
আমাদের মস্তিষ্ক সব সময় নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ বা উদ্দীপনা পেলে দারুণভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখার অর্থ এই নয় যে সব সময় জটিল বা কঠিন কোনো কাজই করতে হবে। খুব সাধারণ এবং একই সঙ্গে দারুণ উপভোগ্য কিছু অভ্যাসের মাধ্যমেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের বার্ধক্য ঠেকানো সম্ভব।
আজকের দিনে প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে আমরা প্রতিটি কাজ খুব সহজে এবং কোনো পরিশ্রম ছাড়াই করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। তবে জীবনের এই সহজ পথ বা ‘শর্টকাট’ খোঁজার অভ্যাস দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বাড়লেও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার বছরগুলো বা ‘হেলদি লাইফস্প্যান’ কিন্তু কমে যাচ্ছে।
তবে আশার কথা হলো, প্রাত্যহিক জীবনে ছোট ছোট কিছু আনন্দদায়ক অভ্যাসের মাধ্যমে আমরা আমাদের মস্তিষ্কের ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’ বা চিন্তাশক্তির সঞ্চয় বাড়াতে পারি, যা বার্ধক্যে মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখে। স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অবস্থিত হেরিওট-ওয়াট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী অ্যালান গাও বলেন, ‘বয়স যাই হোক না কেন, প্রাত্যহিক জীবনে সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা আমাদের চিন্তাশক্তিকে নতুন গতি দিতে পারি।’
মস্তিষ্কের বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করার জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও বিজ্ঞানসম্মত ৩টি উপায় নিচে তুলে ধরা হলো—
নতুন পথ চেনা বা স্থানিক নেভিগেশন
আলঝেইমার বা স্মৃতিভ্রংশ রোগে মস্তিষ্কের যে অংশটি প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেটি হলো ‘হিপোক্যাম্পাস’। এই অংশটি মূলত আমাদের পথ চেনা বা স্থানিক নেভিগেশনের কাজটি নিয়ন্ত্রণ করে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের নিউরোলজিস্ট ডেনিস চ্যান বলেন, ‘বহু বছর ধরেই আমরা জানি, আলঝেইমার রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো আক্রান্ত ব্যক্তিরা চেনা পথ হারিয়ে ফেলেন।’
লন্ডনের ট্যাক্সি চালকদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বছরের পর বছর কোনো জিপিএস বা ম্যাপ ছাড়া শুধুমাত্র স্মৃতির ওপর ভর করে শহরের অলিগলি চিনে গাড়ি চালিয়েছেন, তাঁদের হিপোক্যাম্পাস তুলনামূলকভাবে আকারে বড় ও শক্তিশালী। অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত নতুন নতুন পথে যাতায়াত বা নেভিগেশনের অনুশীলন করেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের হিপোক্যাম্পাস সংকুচিত হয়নি।
আপনি যা করতে পারেন—মোবাইল ফোনের জিপিএস ম্যাপের ওপর নির্ভরশীলতা কমান। পরিচিত বা অপরিচিত কোথাও যাওয়ার সময় ম্যাপ না দেখে নিজের বুদ্ধিতে পথ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এ ছাড়া ওরিয়েন্টিয়ারিং বা ম্যাপ ও কম্পাস দিয়ে পথ খোঁজার খেলা খেলতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে বিল্ডিং ব্লক দিয়ে ঘরবাড়ি বানানোর খেলা তাঁদের স্থানিক বুদ্ধি বা স্পেশাল স্কিল বাড়াতে দারুণ সাহায্য করে।

সামাজিক যোগাযোগ ও আড্ডায় সক্রিয় থাকা
বহু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকা আমাদের স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। মানুষের সঙ্গে মেলামেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলো অনেক দেরিতে প্রকাশ পায়।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের নিউরন ধ্বংস করে। বিপরীতে, সামাজিক যোগাযোগ এই মানসিক চাপ দূর করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। কিংস কলেজ লন্ডনের মহামারি রোগ বিশেষজ্ঞ পামেলা আলমেইদা-মেজা বলেন, ‘কারও সঙ্গে কোনো বিষয়ে আলোচনা করা, বিতর্ক করা বা নিজের আইডিয়া শেয়ার করার মতো স্বাভাবিক কথোপকথনগুলো আমাদের মস্তিষ্ককে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।’
যখন আমরা মানুষের সঙ্গে আড্ডা দিই বা কথা বলি, তখন আমাদের মস্তিষ্কের ভাষা, স্মৃতি এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনার মতো একাধিক অংশ একসঙ্গে কাজ শুরু করে। এটি একাধারে মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে এবং শারীরিক চাপ কমায়।
আপনি যা করতে পারেন—সপ্তাহে অন্তত একদিন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে আড্ডা দিন। সমমনা মানুষদের কোনো ক্লাব, সামাজিক সংগঠন বা বইয়ের গ্রুপে যুক্ত হতে পারেন।

জীবনভর নতুন কিছু শেখার আগ্রহ বা লাইফলং লার্নিং
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা একঘেয়ে ও নিয়মতান্ত্রিক হয়ে পড়ে, ফলে নতুন কিছু শেখার সুযোগ কমে যায়। কিন্তু মস্তিষ্ক সব সময় নতুনত্ব এবং চ্যালেঞ্জ পছন্দ করে। নতুন কোনো বিষয় শেখার সময় মস্তিষ্কে নতুন নিউরন তৈরি হয় এবং বিদ্যমান নিউরনগুলোর মধ্যকার সংযোগ বা সিন্যাপস আরও শক্তিশালী হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’, যা বার্ধক্যজনিত কোষের মৃত্যু রোধ করে।
শৈশব থেকে শুরু করে মানুষের ষাটোর্ধ্ব বয়স পর্যন্ত করা এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে কোনো না কোনো সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের স্মৃতিশক্তি হারানোর হার অন্যদের চেয়ে অনেক কম।
আপনি যা করতে পারেন—নতুন কোনো ভাষা শেখা, নতুন কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ছবি আঁকা কিংবা স্রেফ বাগান করার মতো চমৎকার শখগুলো বেছে নিতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বাগান করার শখ প্রবীণ বয়সে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে দারুণ কার্যকর। এ ছাড়া নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস ও সেই বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করাও দারুণ একটি উপায়।
মস্তিষ্ক সতেজ রাখার জন্য জীবনযাত্রায় বিরাট কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই। হাঁটতে বের হয়ে প্রতিদিনের চেনা পথটি সামান্য বদলে নেওয়া, নতুন কোনো লেখকের বই পড়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করার মতো খুব সাধারণ ও আনন্দদায়ক অভ্যাসের মধ্য দিয়েই আপনি আপনার মস্তিষ্ককে চিরসবুজ রাখতে পারেন।

তপ্ত গরমে প্রশান্তি পেতে গোসলের চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে শরীর ও মন সতেজ করে তোলার জন্য গোসলের জুড়ি নেই। গোসল আরও আরামদায়ক আর স্নিগ্ধ হতে পারে, যদি আপনি সঠিক সাবান ব্যবহার করতে পারেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
সন্তান বড় হয়ে কেমন মানুষ হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে তার শৈশবের ওপর। তার সঙ্গে মা-বাবার মানসিক সংযোগ কেমন ছিল, তার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় সন্তানের বস্তুগত চাহিদা মেটালেও তাদের আবেগীয় চাহিদার দিকে নজর দিতে ভুলে যাই। সার্থক অভিভাবকত্বের জন্য খুব জটিল কিছু করার...
১৩ ঘণ্টা আগে
সাজতে খুব একটা ভালোবাসেন না, এমন নারীর সাজবাক্সে অন্তত একটি লিপস্টিক পাওয়া যায়। কিন্তু লিপস্টিকের বেলায় দুঃখজনক ঘটনা হলো, মেয়াদ ফুরোনোর আগে নষ্ট হয়ে যাওয়া। হয় গলে যায়, নয়তো ঘেমে ছত্রাক পড়ে যায়।
১৪ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার সামনে হিমালয় সমান চ্যালেঞ্জ। গ্রহ বলছে, অফিসের ফাইলগুলো আপনার দিকে এমনভাবে ধেয়ে আসবে যেন আপনিই বিশ্বের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। আর্থিক যোগ দারুণ, পকেটে টাকার গরম অনুভব করতে পারেন।
১৫ ঘণ্টা আগে