মালয়েশিয়া ভ্রমণ শুধু কুয়ালালামপুরেই সীমাবদ্ধ করে রাখলে ভুল হবে। আর সেটি এ কারণে যে আকাশচুম্বী ভবন দেখতে মালয়েশিয়ায় আপনার না গেলেও চলে। যেতে হবে বরং প্রকৃতি দেখতে। আর সেটি দেখতে গেলে কুয়ালালামপুরের বাইরে যাওয়া জরুরি। যাঁরা ঈদে মালয়েশিয়া ভ্রমণে যেতে চান এবং বাজেট ট্রাভেল করতে চান, তাঁদের জন্য দেশটির লঙ্কাউইর আইল্যান্ড হপিং ট্যুর আদর্শ।
এখনকার সময়টি লঙ্কাউই যাওয়ার জন্য আদর্শ। এখন সেখানে শুষ্ক মৌসুম চলছে। এটি চলবে মার্চ মাস পর্যন্ত। এই সময়ে আকাশ পরিষ্কার এবং সমুদ্র শান্ত থাকে।
মালয়েশিয়ার লঙ্কাউই দ্বীপের জনপ্রিয় ডে ট্যুরগুলোর একটি হচ্ছে আইল্যান্ড হপিং ট্যুর। মাত্র ৪৫ রিংগিত, অর্থাৎ বাংলাদেশি ১ হাজার ৪০০ টাকা দিয়েই করা যায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার এই ট্যুর। লঙ্কাউই দ্বীপের ট্যুরিস্ট সেন্টার পান্তাই চেনাং। এর আশপাশের হোটেলে থাকলে ট্যুর এজেন্সি আপনাকে হোটেল থেকে পিকআপ করে নিয়ে যাবে সি পোর্টে। আর এখান থেকে সাধারণত এ দ্বীপের ভ্রমণ শুরু হয়। ট্যুর শেষে আবার হোটেলে ড্রপ-অফও করবে এজেন্সি। দামের কথা চিন্তা করলে মাত্র ১ হাজার ৪০০ টাকায় প্রায় ৫ ঘণ্টার ট্যুর সত্যিই অসাধারণ।
মালয়েশিয়ার হলেও লঙ্কাউই দ্বীপটি থাইল্যান্ড থেকে খুব কাছে অবস্থিত। এখান থেকে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে একটি করে ফেরি ছেড়ে যায় থাইল্যান্ডের কো লিপে দ্বীপের উদ্দেশে। সুতরাং যদি লঙ্কাউই থেকে থাইল্যান্ডও ভ্রমণ করতে চান, তাহলে এটি খুব সুন্দর সুযোগ। থাইল্যান্ডের এত কাছে হওয়ার কারণে চারপাশের প্রকৃতির মাঝেও বেশ মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
লঙ্কাউইর এই ৪-৫ ঘণ্টার ভ্রমণে অসাধারণ ৪টি স্পটে নিয়ে যাবে যেকোনো ট্রাভেল এজেন্সি। এই জায়গাগুলো হলো—
প্রেগন্যান্ট উইমেন আইল্যান্ড
এটি মূলত পাথুরে পাহাড়। দূর থেকে এই পাথরের পাহাড়ের আকৃতি দেখলে মনে হবে, কোনো গর্ভবতী নারী শুয়ে রয়েছে। পাহাড়টির এই আকৃতি থেকে তার নাম দেওয়া হয়েছে প্রেগন্যান্ট উইমেন আইল্যান্ড। তবে এখানে পর্যটকদের নামতে দেওয়া হয় না; শুধু দূর থেকে দেখানো হয়।
ডায়াং বুনটিং আইল্যান্ড
এই দ্বীপের মূল আকর্ষণ হচ্ছে এর মাঝখানে অবস্থিত স্বচ্ছ স্বাদুপানির হ্রদ। প্রাকৃতিকভাবে এই হ্রদ পৃথক হয়েছে সাগরের লবণাক্ত পানি থেকে। তবে এই স্বাদুপানির হ্রদে পর্যটকদের ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় দেওয়া হয় সাঁতার কাটার জন্য।
বাদামি ইগলের দেশে প্রেগন্যান্ট উইমেন আইল্যান্ড আর স্বাদুপানির
হ্রদ দেখিয়ে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হয় এই বাদামি ইগলের দেশে। নাম থেকে বুঝতে পারছেন, সেখানে অসংখ্য বাদামি ইগলের দেখা পাওয়া যায়। ইগল হচ্ছে লঙ্কাউই দ্বীপের অন্যতম প্রতীক। দ্বীপটির নামও এসেছে ইগল থেকে। মালয় ভাষায় ইগলকে বলা হয় হেলাং আর বাদামিকে বলা হয় কাউই। এই দুটি শব্দ একত্র করে এই দ্বীপের নামকরণ হয়েছে লঙ্কাউই।
সৈকত দর্শন
