
বর্ষার টানা বৃষ্টি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাধা তৈরি করে। তেমনি শখের বারান্দা বা ছাদবাগানের সবুজ গাছগুলোর জন্য তা সব সময় আনন্দের বার্তা না-ও আনতে পারে। বর্ষাকালে ইনডোর প্ল্যান্টের পাতা হলুদ হয়ে যায়, কাণ্ড ঝুলে পড়ে এবং টব থেকে একধরনের ভ্যাপসা বা পচা গন্ধ বের হয়। টানা বৃষ্টি ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে টবের মাটি সব সময় ভেজা থাকে। ফলে শিকড় পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না এবং ছত্রাকের আক্রমণ ঘটে। মানি প্ল্যান্ট, পিস লিলি কিংবা স্নেক প্ল্যান্টের মতো জনপ্রিয় গাছগুলো এই সময়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও শিকড় পচা: টবের মাটি দিনের পর দিন ভেজা থাকলে শিকড় শ্বাস নিতে পারে না। ফলে পাতা হালকা সবুজ বা হলুদ হয়ে যায় এবং শিকড়গুলো বাদামি ও নরম হয়ে পচে যায়। বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় মাটি সহজে শুকায় না। এ ছাড়া টবের নিচে ছিদ্র না থাকলে বা ড্রেনেজ ট্রেতে পানি জমে থাকলে শিকড় দ্রুত পচে যায়।
কম আলো ও তাপমাত্রার তারতম্য: মেঘলা আকাশের কারণে ইনডোর প্ল্যান্টগুলো পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না, যা তাদের সালোকসংশ্লেষণের প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। এতে গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা রং হারায়। ঠান্ডা ও ভেজা মাটির কারণে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছগুলোর বৃদ্ধি থমকে যায়।
ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ: ভেজা মাটিতে পাউডারি মিলডিউ এবং গ্রে মোল্ডের মতো ছত্রাকজনিত রোগ দ্রুত ছড়ায়। মৃত ফুল ও পাতা গাছের গোড়ায় জমে থাকলে তা সংক্রমণের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত ভেজা মাটি ‘ফাঙ্গাস ন্যাটস’-এর বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ, যার লার্ভা শিকড় খেয়ে ফেলে। এ ছাড়া মিলিবাগ, অ্যাফিডস এবং স্কেল পোকার উপদ্রবও এ সময় বাড়ে।
-গ্রীষ্মের মতো বর্ষাকালে নির্দিষ্ট রুটিন মেনে পানি দেওয়া একটি বড় ভুল। মাটি সম্পূর্ণ শুকানোর আগে অনেকে পুনরায় পানি দিয়ে বসেন।
-টব সরাসরি বারান্দার মেঝেতে রাখলে নিচের ড্রেনেজের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া টবের নিচের প্লেটে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার না করাও অন্যতম ভুল।
-অতিরিক্ত আঠালো বা ঘন মাটি পানি আটকে রাখে। এ ছাড়া ছিদ্রবিহীন আলংকারিক বা ডেকোরেটিভ আউটার প্ল্যান্টারগুলো ভেতরের টবের পানি আটকে রেখে শিকড়কে শ্বাসরোধ করে মারে।
-অনেক গাছ একসঙ্গে গাদাগাদি করে রাখলে বাতাস চলাচল করতে পারে না। তা ছাড়া বর্ষায় গাছের বৃদ্ধি ধীর থাকে। তাই এ সময় অতিরিক্ত কড়া রাসায়নিক সার দিলে তা শিকড়ে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

-পানি দেওয়ার আগে আঙুল দিয়ে মাটির ওপরের ১ ইঞ্চি অংশ পরীক্ষা করে নিন। যদি শুকনা লাগে, তবে পানি দিন। টবগুলো সরাসরি মেঝেতে না রেখে মেটাল স্ট্যান্ড বা ইটের ওপর তুলে রাখুন, যাতে পানি সহজে বের হতে পারে। ভারী বৃষ্টির পর টবের ওপরের ২ সেন্টিমিটার মাটি আলতো করে খুঁচিয়ে দিন, যাতে শিকড়ে বাতাস পৌঁছাতে পারে।
