
নতুন কোনো সম্পর্কের শুরুতে ভালো লাগা, তীব্র আকর্ষণ অনুভব করা বা সারাক্ষণ সঙ্গীর কথা ভাবা খুবই স্বাভাবিক। একে অপরের প্রতি টান একটি সুস্থ সম্পর্কেরই লক্ষণ। কিন্তু কিছু সম্পর্ক শুরুর দিকে রূপকথার মতো মনে হলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিষাক্ত হয়ে উঠতে শুরু করে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় সম্পর্কের এই অতি মনোযোগের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতাকে বলা হয়, ‘লাভ বম্বিং’। এটি মূলত একটি অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের আগাম সতর্কবার্তা। সম্পর্কের শুরুতে অতিরিক্ত মনোযোগ, সেটি ভালোবাসা, নাকি লাভ বম্বিং জেনে নিন।
সহজ কথায় সম্পর্কের একেবারে প্রাথমিক দিনগুলোতে সঙ্গীকে অতিরিক্ত ভালোবাসা, প্রশংসা এবং অতি মূল্যবান উপহার দিয়ে ভাসিয়ে তাকে মানসিকভাবে কাবু করার কৌশলই হলো লাভ বম্বিং। আপাতদৃষ্টিতে একে গভীর ভালোবাসা মনে হলেও এর আসল উদ্দেশ্য হলো অপরজনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা এবং তার ওপর মানসিক আধিপত্য বিস্তার করা।
সিনেমা কিংবা উপন্যাসে এই আচরণগুলোকে অনেক সময় রোমান্টিক হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবজীবনে এগুলো বড় বিপদের কারণ হতে পারে। যেমন,
দ্রুত সোলমেট ঘোষণা করা
একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠতে সময় প্রয়োজন হয়। কিন্তু লাভ বম্বাররা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে ‘সোলমেট’ বা ‘আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া’—এ ধরনের তকমা দেবে। খুব দ্রুত ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলা এবং আপনার কাছ থেকেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া আশা করা এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
অতিরিক্ত ও কৃত্রিম প্রশংসা
প্রশংসা শুনতে সবারই ভালো লাগে। কিন্তু লাভ বম্বিংয়ের ক্ষেত্রে এই প্রশংসাগুলো অতিরঞ্জিত ও মেকি মনে হয়। যেমন ‘সৃষ্টিকর্তা তোমাকে শুধু আমার জন্যই পাঠিয়েছেন’ বা ‘তোমার মতো নিখুঁত মানুষ পৃথিবীতে আর নেই’—এ ধরনের কথা বলা।
উপহারের বন্যা
সম্পর্কের শুরুতেই অকারণে দামি দামি উপহার দেওয়া লাভ বম্বিংয়ের বড় লক্ষণ। পরবর্তীকালে এই উপহারগুলোই তারা চতুরতার সঙ্গে আপনাকে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং নানা শর্ত জুড়ে দেয়।
যোগাযোগের নামে নজরদারি
আপনি ব্যস্ত আছেন জেনেও অনবরত ফোন বা মেসেজ দেওয়া এবং দ্রুত উত্তর না দিলে অপরাধীবোধ করানো লাভ বম্বিংয়ের লক্ষণ। লাভ বম্বাররা আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করে সারাক্ষণ আঠার মতো লেগে থাকতে চায়।
লাভ বম্বিংয়ের কারণে সম্পর্কের প্রকৃত বিশ্বাস গড়ে ওঠার আগেই একটি মেকি ভালোবাসার জগৎ তৈরি হয়। এটি আপনাকে আপনার পরিবার ও বন্ধুদের থেকে আলাদা করে দেয়। যখন আপনি সঙ্গীর এই অতিরিক্ত ভালোবাসার জালে আটকা পড়েন, তখন শুরু হয় আসল খেলা। তখন সামান্য কারণে দোষ আপনার ঘাড়ে চাপানো, অতিরিক্ত ঈর্ষা, আপনার মতামতকে ছোট করা এবং আপনাকে মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণের মতো কাজগুলো চলতে থাকে।
যদি আপনার মনে হয়, আপনি লাভ বম্বিংয়ের শিকার হচ্ছেন; তবে আতঙ্কিত না হয়ে কয়েকটি কাজ করতে পারেন।
সুস্থ সীমা নির্ধারণ
সঙ্গীর সঙ্গে স্পষ্টভাবে কথা বলুন। দিনে কতবার কথা বলবেন, কত দ্রুত সম্পর্ক এগিয়ে নেবেন কিংবা কেমন উপহার নেবেন, সব বিষয়েই স্পষ্টভাবে কথা বলুন।
সম্পর্কের গতি ধীর করুন
সম্পর্ককে নিজের স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিন। সঙ্গী জোর করলেই দ্রুত কোনো বড় প্রতিশ্রুতি বা বিয়ের সিদ্ধান্তে যাবেন না।
বন্ধুদের পরামর্শ নিন
সম্পর্কের তীব্রতায় অনেক সময় নিজের ভুল চোখ এড়িয়ে যায়। তাই কোনো বিশ্বস্ত বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন।
নিজের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিন
কোনো সম্পর্ক যদি আপনার মানসিক শান্তি নষ্ট করে বা আপনাকে অনিরাপদ বোধ করায়, তবে সেই ক্ষতিকর সম্পর্ক থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার অধিকার আপনার আছে।
সূত্র: কলোরাডো, দ্য হটলাইন ও অন্যান্য

আর কিছুদিন পরই কোরবানির ঈদ। সে সময়টায় মাংসের বিভিন্ন পদ রান্নার ব্যাপার রয়েছে বলে এখন অনেকে মাংস রান্নার কথা ভাবছেন না। মাছ, ভাত আর সবজিই চলবে ঈদের আগ পর্যন্ত। বড় মাছ খেতে ইচ্ছে না হলে নারকেল চিংড়িই রেঁধে ফেলুন। রান্না সহজ আবার খেতে সুস্বাদু। আপনাদের জন্য নারকেল চিংড়ির রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন...
৫ ঘণ্টা আগে
অর্থ ব্যবস্থাপনা না শেখানোর কারণে উপার্জনের পর অনেকেই বুঝতে পারেন না, কীভাবে সঞ্চয় বা খরচ করা উচিত। তাই বাজেট ও খরচের নিয়ম জেনে সঞ্চয় ও খরচ করতে হবে। এটি আপনার জীবন সহজ করে তুলবে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা কিছু সাধারণ ও কার্যকর নিয়মের কথা বলেন, যেগুলো মেনে চললে পকেটের ওপর চাপ না ফেলে চমৎকারভাবে...
৭ ঘণ্টা আগে
বাড়ি ফেরার পথে পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হলে সাধারণ কুশল বিনিময় তো হয়ই, তারপর? বিদায় নেওয়ার আগে নিশ্চয়ই বলেন, ‘বাড়িতে আসবেন, একসঙ্গে চা খাওয়া যাবে।’ অফিসে কাজের ফাঁকে মাথাটা যখন ঝিম ধরে আসে, তখন পাশের চেয়ারে বসে থাকা সহকর্মীকে নিয়ে পাঁচ মিনিটের চা বিরতিতেই আমরা যাই।
১ দিন আগে
ভাবুন তো, যাঁর নিজের পাত্রই শূন্য, তিনি সেখান থেকে অন্যদের পাত্র কী করে পানিতে পূর্ণ করবেন? তাই অন্যকে ভালো রাখার প্রথম শর্ত হচ্ছে—নিজেকে ভালো রাখা। সে জন্য ‘মি টাইম’ বের করাটা জরুরি। অর্থাৎ, নিজের মতো সময় কাটানোর অবকাশ পেতে হবে।
১ দিন আগে