Ajker Patrika

আজ ‘ব্লা ব্লা ব্লা ডে’: প্রিয়জনের ‘ঘ্যানঘ্যানানি’ শোনার দিন!

ফিচার ডেস্ক
আজ ‘ব্লা ব্লা ব্লা ডে’: প্রিয়জনের ‘ঘ্যানঘ্যানানি’ শোনার দিন!
মানুষের সঙ্গে ছোট ছোট আড্ডা বা কথা বলা আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং একাকিত্ব দূর করতে সাহায্য করে। ছবি: পেক্সেলস

ক্যালেন্ডারের পাতায় আজকের দিনটি এক অদ্ভুত নামে পরিচিত। তা হলো ‘ব্লা ব্লা ব্লা ডে’। শুনতে কিছুটা হাস্যকর মনে হলেও, এদিনটির গুরুত্ব কিন্তু আমাদের যাপিত জীবনের জন্য বেশ গভীর। মা-বাবা বলছেন, শরীরের যত্ন নিতে, বন্ধু বলছে, জমানো কাজগুলো শেষ করতে; কিন্তু আপনি সেগুলো কানেই তুলছেন না। প্রিয়জনদের এই দরদি কথাগুলোকে আমরা অনেক সময় ‘ব্লা ব্লা ব্লা’ বা অর্থহীন ঘ্যানঘ্যানানি বলে এড়িয়ে যাই। বিশেষ করে অলসতা আর প্রিয়জনদের পরামর্শ এড়িয়ে চলার যে চিরচেনা স্বভাব আমাদের রয়েছে, তাকেই একচিমটি হাসি দিয়ে বদলে দেওয়ার দিন এটি। আর আমাদের জীবনে এড়িয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বছর ঘুরে আসে ‘ব্লা ব্লা ব্লা ডে’। ২০০৬ সালে রুথ এবং থমাস রয় নামের এক দম্পতি এদিনটির সূচনা করেন।

মানুষের সঙ্গে ছোট ছোট আড্ডা বা কথা বলা আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং একাকিত্ব দূর করতে সাহায্য করে। ছবি: পেক্সেলস
মানুষের সঙ্গে ছোট ছোট আড্ডা বা কথা বলা আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং একাকিত্ব দূর করতে সাহায্য করে। ছবি: পেক্সেলস

ব্লা ব্লা ব্লা শব্দের মজার ইতিহাস

শব্দটি শুনতে আধুনিক মনে হলেও এর শিকড় অনেক গভীরে। ভাষাবিদদের মতে, প্রাচীন গ্রিসে যাঁরা গ্রিক ভাষায় কথা বলতে পারতেন না, তাঁদের শব্দগুলোকে বিদ্রূপ করে বলা হতো ‘বার বার বার’। সেখান থেকেই মূলত ‘বারবারিয়ান’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে জানা যায়। সময়ের পরিক্রমায় এটিই ১৯ শতকে ‘ব্ল্যাব ব্ল্যাব ব্ল্যাব’ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯১৮ সালে আমেরিকান সাংবাদিক হাওয়ার্ড ভিনসেন্ট ও’ব্রায়ানের লেখায় প্রথম ‘ব্ল্যাব’ শব্দটি ‘ব্লা’ হিসেবে জায়গা করে নেয়। গুগল এনগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে এ শব্দের ব্যবহার ৫০ গুণ বেড়েছে!

কেন এই দিনটি

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, যেখানে আমরা আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের পরামর্শকে ‘পরে করব’ বলে ফেলে রাখি, সেখানে এই দিনটি হতে পারে পরিবর্তনের শুরু।

যা করতে পারেন

অলসতা ঝেড়ে ফেলুন। নতুন বছরের সেই রেজল্যুশন বা জমানো কোনো অ্যাসাইনমেন্ট কি এখনো শুরু করা হয়নি? আজকের দিনটিই হোক সে কাজগুলো শুরু করার মোক্ষম সময়।

প্রিয়জনের পরামর্শে কান দিন। আপনার মা হয়তো বারবার বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে, কিংবা কোনো বন্ধু হয়তো একটি ভালো বই পড়ার পরামর্শ দিয়েছে। এগুলোকে ‘ব্লা ব্লা ব্লা’ না ভেবে আজ অন্তত একটি পরামর্শ কাজে লাগিয়ে দেখুন।

মন খুলে আড্ডা দিন। প্রযুক্তির যুগে আমরা সামনাসামনি কথা বলা কমিয়ে দিয়েছি। কালকের দিনে কোনো পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে কফি খেতে খেতে বা মোবাইল ফোনে অন্তত কিছুক্ষণ মন খুলে কথা বলুন। এটি আপনার মানসিক অবসাদ কাটাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।

কিছু অদ্ভুত তথ্য

ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী নিকোলাস এমলারের মতে, আমাদের গড় আড্ডার ৮০ শতাংশই কাটে অন্য মানুষের সমালোচনা বা গসিপ করে। মানুষ তার কথোপকথনের প্রায় ৬০ শতাংশ সময় কেবল নিজের সম্পর্কে কথা বলে কাটায়!

ইতিহাসের দ্রুততম বক্তা ছিলেন জন এফ কেনেডি। তিনি মিনিটে ৩২৭টি শব্দ বলতে পারতেন।

প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষের জনসমক্ষে কথা বলতে ভয় লাগে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘গ্লোসোফোবিয়া’।

আড্ডার শক্তি

গবেষণা বলছে, মানুষের সঙ্গে ছোট ছোট আড্ডা বা কথা বলা আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং একাকিত্ব দূর করতে সাহায্য করে। কথোপকথন হলো নতুন আইডিয়া শেয়ার করার এবং অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার সহজ উপায়। আজ যখন কেউ আপনাকে কোনো পরামর্শ দিতে আসবে; বিরক্ত হয়ে ‘ব্লা ব্লা ব্লা’ না বলে একটু মন দিয়ে শুনুন। হয়তো সেই ‘ঘ্যানঘ্যানানি’র ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে আপনার দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যার সমাধান। বছরের বাকি দিনগুলো না হয় এড়িয়েই গেলেন, আজকের দিনটি না হয় তুচ্ছ বিষয় আর অর্থহীন আড্ডার জন্যই তোলা থাকুক!

সূত্র: বিবিসি, ন্যাশনাল টুডে

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত