
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বিবাহবিচ্ছেদে রূপ নেওয়া দাম্পত্য সম্পর্কগুলোর গড় স্থায়িত্বের রেকর্ড ১৩ বছরে পৌঁছেছে। ইউকে অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) এক নতুন পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিচ্ছেদে পৌঁছানোর আগে দম্পতিরা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দীর্ঘকাল একসঙ্গে বসবাস করছেন। ১৯৬৩ সালে এ সংক্রান্ত তথ্যসংগ্রহ শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালে রেকর্ড করা ১৩ বছর হলো দাম্পত্য টিকে থাকার দীর্ঘতম সময়সীমা। এর আগে ১৯৮৫ সালে এই গড় স্থায়িত্ব সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৯ বছরে নেমে এসেছিল।
বিবাহবিচ্ছেদের আইনজীবীরা বলছেন, সম্পর্কের এই দীর্ঘস্থায়িত্বের পেছনে রোমান্টিকতার চেয়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতাই বড় ভূমিকা রাখছে। অনেক দম্পতিই বিচ্ছেদের অর্থনৈতিক পরিণতি বা ‘আর্থিক বিপর্যয়ের’ মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘ওসবর্নস ল’-এর বিবাহবিচ্ছেদ বিশেষজ্ঞ ও পার্টনার লিডা পেপার বলেন, ‘বিগত ৬০ বছরের তুলনায় বর্তমানে আইনি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স অনেক সহজ হলেও দম্পতিরা রেকর্ড সময় ধরে একসঙ্গে থাকছেন।’
তিনি মনে করেন, বিচ্ছেদের পর তৈরি হওয়া আর্থিক ঝুঁকি সামলানোর অক্ষমতাই মানুষকে বিচ্ছেদের চূড়ান্ত পথ থেকে দূরে রাখছে।
‘দম্পতিরা এখন হুট করে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। বৈবাহিক সম্পর্কের পরিণতিকে পুরোপুরি শেষ করে দেওয়ার চেয়ে তাঁরা মধ্যস্থতা (মেডিয়েশন) বা “কাপল থেরাপি”র মতো বিকল্প পথগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন,’ যোগ করেন লিডা পেপার।
ওএনএস জানিয়েছে, বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটলেও সামগ্রিক বিচ্ছেদের হার এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। ১৯৮০ থেকে ২০০০-এর দশক পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর যেখানে গড়ে প্রায় দেড় লাখ বিচ্ছেদ ঘটত, বর্তমান হার তার চেয়ে বেশ কম।
২০২৫ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২টি বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে—
অসমকামী দম্পতি: ১,০২,৮৭৯টি বিচ্ছেদ
সমকামী দম্পতি: ২,১২৩টি বিচ্ছেদ
একই সময়ে ৯৫৯টি ‘সিভিল পার্টনারশিপ’ বা আইনি অংশীদারিত্ব বিলুপ্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৭০টি অসমকামী এবং ৬৮৯টি সমকামী জুটির।
উল্লেখ্য, এক দশক আগে সমকামী বিয়ের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পর ২০২৫ সালেই রেকর্ডসংখ্যক (২,১২৩টি) সমকামী বিচ্ছেদ নথিভুক্ত হয়েছে।
ওএনএসের পপুলেশন লাইফ ইভেন্টস বিভাগের প্রধান গ্রেক সিলি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিচ্ছেদের হার আগের রেকর্ড উচ্চতার চেয়ে কম। আমাদের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বৈবাহিক সম্পর্ক বা পার্টনারশিপ আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দম্পতিরা দীর্ঘ সময় একসঙ্গে পার করছেন।’
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে ওএনএস জানায়, ১৯৮০ বা ৯০-এর দশকে যারা বিয়ে করেছিলেন, তাদের তুলনায় সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বিয়ে করা দম্পতিদের প্রথম ১০ বছরের মধ্যে বিচ্ছেদের হার অনেক কমেছে।
১৯৬৫ সালে বিবাহিত দম্পতি: ১০ম বিবাহবার্ষিকীর মধ্যে বিচ্ছেদের হার ছিল ৯.৯ %।
১৯৯৫ সালে বিবাহিত দম্পতি: ১০ বছরের মধ্যে বিচ্ছেদের হার বেড়ে দাঁড়ায় ২৪.৭ %-এ।
২০০৫ সালে বিবাহিত দম্পতি: এই হার কমে ২০.৭ %-এ নেমে আসে।
২০১৫ সালে বিবাহিত দম্পতি: ১০ম বার্ষিকীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটেছে মাত্র ১৬.৩% দম্পতির।
সংস্থাটি জানায়, আইনি সংশোধন, বিয়ের সময় দম্পতিদের বয়সের পরিবর্তন এবং বিচ্ছেদ নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির রূপান্তরের কারণেই দাম্পত্যের এই নতুন ধারা তৈরি হয়েছে।

চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আমরা কত কিছুই না করি। ভেষজ তেল, দামি শ্যাম্পু থেকে শুরু করে নিয়মিত হেয়ার স্পা—কোনো কিছুতেই কমতি থাকে না। কিন্তু যে জিনিসটি প্রতিদিন আমাদের চুলের সংস্পর্শে সবচেয়ে বেশি আসে, সেই চিরুনির খবর আমরা কতজন রাখি? অনেকে বছরের পর বছর একই চিরুনি ব্যবহার করে যান। অথচ টুথব্রাশের...
৭ মিনিট আগে
শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে সিনি সাম্বোল অন্যতম। পেঁয়াজ ধীরে ধীরে তেলে ভেজে তার সঙ্গে মরিচ, তেঁতুল, চিনি এবং মসলা মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই ঝাল-মিষ্টি আচার। স্বাদে একসঙ্গে পাওয়া যায় টক, মিষ্টি ও ঝালের মিশ্রণ। ভাত, রুটি, ব্রেড কিংবা বিভিন্ন নাশতার সঙ্গে এটি খেতে ভালো লাগে। সিনি সাম্বোল ভাত...
২ ঘণ্টা আগে
সৌন্দর্যচর্চার পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় বহু প্রসাধনী আসে, আবার চলেও যায়। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো, প্রসাধনীর জগতে কোনটি হাজার বছর ধরে রাজত্ব করে চলেছে? আপনি কী ভাবছেন জানি না, তবে একটা উত্তর হতেই পারে—লাল লিপস্টিক। এটি শুধু একচিলতে প্রসাধন নয়, লাল লিপস্টিক আসলে ব্যক্তিত্বের ঘোষণা, আত্মবিশ্বাসের বর্ম...
৪ ঘণ্টা আগে
কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কেন আমরা শর্করা খেতে চাই বার বার? শর্করা মূলত মস্তিষ্কের ফুয়েল। অর্থাৎ আপনার ব্রেন সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে কার্বোহাইড্রেট। শর্করা থেকে আসা গ্লুকোজ না পেলে ব্রেন ঠিকঠাক কাজই করতে পারে না, মনোযোগের অভাব দেখা দেয়। আমাদের শরীরের হ্যাপিনেস হরমোনও শর্করা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত...
১৬ ঘণ্টা আগে