এই তিনটি জায়গা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হয় লঙ্কাউইর অনেক সৈকতের যেকোনো একটিতে। এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় তাদের দেওয়া হয় বিচে সময় কাটানোর জন্য। জানিয়ে রাখা ভালো, সব ট্যুর এজেন্সি একই সৈকতে যায় না। সুতরাং এ ক্ষেত্রে বলে দেওয়া মুশকিল, আপনার ট্যুর এজেন্সি কোন দ্বীপের কোন সৈকতে নিয়ে যাবে। তবে যেখানেই যান না কেন, প্রায় একই রকম ভিউ পাবেন। কারণ, এখানকার প্রায় সব দ্বীপের ভিউ একই রকম।
সবশেষে
মাত্র ১ হাজার ৪০০ টাকায় লঙ্কাউই দ্বীপের এই ট্যুর যেকোনো পর্যটকের অবশ্যকরণীয় তালিকায় রাখা উচিত। পরামর্শ থাকল, যাঁরাই যান না কেন কিংবা আপনাদের যত শিডিউলই তৈরি করুন না কেন, অন্তত আধা বেলের জন্য এই ভ্রমণে অংশ নেবেন। এই ভ্রমণ শেষ করে চলে যেতে পারেন পান্তাই চেনাং বা অন্য কোনো সৈকতে, সূর্যাস্ত উপভোগ করার জন্য। আমি এখানে এসেছিলাম মালয়েশিয়ার সাবাহ থেকে, যেখানকার ল্যান্ডস্কেপ এবং পানির রং একেবারে অন্য রকম।
যেভাবে যাবেন
যাঁরা একাধিকবার মালয়েশিয়ায় গেছেন, তাঁদের লঙ্কাউই যাওয়ার পথ চেনা রয়েছে। তবে যাঁরা নতুন যাবেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ হলো, পেনাং বা কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি বিমানে লঙ্কাউই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়া যায়। এ ছাড়া কুয়ালা কেদাহ অথবা কুয়ালা পার্লিস থেকে ফেরি বা স্পিডবোটে লঙ্কাউই পৌঁছানো যায়।

আজ আপনার গ্রহের দশা বলছে আপনার পড়াশোনার জন্য বিদেশযাত্রার যোগ আছে। তবে পাসপোর্ট-ভিসা না থাকলেও চলবে। কারণ, আপনার গন্তব্য সম্ভবত পাড়ার লাইব্রেরি বা পাশের বাড়ির বন্ধুর স্টাডি রুম। অফিসের বস আজ আপনার ওপর বিশেষ সদয় হবেন না, তাই ফাইলগুলো লুকিয়ে রাখুন। বাড়ির কাজ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না...
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ও ভারতের পর্যটকদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। বেশ কয়েক মাস পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকার পর আবারও সব ক্যাটাগরির ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে ১৮ মাস পর পুনরায় চালু হয়েছে ঢাকা হয়ে কলকাতা-আগরতলা আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস। সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, দুই দেশের সাধারণ মানুষ...
৩ ঘণ্টা আগে
আসন্ন ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় সব সময় শীর্ষ স্থানে থাকে পাহাড়ি কন্যা রাঙামাটি। কাপ্তাই হ্রদের শান্ত জলরাশি আর পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে গড়ে ওঠা নান্দনিক সব রিসোর্টে চলছে পর্যটক বরণের প্রস্তুতি। যদিও এখন রাঙামাটির প্রকৃতি কিছুটা রুক্ষ। তারপরও এই ধূসর...
৪ ঘণ্টা আগে
ঈদে অনেকে একটু আগেভাগে বাড়ি চলে যান। যেসব মা শিশুদের নিয়ে একা ভ্রমণ করবেন, তাঁরা একটু বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন। সঠিক পরিকল্পনা আর কিছু ছোটখাটো কৌশলী পদক্ষেপ আপনার ভ্রমণকে করতে পারে অনেকটা ঝামেলামুক্ত।
৫ ঘণ্টা আগে