
সন্তান বড় হয়ে কেমন মানুষ হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে তার শৈশবের ওপর। তার সঙ্গে মা-বাবার মানসিক সংযোগ কেমন ছিল, তার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় সন্তানের বস্তুগত চাহিদা মেটালেও তাদের আবেগীয় চাহিদার দিকে নজর দিতে ভুলে যাই। সার্থক অভিভাবকত্বের জন্য খুব জটিল কিছু করার প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট কিছু অভ্যাসই পারে সন্তানের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে। অভিভাবক হিসেবে জানতে সন্তানের সঙ্গে আত্মিক বন্ধন গড়ে তোলার পদ্ধতি।
একজন অভিভাবক হিসেবে সন্তানের প্রতি শুধু দয়া দেখানো আর তার কষ্ট অনুভব করা এক বিষয় নয়। সন্তান যখন কোনো বিষয়ে কষ্ট পায় বা হতাশ হয়, তখন তাকে বোঝার চেষ্টা করুন। অনেকে আছেন, যাঁরা ‘তুমি অনেক বেশি আবেগপ্রবণ’ বা ‘তুমি বেশি ভাবছ’—সন্তানকে এ ধরনের কথা বলে থাকেন। এসব না বলে তার কষ্টের কারণটি বোঝার চেষ্টা করুন। তাকে অনুভব করান যে আপনি তার পাশে আছেন। কারণ, মা-বাবার সহমর্মিতা শিশুর মস্তিষ্কের ভেগাস নার্ভ শান্ত রাখে; যা তাকে ভবিষ্যতে আরও ধৈর্যশীল ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। সন্তান ভুল করবে, এটাই স্বাভাবিক। মানুষ ভুল করবে, এটাই প্রাকৃতিক। তবে ভুল সংশোধনের সঠিক উপায় জানা থাকলে ভবিষ্যৎ সুন্দর হয়। সন্তান ভুল করলে বা জেদ করলে তাকে বকাঝকা না করে শান্তভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন। তারা যেন আপনাকে ভয় না পেয়ে আপনার কাছে মনের কথা বলার ভরসা পায়, সেই পরিবেশ তৈরি করুন।
মন দিয়ে তাদের কথা শুনুনফিচার ডেস্ক
সন্তান যখন কথা বলে, তখন মোবাইল ফোন বা অন্য কাজ সরিয়ে রেখে তার দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিন। তাকে বুঝতে দিন যে তার কথা আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন
সন্তানদের সামনে নিজের মেজাজ হারাবেন না। আপনি যদি নিজে শান্ত থেকে পরিস্থিতি সামলান, তবে সন্তানও প্রতিকূল পরিবেশে শান্ত থাকতে শিখবে।
হাস্যরসের ব্যবহার করুন
ঘরের গুমোট পরিবেশ হালকা করতে এবং সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে নির্মল কৌতুক বা হাসির ছলে কথা বলা খুব ভালো দাওয়াই।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন
সন্তান ছোট কোনো ভালো কাজ করলেও তার প্রশংসা করুন। ‘আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত’—এই একটি বাক্যই তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
শারীরিক স্পর্শ ও মমতা দিন
একটি উষ্ণ আলিঙ্গন, মাথায় হাত রাখা বা হাত ধরার মতো ছোট কাজগুলো সন্তানের মানসিক চাপ কমায় এবং এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে।
একসঙ্গে সময় কাটান
প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় রাখুন, যখন আপনারা একসঙ্গে এমন কোনো কাজ করবেন, যা সন্তান পছন্দ করে। হোক সেটা খেলাধুলা, ছবি আঁকা বা কোনো গল্প বলা।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন
মা-বাবা হিসেবে আপনিও যে মাঝেমধ্যে ক্লান্ত বা মন খারাপ বোধ করেন, তা সন্তানের কাছে প্রকাশ করুন। এতে সে-ও নিজের আবেগ প্রকাশে সাহসী হবে।
ভবিষ্যতের একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সন্তানকে নিজের আবেগ চিনতে শেখানো জরুরি। শিশু যখন রেগে যায় বা মন খারাপ করে, তাকে শব্দ দিয়ে তা প্রকাশ করতে শেখান। যেমন ‘তুমি কি এখন খুব রাগ করে আছ?’ রাগ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সেটা তাকে শেখান। সন্তানকে কোনো সমস্যা থেকে বাঁচিয়ে না নিয়ে বরং তাকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যাটি কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করুন। এটি তাকে স্বাবলম্বী করে তুলবে। আপনি যদি নিজেই সেই সমস্যার সমাধান করে ফেলেন, তাহলে আপনি সন্তানের কাছে সেরা হতে পারবেন। তবে সে শিখতে পারবে না। পরে আপনার অনুপস্থিতিতে সে কোনো সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে না।
অভিভাবকত্ব মানে সন্তানদের শুধু শাসন করা নয়, বরং সন্তানের বন্ধু হয়ে ওঠা। আমাদের সমাজে এমন অনেক বাবা-মা আছেন, যাঁরা সন্তানকে অন্যের সামনে ছোট করে দেখেন। কিন্তু এই ধরনের আচরণ সন্তানের মনে শৈশব থেকে নেতিবাচকতা তৈরি করে, যা পরে ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে। সন্তানের ছোট ছোট কাজকে উৎসাহ দেওয়া তাদের অনেক অনুপ্রেরণা দেয়। এগুলো পরবর্তী সময়ে তাদের মূল্যবোধ শেখায় এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কিছুই না, তার আঁকা একটি সাধারণ ছবি ঘরের দেয়ালে টাঙিয়ে রাখা কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে কপালে একটি চুমু দেওয়া—এই তুচ্ছ মনে হওয়া কাজগুলোই সন্তানের মনে নিরাপত্তার বোধ তৈরি করে।
মনে রাখবেন, একটি সুখী ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলার চাবিকাঠি আপনার হাতেই।
সূত্র: ভেরি ওয়েল মাইন্ড, সাইকোলজি টুডে

তপ্ত গরমে প্রশান্তি পেতে গোসলের চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে শরীর ও মন সতেজ করে তোলার জন্য গোসলের জুড়ি নেই। গোসল আরও আরামদায়ক আর স্নিগ্ধ হতে পারে, যদি আপনি সঠিক সাবান ব্যবহার করতে পারেন।
১ ঘণ্টা আগে
সাজতে খুব একটা ভালোবাসেন না, এমন নারীর সাজবাক্সে অন্তত একটি লিপস্টিক পাওয়া যায়। কিন্তু লিপস্টিকের বেলায় দুঃখজনক ঘটনা হলো, মেয়াদ ফুরোনোর আগে নষ্ট হয়ে যাওয়া। হয় গলে যায়, নয়তো ঘেমে ছত্রাক পড়ে যায়।
২ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার সামনে হিমালয় সমান চ্যালেঞ্জ। গ্রহ বলছে, অফিসের ফাইলগুলো আপনার দিকে এমনভাবে ধেয়ে আসবে যেন আপনিই বিশ্বের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। আর্থিক যোগ দারুণ, পকেটে টাকার গরম অনুভব করতে পারেন।
৩ ঘণ্টা আগে
পথে, রেস্তোরাঁয় কিংবা বিয়েবাড়িতে একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, আজকাল মিডি বা লং সামার ফ্রক বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তরুণীদের কাছে। গ্রীষ্মকালীন আরামদায়ক পোশাক হিসেবে ফ্যাশন হাউস অথবা অনলাইনের বিভিন্ন পেজে এখন নানান ধরনের ছাপা এবং নকশা করা সামার ফ্রক পাওয়া যাচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে