
২০২৬ সালে ডিজিটাল বাস্তবতার যুগে আমাদের প্রত্যেকের হাতেই একটি স্মার্টফোন রয়েছে। এই ফোনের সাহায্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে আমরা যুক্ত। সেগুলোয় আমরা যখন কোনো নিখুঁত ছবি বা নিজেদের সাফল্যের গল্প শেয়ার করি, তার পেছনে থাকা ক্লান্তি, বিষণ্নতা বা চোখের নিচের কালি খুব সুন্দর করে মুছে ফেলি। এই নিখুঁত হওয়ার ইঁদুরদৌড় আমাদের ঠেলে দিচ্ছে ‘ডোরিয়ান গ্রে ইফেক্ট’ নামক এক ভয়াবহ মনস্তাত্ত্বিক সংকটের দিকে। কী সেটা?
১৮৯০ সালে অস্কার ওয়াইল্ড তাঁর ‘দ্য পিকচার অব ডোরিয়ান গ্রে’ উপন্যাসে এক সুদর্শন যুবকের গল্প বলেছিলেন। সেখানে ডোরিয়ান গ্রে নামের সেই যুবক কামনা করেছিলেন, যেন বার্ধক্য ও জীবনের সকল গ্লানি তাঁর শরীরের ওপর কোনো প্রভাব না ফেলে; বরং সেগুলো যেন জমা হয় তাঁর একটি তেলচিত্রে। অদ্ভুত ভাবে তাঁর সেই ইচ্ছে পূরণ হয়। ডোরিয়ান বাস্তবে চিরতরুণ রয়ে গেলেন। কিন্তু তাঁর লুকানো ছবিটি দিনে দিনে বীভৎস ও কুৎসিত হতে লাগল।
আধুনিক যুগে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলো আসলে ডোরিয়ান গ্রের মতোই, যেখানে বিভিন্ন ফিল্টার আর এডিটিংয়ের জাদুতে আমরা নিজেদের একটি নিখুঁত সংস্করণ প্রদর্শন করি। কিন্তু আমাদের বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন। এই চির উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবির আড়ালে আমাদের আসল শরীর ও মনে বার্ধক্য, ক্লান্তি আর ব্যর্থতার দাগ বাড়ছে, যা ডোরিয়ানের জরাজীর্ণ ছবির মতোই। শেষ পর্যন্ত নিজের বাস্তব সত্তাকে অস্বীকার করার এই নেশা আমাদের গভীর মানসিক অস্থিরতা আর আত্মপরিচয়ের সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোশ্যাল মিডিয়া এখন একধরনের তীব্র মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ—
মেকি নিখুঁত জীবন দেখানোর প্রবণতা বেড়েছে: আমরা অনলাইনে আমাদের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্তগুলো এমনভাবে সাজাই, যা দেখে অন্যেরা হীনম্মন্যতায় ভোগে।
ফোমো বা হারানোর ভয়: অন্যের আনন্দদায়ক পোস্ট দেখে আমাদের মনে ভয় হয়, হয়তো জীবনের সেরা সুযোগগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
অনবরত তুলনা: ২৪ ঘণ্টা অন্যের সাজানো ডিজিটাল অস্তিত্বের সঙ্গে নিজের অগোছালো বাস্তব জীবনের তুলনা করতে গিয়ে আমরা বিষণ্নতায় ভুগছি।
মানুষ যখন দীর্ঘ সময় ধরে নিজের একটি পারফেক্ট ইমেজ বা ফিল্টার করা ছবি দেখে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন সে আয়নায় নিজের চেহারার ছোটখাটো খুঁতগুলো আর সহ্য করতে পারে না।
ডিজিটাল মুখোশ: আমাদের অনলাইন প্রোফাইলগুলো চিরকাল সফল আর সুখী থাকলেও, পর্দার আড়ালে আমাদের মন হয়ে যাচ্ছে ডোরিয়ান গ্রের সেই সরিয়ে রাখা কুৎসিত তেলচিত্রের কথা।
লাইক ও কমেন্টের নেশা: একটি ছবির লাইক বা কমেন্ট এখন আমাদের আত্মমর্যাদার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ডোপামিন রাশ আমাদের নিজস্ব সত্তাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
নিদ্রাহীনতা ও একাকিত্ব: স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এবং সামাজিকভাবে আরও একা করে তুলছে।
অস্কার ওয়াইল্ড আমাদের সতর্ক করেছিলেন, মানুষ তাঁর বাস্তব সত্তাকে অস্বীকার করে শুধু বাইরের প্রতিচ্ছবি নিয়ে মত্ত থাকলে তার ভেতরের সত্তাটি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায়। এই সংকট থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন—
বাস্তবতা মেনে নেওয়া: জীবনের স্বাভাবিক ক্লান্তি, বার্ধক্য অথবা ব্যর্থতাকে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে শিখুন।
ডিজিটাল ডিটক্স: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন এবং অফলাইনে মানুষের সঙ্গে সময় কাটান।
সচেতন ব্যবহার: সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু দেখে নেতিবাচক বোধ করলে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট আনফলো করুন এবং ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
ডিজিটাল ফিল্টারের আড়ালে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলাটাই আধুনিক যুগের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি। নিখুঁত হওয়ার চেয়ে ‘আসল’ হওয়া অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। ডোরিয়ান গ্রের মতো অভিশপ্ত সৌন্দর্যের পেছনে না ছুটে বাস্তব জীবনের খুঁতগুলো নিয়েই নিজেকে ভালোবাসতে শেখা বেশি জরুরি।
সূত্র: মিডিয়াম ও অন্যান্য

চ্যাটবট থেকে শুরু করে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট কিংবা শিক্ষামূলক অ্যাপ—সব ক্ষেত্রে এআইয়ের উপস্থিতি বাড়ছে। এই প্রযুক্তি শিশুদের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেও সঙ্গে নিয়ে আসছে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঝুঁকি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইং জুর মতে, সন্তান খুব ছোট থাকতে এআই নিয়ে আলাপ শুরু করা উচিত।
৩ ঘণ্টা আগে
এই আবহাওয়ায় টক-মিষ্টি-ঝাল স্বাদের খাবার খেতে দারুণ লাগে। তাই আজ আপনাদের জন্য থাকছে টক-মিষ্টি-ঝাল স্বাদের মেনি মাছের রসার রেসিপি। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। উপকরণ: মেনি মাছ ৬ পিস, বেগুন ২০০ গ্রাম, মিষ্টিআলু ১০০ গ্রাম, কাঁচা আম একটা, আদা ও রসুনবাটা এক চা-চামচ, হলুদ...
৫ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার মাথায় টাকার চেয়েও বেশি উপার্জনের বিপ্লবী সব আইডিয়া ঘুরবে। সকালে মনে হবে আজই আপনি ইলন মাস্কের রেকর্ড ভেঙে দেবেন, কিন্তু দুপুরে একটা ঘুম দিয়ে ওঠার পর মনে হবে—‘থাক, অত বড়লোক হয়ে কী হবে! ডাল-ভাত খেয়ে শান্তিতে থাকাই ভালো।’ স্ত্রীর সঙ্গে (বা গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে) তর্কে একদম যাবেন না।
৬ ঘণ্টা আগে
সন্তান সবজি খেতে চায় না, বলে দুঃখ করা বাবা-মায়ের সংখ্যা পৃথিবীতে সম্ভবত সবচাইতে বেশি। আর উল্টো দিকে সন্তানকে সবজি খাওয়াতে চান, এমন বাবা-মায়ের অভাব নেই পৃথিবীতে। এই যুদ্ধ পৃথিবীর প্রায় সব পরিবারেই হয়। পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে সবুজ শাকসবজির নাম শুনলে বেশির ভাগ শিশু মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু...
৭ ঘণ্টা আগে