ফিচার ডেস্ক, ঢাকা

বিমানে চড়ে কখনো খেয়াল করেছেন, বেশির ভাগ বিমানের আসন নীল রঙের হয়। কখনো মনে প্রশ্ন জেগেছে, কেন নীল রঙের আসনই বানানো হলো? এদিকে আমরা জানি, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিমানে ধূমপান নিষিদ্ধ। কিন্তু কিছু অত্যাধুনিক মডেলের বিমানে এখন অ্যাশট্রে বা ছাইদানি রাখা হয়। এর কারণ কী?
পৃথিবীতে ঘটা কোনো কিছুই যেমন অকারণে নয়, তেমনি বিমানের কেবিন ডিজাইনের এই বিষয়গুলো কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তত্ত্ব, বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল। বিমানের ভেতরে প্রতিটি খুঁটিনাটি—সবই তৈরি করা হয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার কথা বিবেচনায় রেখে। হোক তা রঙের শেড কিংবা দেয়ালের ফ্যাব্রিকস।
সিটগুলো নীল হলো কেন
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ থেকে শুরু করে আমেরিকান এয়ারলাইনস, বিশ্বের প্রায় সব বড় বিমান সংস্থাই তাদের আসনের জন্য নীল রং বেছে নেয়। লন্ডনভিত্তিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ‘কালার ইফেক্টস’-এর মতে, নীল রং মানুষের মনে বিশ্বাস, দক্ষতা, প্রশান্তি এবং শীতলতার অনুভূতি তৈরি করে। বিমান ডিজাইনার নাইজেল গুডের মতে, নীল একটি রক্ষণশীল এবং করপোরেট রং; যা নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক। ভ্রমণের সময় যাত্রীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘরোয়া ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে মূলত নীল বা মাটির কাছাকাছি রংগুলো ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ ক্রেতাই রঙের ওপর ভিত্তি করে কোনো পণ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেন। সেই সূত্রেই নীল রং যাত্রীদের অবচেতন মনে বিমানে ভ্রমণের ভীতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।
বিমানের ভেতরের আলোর নেপথ্যে
পুরোনো মডেলের বিমানের কড়া আলোর বদলে এখনকার বিমানে কোমল এলইডি আলো ব্যবহার করা হয়। এই আলোর বিন্যাসও বিজ্ঞানসম্মতভাবে করা হয়। খাবার পরিবেশন, বোর্ডিং কিংবা ঘুমের সময়—প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আলাদা আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকে। কেবিন ডিজাইনাররা এমনভাবে ফ্যাব্রিকস ও আলোর সমন্বয় করেন, যাতে তা চোখের জন্য আরামদায়ক হয় এবং যাত্রীদের মেজাজ শান্ত রাখে।

শব্দ নিরোধক প্রযুক্তি ও দেয়াল
বিমানের আকার যত বড় আর যে পরিমাণ যন্ত্র সেখানে কাজ করে, সে অনুযায়ী এর মধ্যে বিকট শব্দ থাকার কথা। কিন্তু বিমানে উঠে এমন শব্দ আপনি শুনতে পান? ইঞ্জিনের একটানা শব্দ অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদে এটি স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। আধুনিক বিমানে এই শব্দ কমাতে অ্যাকুস্টিক কার্টেন বা শব্দ নিরোধক পর্দা এবং বিশেষ প্যাডিং ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছে, যাতে বিমানের দেয়াল বা সিটের হেড রেস্টেই নয়েজ ক্যানসেলিং সুবিধা যুক্ত করা যায়। এই প্রযুক্তি বাইরের শোরগোল কমিয়ে কেবিন শান্ত রাখবে।
কাপড়ের গুরুত্ব ও স্থায়িত্ব
দীর্ঘ পথের ফ্লাইটে সাধারণত চামড়ার সিট ব্যবহার করা হয় না। কারণ, চামড়া ঘাম তৈরি করতে পারে এবং এটি আরামদায়ক নয়। এর বদলে সিনথেটিক ফ্যাব্রিকস ব্যবহার করা হয়, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে সহজে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে গাঢ় রঙের কাপড় বেছে নেওয়া হয়। সাদা কাপড়ে লাল ওয়াইন বা ময়লা পড়লে তা পরিষ্কার করা কঠিন। কিন্তু গাঢ় রঙে ময়লা সহজে চোখে পড়ে না। তবে ফার্স্ট ক্লাস বা বিজনেস ক্লাসে যাত্রীর সংখ্যা কম হওয়ায় সেখানে অনেক সময় হালকা রঙের সিট দেখা যায়।
বিমানের ভেতরে গোপন কক্ষ
বোয়িং ড্রিমলাইনারের মতো বড় বিমানে একটি গোপন কক্ষ থাকে। এটি বাইরে থেকে দেখলে শুধু একটি ছোট আলমারি মনে হতে পারে; যাকে বলা হয় ক্রু রেস্ট। এই ছোট কক্ষের ভেতর খাড়া সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলে পাওয়া যায় কেবিন ক্রুদের ঘুমের জন্য কয়েকটি বাংকার বেড এবং সিট। মাত্র পাঁচ ফুট উচ্চতার এই গোপন কক্ষে চারজন পর্যন্ত ক্রু বিশ্রাম নিতে পারেন।
অব্যবহৃত জায়গা ও সার্টিফিকেশন
বিমানের নিচতলায় বেশ বড় এলাকা অব্যবহৃত থাকে। জানালা না থাকায় এবং উচ্চতা কম হওয়ায় সেখানে যাত্রীদের জন্য আসন করা সম্ভব হয় না। কিছু এয়ারলাইনস সেখানে শৌচাগার বা ক্রু এরিয়া তৈরি করলেও নতুন করে যাত্রীবাহী সিট বসানো অনেক ব্যয়বহুল। কারণ, প্রতিটি সিটের ডিজাইনের জন্য বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সনদ নিতে হয়। সে জন্য গুনতে হয় মিলিয়ন ডলার। এ কারণেই বিমান সংস্থাগুলো সাধারণত সাত থেকে দশ বছর আগে তাদের সিটের নকশা পরিবর্তন করতে চায় না।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল

বিমানে চড়ে কখনো খেয়াল করেছেন, বেশির ভাগ বিমানের আসন নীল রঙের হয়। কখনো মনে প্রশ্ন জেগেছে, কেন নীল রঙের আসনই বানানো হলো? এদিকে আমরা জানি, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিমানে ধূমপান নিষিদ্ধ। কিন্তু কিছু অত্যাধুনিক মডেলের বিমানে এখন অ্যাশট্রে বা ছাইদানি রাখা হয়। এর কারণ কী?
পৃথিবীতে ঘটা কোনো কিছুই যেমন অকারণে নয়, তেমনি বিমানের কেবিন ডিজাইনের এই বিষয়গুলো কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তত্ত্ব, বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল। বিমানের ভেতরে প্রতিটি খুঁটিনাটি—সবই তৈরি করা হয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার কথা বিবেচনায় রেখে। হোক তা রঙের শেড কিংবা দেয়ালের ফ্যাব্রিকস।
সিটগুলো নীল হলো কেন
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ থেকে শুরু করে আমেরিকান এয়ারলাইনস, বিশ্বের প্রায় সব বড় বিমান সংস্থাই তাদের আসনের জন্য নীল রং বেছে নেয়। লন্ডনভিত্তিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ‘কালার ইফেক্টস’-এর মতে, নীল রং মানুষের মনে বিশ্বাস, দক্ষতা, প্রশান্তি এবং শীতলতার অনুভূতি তৈরি করে। বিমান ডিজাইনার নাইজেল গুডের মতে, নীল একটি রক্ষণশীল এবং করপোরেট রং; যা নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক। ভ্রমণের সময় যাত্রীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘরোয়া ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে মূলত নীল বা মাটির কাছাকাছি রংগুলো ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ ক্রেতাই রঙের ওপর ভিত্তি করে কোনো পণ্য সম্পর্কে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেন। সেই সূত্রেই নীল রং যাত্রীদের অবচেতন মনে বিমানে ভ্রমণের ভীতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।
বিমানের ভেতরের আলোর নেপথ্যে
পুরোনো মডেলের বিমানের কড়া আলোর বদলে এখনকার বিমানে কোমল এলইডি আলো ব্যবহার করা হয়। এই আলোর বিন্যাসও বিজ্ঞানসম্মতভাবে করা হয়। খাবার পরিবেশন, বোর্ডিং কিংবা ঘুমের সময়—প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আলাদা আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকে। কেবিন ডিজাইনাররা এমনভাবে ফ্যাব্রিকস ও আলোর সমন্বয় করেন, যাতে তা চোখের জন্য আরামদায়ক হয় এবং যাত্রীদের মেজাজ শান্ত রাখে।

শব্দ নিরোধক প্রযুক্তি ও দেয়াল
বিমানের আকার যত বড় আর যে পরিমাণ যন্ত্র সেখানে কাজ করে, সে অনুযায়ী এর মধ্যে বিকট শব্দ থাকার কথা। কিন্তু বিমানে উঠে এমন শব্দ আপনি শুনতে পান? ইঞ্জিনের একটানা শব্দ অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদে এটি স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। আধুনিক বিমানে এই শব্দ কমাতে অ্যাকুস্টিক কার্টেন বা শব্দ নিরোধক পর্দা এবং বিশেষ প্যাডিং ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছে, যাতে বিমানের দেয়াল বা সিটের হেড রেস্টেই নয়েজ ক্যানসেলিং সুবিধা যুক্ত করা যায়। এই প্রযুক্তি বাইরের শোরগোল কমিয়ে কেবিন শান্ত রাখবে।
কাপড়ের গুরুত্ব ও স্থায়িত্ব
দীর্ঘ পথের ফ্লাইটে সাধারণত চামড়ার সিট ব্যবহার করা হয় না। কারণ, চামড়া ঘাম তৈরি করতে পারে এবং এটি আরামদায়ক নয়। এর বদলে সিনথেটিক ফ্যাব্রিকস ব্যবহার করা হয়, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে সহজে। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে গাঢ় রঙের কাপড় বেছে নেওয়া হয়। সাদা কাপড়ে লাল ওয়াইন বা ময়লা পড়লে তা পরিষ্কার করা কঠিন। কিন্তু গাঢ় রঙে ময়লা সহজে চোখে পড়ে না। তবে ফার্স্ট ক্লাস বা বিজনেস ক্লাসে যাত্রীর সংখ্যা কম হওয়ায় সেখানে অনেক সময় হালকা রঙের সিট দেখা যায়।
বিমানের ভেতরে গোপন কক্ষ
বোয়িং ড্রিমলাইনারের মতো বড় বিমানে একটি গোপন কক্ষ থাকে। এটি বাইরে থেকে দেখলে শুধু একটি ছোট আলমারি মনে হতে পারে; যাকে বলা হয় ক্রু রেস্ট। এই ছোট কক্ষের ভেতর খাড়া সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলে পাওয়া যায় কেবিন ক্রুদের ঘুমের জন্য কয়েকটি বাংকার বেড এবং সিট। মাত্র পাঁচ ফুট উচ্চতার এই গোপন কক্ষে চারজন পর্যন্ত ক্রু বিশ্রাম নিতে পারেন।
অব্যবহৃত জায়গা ও সার্টিফিকেশন
বিমানের নিচতলায় বেশ বড় এলাকা অব্যবহৃত থাকে। জানালা না থাকায় এবং উচ্চতা কম হওয়ায় সেখানে যাত্রীদের জন্য আসন করা সম্ভব হয় না। কিছু এয়ারলাইনস সেখানে শৌচাগার বা ক্রু এরিয়া তৈরি করলেও নতুন করে যাত্রীবাহী সিট বসানো অনেক ব্যয়বহুল। কারণ, প্রতিটি সিটের ডিজাইনের জন্য বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সনদ নিতে হয়। সে জন্য গুনতে হয় মিলিয়ন ডলার। এ কারণেই বিমান সংস্থাগুলো সাধারণত সাত থেকে দশ বছর আগে তাদের সিটের নকশা পরিবর্তন করতে চায় না।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল

বর্তমান যুগে মানুষ বই পড়ার চেয়ে স্ক্রিনে স্ক্রল করতে বেশি অভ্যস্ত। এমন সময়ও প্যারিস শহরের মাঝখানে সেইন নদীর ধারে টিকে আছে সাড়ে চার শ বছরের বেশি পুরোনো এক বইয়ের বাজার। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে এই বাজারে যাঁরা বই বিক্রি করেন, তাঁদের বলা হয় বুকিনিস্ত। পেশাটির সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে এটি শুধু জীবিকা...
৭ ঘণ্টা আগে
আজকাল জীবন ও জীবিকার তাগিদে, পড়াশোনা, এক্সট্রা-কারিকুলার এক্টিভিটিজ এসব নিয়ে পরিবারের প্রায় সব সদস্যদের ছুটতে দেখা যায়। দিনশেষে এক হলে বাহ্যিক প্রয়োজনের খবর নেওয়া হলেও মনের খবর নেওয়ার সময় কই। ব্যস্ততার কারণে বাড়তে থাকা দূরত্বের ফলে সন্তানেরা বাবা-মায়ের কাছে মনের কথা বলতে পারছে না। এমনকি পরিবারের
৭ ঘণ্টা আগে
কম তেলে দ্রুত রান্নার জন্য এখন অনেক ঘরে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তেল কম লাগলেও রান্নার সময় ভেতরে চর্বি, তেলের আস্তরণ ও খাবারের কণা জমে যায়। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এয়ার ফ্রায়ার থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে এবং রান্নার মানও নষ্ট হয়। ভালো খবর হলো, ওভেনের তুলনায় এটি পরিষ্কার করা অনেক সহজ...
৯ ঘণ্টা আগে
এই ভরা পৌষে ভাপা পিঠা হবে না! বাড়িতেই তৈরি করুন মিঠাই ভরা ভাপা পিঠা। নতুনদের জন্য এই পিঠার রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।...
১১ ঘণ্টা আগে