Ajker Patrika

চুল রিব‌ন্ডিং করার পর যেভাবে যত্ন নেবেন

ফারিয়া রহমান খান 
চুল রিব‌ন্ডিং করার পর যেভাবে যত্ন নেবেন
মডেল: ছোঁয়া। ছবি: মঞ্জু আলম

সোজা, সিল্কি ও মসৃণ চুলের আশায় অনেকে পারলারের শরণাপন্ন হন রিবন্ডিং করতে। তবে কেমিক্যাল ও তীব্র তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে করা এই কৃত্রিম সোজা ভাব ধরে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং। রিবন্ডিং করার প্রাথমিক তিন দিন চুল না ভেজানোর নিষেধাজ্ঞা কাটার পর অনেকে ভাবেন, যত্ন নেওয়ার ঝামেলা শেষ। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিক দিয়ে সুন্দর করা চুল স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ সংবেদনশীল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। তাই রিবন্ডিং করার পর অন্তত একটি বছর বিশেষ সতর্কতায় চুলের যত্ন নেওয়া জরুরি, যাতে চুল রুক্ষ, প্রাণহীন হয়ে ঝরে না যায়।

কেমিক্যাল ও সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু নির্বাচন

রিবন্ডিংয়ের পর সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে না। সাধারণ শ্যাম্পুতে থাকা ক্ষতিকর সালফেট ও প্যারাবেন চুলের স্বাভাবিক তেল ও আর্দ্রতা কেড়ে নেয়, যা চুলকে অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলে। তাই প্রথম এক বছর সব সময় সালফেট-ফ্রি ও কেমিক্যালি প্রসেসড চুলের জন্য তৈরি মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এ ছাড়া সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিনবার চুল ধোয়া যথেষ্ট; অতিরিক্ত ধোয়ার ফলে চুল স্বাভাবিক নমনীয়তা হারায়।

ডিপ কন্ডিশনিং ও হেয়ার মাস্কের ব্যবহার

চুলের সোজা ভাব বজায় রাখতে এবং প্রোটিন ক্ষয় রুখতে কন্ডিশনার ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

  • নিয়মিত কন্ডিশনার: প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর চুলের গোড়া এড়িয়ে শুধু মাঝের অংশ থেকে নিচ পর্যন্ত আর্দ্রতাদায়ক কন্ডিশনার লাগাবেন।
  • সাপ্তাহিক ডিপ কন্ডিশনিং: সপ্তাহে অন্তত এক দিন কেরাটিন বা আরগান তেলসমৃদ্ধ ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রোটিনের অভাব পূরণসহ চুল ভাঙা রোধ করে।

হিট স্টাইলিং ও অতিরিক্ত রাসায়নিক এড়িয়ে চলা

রিবন্ডিং করা চুল উচ্চ তাপ এবং শক্তিশালী রাসায়নিকের মধ্য দিয়ে যায়। তাই রিবন্ডিংয়ের পর অন্তত এক বছরের জন্য যেকোনো ধরনের ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার কিংবা কার্লিং আয়রন ব্যবহার বন্ধ রাখুন। চুল ভেজা থাকলে বাতাসে শুকানো নিরাপদ। এ ছাড়া ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে চুলে অন্য কোনো কালার, হাইলাইট বা ব্লিচিং করানো যাবে না, এতে চুল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সঠিক চিরুনি ব্যবহার এবং অতিরিক্ত টান না দেওয়া

ভেজা অবস্থায় রিবন্ডিং করা চুল খুবই নাজুক থাকে। ভেজা চুল কখনোই আঁচড়াবেন না। চুল কিছুটা শুকানোর পর চওড়া দাঁতের কাঠের চিরুনি দিয়ে আলতো হাতে জট ছাড়াবেন। চুলে কোনো ধরনের শক্ত গার্ডার, মেটাল ক্লিপ বা শক্ত করে বাঁধবেন না, এতে চুলে স্থায়ী ভাঁজ বা দাগ পড়ে যেতে পারে। ঘুমানোর সময় সুতির বালিশের কাভারের বদলে সিল্ক বা স্যাটিনের কাভার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘর্ষণের কারণে চুল পড়া কমে।

রোদের অতিবেগুনি রশ্মি ও ক্লোরিন থেকে সুরক্ষা

সূর্যের তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি রাসায়নিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা চুলের আর্দ্রতা শুষে নিয়ে চুল তামাটে ও শুষ্ক করে দেয়। তাই রিবন্ডিংয়ের পর বাইরে বের হলে ছাতা, স্কার্ফ বা টুপি দিয়ে চুল ঢেকে রাখতে চেষ্টা করুন। আর পুলে সাঁতার কাটার সময় অবশ্যই সুইমিং ক্যাপ পরবেন। কারণ, সুইমিংপুলের ক্লোরিনযুক্ত পানি রিবন্ডিংয়ের কেমিক্যাল বন্ধন নষ্ট করে দেয়।

নিয়মিত ট্রিম ও সুষম খাদ্য গ্রহণ

চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করতে দুই থেকে তিন মাস পরপর আধা ইঞ্চি করে ট্রিম করুন। পাশাপাশি চুলের স্বাস্থ্যের জন্য প্রোটিন, বায়োটিন ও ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার; যেমন ডিম, বাদাম, শাকসবজি ও ফলমূল খাদ্যতালিকায় রাখুন।

রিবন্ডিং চুল সোজা করার একটি সাময়িক প্রক্রিয়ামাত্র। কিন্তু সেই সৌন্দর্য ধরে রেখে চুল সুস্থ, ঘন ও ঝলমলে রাখতে হলে পুরো একটি বছর নিয়ম মেনে সঠিক যত্ন নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সঠিক পণ্য ও সঠিক পদ্ধতির অভ্যাসে আপনার রিবন্ডিং করা চুল থাকবে দীর্ঘস্থায়ী ও প্রাণবন্ত।

সূত্র: উইকিহাউ ও স্টাইলক্রেজ অবলম্বনে

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত