
ওজন কমানোর কথা ভাবলেই আমাদের মাথায় আসে রং-বেরঙের সালাদ, বিদেশি ফল আর নিত্যনতুন ডায়েটের লম্বা তালিকা। আমরা ভাবি, খাবারে যত বৈচিত্র্য থাকবে, ডায়েট তত আকর্ষণীয় হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই চিরচেনা ধারণাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, ওজন কমানোর রহস্য হয়তো নতুন কিছুতে নয়; বরং একই খাবারে লুকিয়ে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন রুটিন ইটিং। অর্থাৎ প্রতিদিন যদি আপনি নির্দিষ্ট কিছু খাবার বারবার খান, তবে ওজন কমার গতি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
কেন একই খাবার বারবার খাওয়া কার্যকর
হেলথ সাইকোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় ১১২ জন স্থূলকায় ব্যক্তির ওপর ১২ সপ্তাহ ধরে পর্যবেক্ষণ চালানো হয়েছে। সেখানে এই চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। যাঁরা প্রতিদিনের ক্যালরি গ্রহণ একই মাত্রায় স্থিতিশীল রেখেছিলেন এবং একই ধরনের খাবার বারবার খেয়েছেন, তাঁরা অন্যদের চেয়ে ১.৬ শতাংশ বেশি ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন। এর পেছনে কাজ করে মূলত তিনটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ:
ডিসিশন ফ্যাটিগ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্লান্তি: ‘আজ সকালে কী খাব?’, ‘দুপুরে কী রান্না হবে?’ এ প্রশ্নগুলো আমাদের মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। যখন আমরা অনেক অপশন পাই, তখন ভুল বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। একই খাবার খেলে এই বাড়তি মানসিক চাপ দূর হয় এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসটি স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটিক হয়ে যায়।
ক্যালরি স্থিতিশীলতা: প্রতিদিন ক্যালরির ওঠানামা কমানো গেলে শরীর মেটাবলিজম বা বিপাকপ্রক্রিয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের ক্যালরি মাত্রায় সামান্য ১০০ ক্যালরি হেরফের হলেও ওজন কমার হার প্রায় ০.৬ শতাংশ কমে যায়।
অটোমেশন বনাম সেলফ-কন্ট্রোল: আধুনিক যুগে ডায়েট কন্ট্রোল করা মানেই নিজের ইচ্ছাশক্তির সঙ্গে একধরনের যুদ্ধ। কিন্তু যখন আপনার ব্রেকফাস্ট বা লাঞ্চ ফিক্সড থাকে, তখন আর সে যুদ্ধের প্রয়োজন পড়ে না।

একঘেয়েমি যেন বিপদ না হয়
তবে এই ‘একই খাবার’ ফর্মুলা নিয়ে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদ ক্রিস্টিন কার্কপ্যাট্রিক। তাঁর মতে, আপনি যদি প্রতিদিন একই খাবার খান, তবে নিশ্চিত করতে হবে সে খাবারটি পুষ্টিগুণে ভরপুর কি না। যদি সেই খাবারে প্রয়োজনীয় ভিটামিন বা মিনারেল না থাকে, তবে প্রতিদিন সেই একই খাবার আপনার শরীরে বড় ধরনের পুষ্টির ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে।
কীভাবে শুরু করবেন?
হুট করে দিনে তিনবেলা একই খাবার খাওয়া শুরু করা কঠিন। বিশেষজ্ঞরা কিছু কৌশল সাজেস্ট করেছেন:
একটি মিল দিয়ে শুরু করুন: শুরুতে কেবল ব্রেকফাস্ট বা লাঞ্চটি প্রতিদিন একই রাখুন। যেমন প্রতিদিন সকালে ওটস বা ডিম-পাউরুটির নির্দিষ্ট কোনো মিল।
২০-৩০টি প্রিয় খাবারের তালিকা: বেশির ভাগ মানুষ সপ্তাহজুড়ে ঘুরেফিরে ২০-৩০টি খাবারই খায়। সেখান থেকে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো বেছে নিয়ে আপনার সাপ্তাহিক রুটিন তৈরি করুন।
ব্যক্তিগত ডায়েট প্ল্যান: মনে রাখবেন, একজনের জন্য যা কার্যকর, অন্যের জন্য তা নাও হতে পারে। তাই এ ফর্মুলা শুরু করার আগে পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে নিজের শরীর অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করা জরুরি।
ওজন কমানো মানেই খাবারের সঙ্গে নিত্যনতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়; বরং কিছু কার্যকর ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে স্থির থাকাটাই আসল। আপনি যদি প্রতিদিনের খাবারের ‘অপশন’ কমিয়ে আনেন, তবে আপনার ওজন কমানোর লক্ষ্যটি অনেক বেশি সহজ এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। তাই জাঁকজমকপূর্ণ ডায়েট চার্ট বাদ দিয়ে এবার বরং একই খাবার প্রতিদিন এই সহজ ফর্মুলায় একবার ভরসা করে দেখতেই পারেন।
সূত্র: হেলথ লাইন, ফক্স নিউজ

শাড়ি পরার সময় আয়নার দিকে তাকাতেই যেন বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। কী আপনি কী হয়ে গেছেন–একথাই ভাবছেন নিশ্চয়ই। মেঘে মেঘে বেলা তো কম হয়নি, বয়স পেরিয়েছে ৫০–এর কোঠা। প্রাকৃতিক নিয়মেই শারীরিক গঠনে পরিবর্তন তো আসারই কথা।
৩ ঘণ্টা আগে
এই শহুরে জীবনে বাড়ির সামনে বাগান করার সৌভাগ্য আর কজনের মেলে? শখ-আহ্লাদ যেটুকু মেটানোর যার ফুরসত দেয় এক চিলতে বারান্দা। অবশ্য সুন্দর একটা বারান্দা পাওয়াও সৌভাগ্যের ব্যাপার।
৬ ঘণ্টা আগে
বয়স বৃদ্ধি জীবনের এক চরম সত্য। কিন্তু এই বেড়ে চলা বয়সকে অনেকে মেনে নিতে পারেন না। আগের শক্তি কিংবা কাজের গতি ধীরে ধীরে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে। তেমনই আমাদের ত্বকে তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। অনেকে বয়সের এই ছাপ লুকাতে দামি ক্রিম, লোশন বা সেরামের ওপর ভরসা করেন।
৮ ঘণ্টা আগে
১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী যেসব কিশোর-কিশোরী দিনে দুই ঘণ্টার বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, এক বছর পর তাদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ এবং সুখের অনুভূতি বা হ্যাপিনেস লেভেল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এই নেতিবাচক প্রভাব বেশি দেখা গেছে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী কিশোরীদের ক্ষেত্রে, যারা মাত্র বয়ঃসন্ধিতে পা দিয়েছে...
১০ ঘণ্টা আগে