-মেঘলা দিনে গাছগুলোকে জানালার কাছে বা ঢাকা বারান্দার এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে আলো বেশি পাওয়া যায়। গাছের পাতাগুলো ভেজা নরম কাপড় দিয়ে নিয়মিত মুছে পরিষ্কার রাখুন। গাছগুলো গাদাগাদি করে না রেখে কিছুটা ফাঁকা করে রাখুন এবং ঘরের ভেতর প্রয়োজনে হালকা গতিতে ফ্যান চালিয়ে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখুন।
-টবের মাটির উপরিভাগ শুকনা রাখার চেষ্টা করুন। প্রাকৃতিক অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসেবে মাটিতে দারুচিনির গুঁড়া ছিটিয়ে দিতে পারেন। এ ছাড়া ৭ থেকে ১০ দিন পরপর নিমের তেল স্প্রে করলে পোকার আক্রমণ কমে।
-বর্ষার দিনগুলোতে ভারী সার দেওয়া বন্ধ রাখুন বা মাসে সর্বোচ্চ একবার হালকা জৈব তরল সার দিন। মাটি তৈরির সময় কোকো পিট, পার্লাইট ও কম্পোস্টের সঙ্গে মোটা বালু মিশিয়ে এয়ারি বা হালকা মাটি তৈরি করুন, যা পানি জমতে দেবে না।
-গাছটি টব থেকে আলতো করে বের করে আনুন এবং শিকড়গুলো পরীক্ষা করুন।
-কোনো শিকড় বাদামি, কালো বা নরম হয়ে পচে গেলে তা জীবাণুমুক্ত কাঁচি দিয়ে কেটে বাদ দিন।
-এবার একটি অপেক্ষাকৃত ছোট টবে পরিষ্কার ড্রেনেজের ছিদ্র নিশ্চিত করুন। এরপর নিচে নুড়িপাথর বা মোটা বালু দিয়ে নতুন ও ঝুরঝুরে মাটিতে গাছটি পুনরায় রোপণ করুন।
-নতুন মাটিতে প্রতিস্থাপনের পর মাটি পুরোপুরি শুকানোর আগে আর পানি দেবেন না। গাছটি উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলো আসে, এমন স্থানে রেখে পর্যবেক্ষণ করুন।
সূত্র: আরবান প্ল্যান্ট

ফার্মেসির তাকে সাজানো হাজারো পণ্যের ভিড়ে লেবেল দেখে আমরা অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। কোথাও লেখা এসপিএফ ১৫, কোথাও ৩০ বা ৫০+, ব্রড স্পেকট্রাম, ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট কিংবা ‘রিফ-সেফ’। কিন্তু ত্বক সুরক্ষার পাশাপাশি এই সানস্ক্রিনগুলো আমাদের পরিবেশ, সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য এবং প্রাণিকুলের ওপর কী প্রভাব...
৩২ মিনিট আগে
পেটের অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ কমানো অনেকের জন্যই কঠিন কাজ। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সঠিক উপাদানে তৈরি স্যুপ যুক্ত করলে এই প্রক্রিয়া অনেক সহজ হতে পারে। পুষ্টিকর এবং কম ক্যালরির স্যুপ শরীরের বাড়তি মেদ ঝরিয়ে আপনাকে দ্রুত স্লিম হতে সাহায্য করবে।
৫ ঘণ্টা আগে
দৈনন্দিন জীবনে কেনাকাটা করতে গিয়ে কিংবা রেস্তোরাঁয় খেতে বসে আমরা কত খাবারই না অপচয় করি। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই খাদ্য অপচয় রোধে আইন করে পৃথিবীতে এক অবিশ্বাস্য বিপ্লব ঘটিয়েছে ফ্রান্স? বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তারা সুপারমার্কেটগুলোর ভালো খাবার ফেলে দেওয়া বা নষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো বললে অনেকে না-ও চিনতে পারেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারকে। কিন্তু যদি বলা হয় ‘কুটি রোমেরো’ তাহলে বেশির ভাগ ফুটবলপ্রেমী চিনবেন তাঁকে। হ্যাঁ, আপনাদের প্রিয় কুটি রোমেরোর পুরো নাম ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। তবে আর্জেন্টিনার সাবেক গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলবেন না
১৯ ঘণ্টা আগে