন প্রতীকের উৎস। সময় যত গড়িয়েছে, ফ্যাশনে রঙের ব্যবহার ততই হয়েছে প্রতীকী। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে অনেকে সেদিন বিভিন্ন রঙের পোশাক পরবেন। আর পোশাকে সেসব রঙের থাকবে বিভিন্ন অর্থ ও ব্যঞ্জনা।
৩ ঘণ্টা আগে
বিউটি কিংবা রূপচর্চার জগতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ট্রেন্ড আসে—কখনো ম্যাট লুক, কখনো বা গ্লিটারি মেকআপ। তবে এবারের ট্রেন্ডটি একটু ভিন্ন এবং বেশ আরামদায়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটক অথবা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করলেই এখন চোখে পড়ছে থলথলে, কাচের মতো স্বচ্ছ আর জেলির মতো দেখতে কিছু প্রসাধনী।
৪ ঘণ্টা আগে
বয়স চল্লিশের কোটা পার হতেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়। বলিরেখা, চোখের নিচে কালো ছোপ কিংবা ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া— এসবই বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে বেশি যে সমস্যা ভোগায়, তা হলো ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা ও খসখসে ভাব। শুধু দামি ক্রিম মেখে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, বয়স...
১৮ ঘণ্টা আগে