Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ, আটলান্টিকে তেলের ট্যাংকার পাহারা দেবে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩: ১০
আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থানরত ট্যাংকারটিকে পাহারা দেবে রুশ যুদ্ধজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থানরত ট্যাংকারটিকে পাহারা দেবে রুশ যুদ্ধজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া খাওয়া তেলবাহী ট্যাংকারকে পাহারা দিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে জানা যায়, আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থানরত ওই ট্যাংকারটিকে এসকর্ট বা পাহারা দেবে রুশ যুদ্ধজাহাজ।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, জাহাজটিতে বর্তমানে কোনো পণ্য নেই। এটি ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল পরিবহন করত এটি। গত মঙ্গলবার জাহাজটি স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মাঝামাঝি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যাতায়াতকারী নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল ট্যাংকারগুলোর ওপর ‘অবরোধ’ আরোপের নির্দেশ দেন। তাঁর এই পদক্ষেপকে ‘চুরি’ বলে অভিহিত করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার।

গত শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের আগে ট্রাম্প বারবার একটি অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলা সরকার জাহাজে করে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করছে।

গত মাসে ক্যারিবিয়ান সাগরে থাকাকালীন ‘বেলা-১’ নামের ওই জাহাজটিতে ওঠার চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড। তখন ধারণা করা হয়েছিল জাহাজটি ভেনেজুয়েলার দিকে যাচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানি তেল পরিবহনের অভিযোগে জাহাজটি জব্দের পরোয়ানা ছিল তাদের কাছে।

এরপর নাটকীয়ভাবে জাহাজটির গতিপথ বদলে যায়। এমনকি নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মেরিনেরা’। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটি গায়ানার পরিবর্তে রাশিয়ার পতাকা ব্যবহার শুরু করে।

ইউরোপের কাছাকাছি জাহাজটির অবস্থানের সঙ্গে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০টি সামরিক পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার পৌঁছানোর সময়ের মিল পাওয়া গেছে। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা জাহাজটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি ‘উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ’ করছে।

গত মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে মার্কিন দুই কর্মকর্তা জানান, আমেরিকান বাহিনী জাহাজটিতে ওঠার পরিকল্পনা করছে। ওয়াশিংটন জাহাজটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার চেয়ে জব্দ করাকেই বেশি প্রধান্য দিচ্ছে।

মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেয়। সেখানে বলা হয়, এই অঞ্চলে যাতায়াতকারী নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজ ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারি সংস্থাগুলোকে সহায়তা করতে তারা প্রস্তুত। তাদের নৌবাহিনী সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। ডাক এলেই তারা সেখানে পৌঁছে যাবে।

ওই রাতে মেরিনেরা জাহাজটি স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মাঝামাঝি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দূরত্ব ও আবহাওয়ার কারণে জাহাজটিতে ওঠা তখন কঠিন ছিল।

সিবিএস নিউজের বরাত দিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত মাসে পরিচালিত একটি অভিযানের আদলে এবারও অভিযান চালানো হতে পারে। গত মাসে মার্কিন মেরিন ও স্পেশাল অপারেশন ফোর্স কোস্টগার্ডের সহায়তায় ‘দ্য স্কিপার’ নামের একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছিল। গায়ানার পতাকাবাহী ওই জাহাজটি ভেনেজুয়েলা বন্দর থেকে ছেড়ে আসার পর সেটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

ট্যাংকারটির অবস্থান শনাক্তকারী এআইএস (অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) ডেটা অনুযায়ী, মঙ্গলবার এটি উত্তর আটলান্টিকে ছিল। স্থানটি ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার (১২০০ মাইল) পশ্চিমে। তবে এই ট্র্যাকিং ডেটা অনেক সময় জালিয়াতি বা পরিবর্তন করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো জাহাজ যে দেশের পতাকা ব্যবহার করে, তারা সেই দেশের সুরক্ষা পায়। তবে মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা ‘কেপলার’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক দিমিত্রিস আম্পাতজিদিস বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, জাহাজের নাম বা পতাকা পরিবর্তন খুব একটা কাজে আসবে না।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নির্ভর করে জাহাজটির প্রকৃত পরিচয় (আইএমও নম্বর), মালিকানা এবং নিষেধাজ্ঞার ইতিহাসের ওপর। জাহাজের গায়ের নাম বা কোন দেশের পতাকা লাগানো আছে—তা দিয়ে মার্কিন অভিযান আটকানো যায় না।

আম্পাতজিদিস আরও যোগ করেন, রাশিয়ার রেজিস্ট্রিতে নাম লেখানোর ফলে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনি পদক্ষেপ বা অভিযান বন্ধ করতে পারবে না।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বর্তমানে আমাদের জাহাজটি রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রীয় পতাকা উড়িয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনে উত্তর আটলান্টিকের আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জাহাজটির অবস্থান শান্তিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কেন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর সামরিক বাহিনী একে এত বেশি এবং অস্বাভাবিক গুরুত্ব দিচ্ছে, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।’

মস্কো আশা প্রকাশ করে বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলো যারা সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতার কথা বলে, তারা নিজেরাও এই নীতি মেনে চলবে।

আর যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক অভিযান শুরু করার আগে ওয়াশিংটন তাদের মিত্র দেশটিকে (যুক্তরাজ্য) অবহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আপাতত অন্য দেশের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ভেনেজুয়েলার বিনিময়ে ২০১৯ সালেই ট্রাম্পের কাছে ইউক্রেন চেয়েছিল রাশিয়া

জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানে ভর করে আইএমএফের ঋণ থেকে মুক্তি চায় পাকিস্তান

৬৬ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিচ্ছেন ট্রাম্প

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে ‘গায়েব’ করে দিল আইসল্যান্ড

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে ৬২ বছর বয়সে গর্ভধারণ, ভাইরাল নারী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত