
কমলা সমুদ্র! ওলন্দাজ বলুন আর ডাচ বলুন, ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে যেকোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে গ্যালারি থেকে পুরো শহর মুহূর্তে বদলে দেবে উত্তাল কমলা সমুদ্রে। সে জন্যই বুঝি ডাচ ফুটবল দলের ডাকনামই হয়ে গেছে অরেঞ্জ লিজিয়ন। আমরা জানি, নেদারল্যান্ডসের মানুষ ও তাদের ভাষাকে ডাচ নামে ডাকা হয়।
খেয়াল করেছেন কি, নেদারল্যান্ডসের জাতীয় পতাকায় লাল, সাদা আর নীল ছাড়া কমলা রঙের কোনো অস্তিত্বই নেই। অথচ সাধারণ নিয়ম হলো, পতাকার রঙের কোনো একটি রং বা তার শেড বেছে নিয়ে তৈরি করা হয় খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জার্সি। নেদারল্যান্ডস সেই সাধারণ নিয়মের ধার ধারে না! অবশ্য বিষয়টিকে ঠিক ‘মাস্তানি’ বলা যায় না। কারণ, দেশটির মানুষের কমলা রঙের প্রীতির পেছনে লুকিয়ে আছে এক গভীর ইতিহাস। পতাকায় না থাকলেও এই এক টুকরা কমলা রং ওলন্দাজদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় অহংকারকে সুতায় বেঁধে রেখেছে।

এই কমলা রঙের জয়যাত্রার গল্পটি শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার শ বছর আগে। এর মূল নায়ক ওলন্দাজ রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম অব অরেঞ্জ। তিনি অবশ্য উইলিয়াম দ্য সাইলেন্ট নামেও পরিচিত। ১৫৬৮ সালে স্প্যানিশ শাসনের বিরুদ্ধে ওলন্দাজরা তাদের ঐতিহাসিক স্বাধীনতাসংগ্রাম শুরু করে। সেই সময় উইলিয়ামই হয়ে উঠেছিলেন ডাচ স্বাধীনতার মূল প্রতীক। দীর্ঘ ৮০ বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৬৪৮ সালে নেদারল্যান্ডস একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরই মধ্যে উইলিয়ামের নামের সঙ্গে থাকা অরেঞ্জ বা কমলা রংটি ওলন্দাজদের কাছে শুধু একটি রাজকীয় বিষয় থাকেনি, তা হয়ে উঠেছিল জাতীয় বীরত্ব ও দেশপ্রেমের চিরন্তন প্রতীক। আজ শত শত বছর পরও ডাচ রাজপরিবারের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা বিন্দুমাত্র কমেনি। সেই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ ঘটে দেশটির ফুটবলসহ যেকোনো খেলার কমলা জার্সিতে।
কমলা রং ওলন্দাজদের কাছে কতটা আবেগের, তার একটি দারুণ উদাহরণ পাওয়া যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসে। ডাচদের কোণঠাসা করতে জার্মানরা নেদারল্যান্ডসের জাতীয় পতাকার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তখন ডাচ গৃহিণীরা এক অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ জানাতেন। তাঁরা বাড়ির উঠানে বা বারান্দায় ধোয়া কাপড় শুকাতে দেওয়ার সময় একটি বিশেষ কৌশল নিতেন। লাইনে কাপড়গুলো এমনভাবে সাজিয়ে ঝোলানো হতো, যাতে দূর থেকে দেখলে ধারাবাহিকভাবে একটি কমলা, একটি লাল, একটি সাদা এবং একটি নীল রঙের কাপড়ের প্যাটার্ন তৈরি হয়। স্বৈরশাসকের চোখের আড়ালে এই ‘লন্ড্রি প্রতিরোধ’ ওলন্দাজদের জাতীয় ঐক্যকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।
২০২৬ সালের মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে হাজার হাজার ডাচ সমর্থক টেক্সাসের হিউস্টন কিংবা কানসাস সিটির স্টেডিয়ামগুলোকে কমলা রঙে ভাসিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের সেই ইতিহাসের এক চমৎকার বৃত্তপূরণ ঘটেছে এবারও। ডাচদের এই কমলা উন্মাদনার সঙ্গে আমেরিকার মাটির সম্পর্ক কিন্তু বহু পুরোনো। সতেরো শতকে ডাচ স্বর্ণযুগে আজকের নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও ডেলাওয়্যার অঞ্চলজুড়ে ওলন্দাজরা ‘নিউ নেদারল্যান্ড’ নামের একটি উপনিবেশ গড়ে তুলেছিল। পরবর্তী সময়ে ১৬৬৪ সালে ব্রিটিশরা এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাচদের ‘নিউ আমস্টারডাম’ শহরের নাম বদলে ‘নিউইয়র্ক সিটি’ রাখলেও ওলন্দাজদের স্মৃতি একদম মুছে যায়নি। ডাচ রাজপরিবারের বংশধর রাজা উইলিয়াম ৩-এর নামানুসারে আমেরিকার বুকে গড়ে ওঠে ‘অরেঞ্জ কাউন্টি’। কয়েক শ বছর পর আজ ওলন্দাজ সমর্থকেরা কমলা পোশাক পরে আমেরিকার মাটিতে উল্লাস করছেন। এটি যেন তাঁদের নিজেদেরই রেখে যাওয়া ইতিহাসের কাছে ফিরে আসা।
শুধু খেলাধুলার মাঠেই নয়, প্রতিবছর ২৭ এপ্রিল রাজার জন্মদিনে পুরো নেদারল্যান্ডস উৎসবে মেতে ওঠে। সেদিন আমস্টারডামের রাস্তা থেকে শুরু করে বিখ্যাত খালগুলো কমলা রঙের বন্যায় ভেসে যায়। এই উন্মাদনা এতটাই তীব্র, কোনো কোনো অসচেতন পর্যটক পুরোনো ট্রাভেল গাইড দেখে ভুল করে ৩০ এপ্রিল সাবেক রানির জন্মদিনে আমস্টারডামে কমলা পোশাক পরে হাজির হন। ওলন্দাজরা ভালোবেসে এই ভুল করা পর্যটকদের নাম দিয়েছেন ভেরখিস-তুঁরিস্তেন; যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘ভুল পথে যাওয়া পর্যটক’!
সূত্র: ডাচ আমস্টারডাম, পলিটিকো

ববোটি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিশেষ ঐতিহ্যবাহী খাবার। সাধারণত মাংসের কিমা, সুগন্ধি মসলা, আপেল, কিশমিশ ও হালকা মিষ্টি স্বাদের মিশেলে এটি তৈরি করা হয়। ববোটি মোড়ানো হয় পাতলা ও মুচমুচে করে তৈরি করা ফিলো পেস্ট্রি দিয়ে। ত্রিভুজ আকৃতির আফ্রিকান এই মিশ্র স্বাদের হালকা খাবার ঘরে বানিয়ে বিকেল বা সন্ধ্যার নাশতায়
৪ ঘণ্টা আগে
স্মার্টফোনে যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটির বেশি মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করে। এত দিন পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে মোবাইল ফোন নম্বর আদান-প্রদান করা ছিল বাধ্যতামূলক। ফলে গ্রুপ চ্যাট কিংবা অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত নম্বরটি
৬ ঘণ্টা আগে
বর্ষপঞ্জিতে আষাঢ় মাস এলেও গরম কিছু কমেনি। এই গরমে কম মসলার হালকা খাবার খেতেই বেশি আরামবোধ হয়। কয়েক রকমের সবজি দিয়ে বানিয়ে ফেলুন দুপুর কিংবা রাতের খাবার। আপনাদের জন্য রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। শসা ২টি, পটোল ২০০ গ্রাম, ঝিঙে ২০০ গ্রাম, মিষ্টিকুমড়া ২০০ গ্রাম, আলু ১০০...
৮ ঘণ্টা আগে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ফল থেঁতো করে বা এই ফল দিয়ে তৈরি তেলও নানাভাবে ত্বক ও চুলে ব্যবহার করেন তাঁরা। মেক্সিকান বিউটি ব্র্যান্ডগুলোও এই ফলের নির্যাস ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরি করে। ত্বক ও চুলের যত্নে মেক্সিকানরা যেভাবে অ্যাভোকাডো ব্যবহার করেন; চলুন, জেনে নেওয়া যাক...
১০ ঘণ্টা আগে