
প্রিয় খেলোয়াড়কে দেবতার আসনে বসানোর উন্মাদনা শুধু ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদেরই নেই, আছে ফুটবল-সমর্থকদের মধ্যেও। আর সেটা আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশ নয়, সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায়। হবেই তো! আর্জেন্টিনা মানেই ফুটবল। সেই দেশে খেলাটি নিয়ে এমন মাতামাতি না থাকলে কোন দেশে থাকবে?

ফুটবল ঘিরে মানুষের আবেগ কতটা গভীর হতে পারে, এর উত্তর জানতে হলে যেতে হবে আর্জেন্টিনার এক অভিনব প্রতিষ্ঠানে। নাম মারাদোনিয়ান চার্চ বা ইগলেসিয়া মারাদোনিয়ানা, যেখানে দেবতা মারাদোনা, ধর্ম ফুটবল। এটি এমন এক সাংস্কৃতিক ও প্রতীকী আন্দোলন, যেখানে কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো মারাদোনা শুধু এক মহান খেলোয়াড়ই নন, বরং হয়ে উঠেছেন অধ্যাত্মবাদের প্রতীক!
হার্নান আমেজ, হেক্টর ক্যাপোমার, আলেজান্দ্রো ভেরন এবং ফেদেরিকো ক্যানেপা নামে দিয়েগো মারাদোনার চার ‘ডাইহার্ট ফ্যান’ বসবাস করেন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে। মারাদোনা আর ফুটবলের ভক্ত হিসেবে তাঁদের যুক্তি ছিল খুব সহজ, ‘ফুটবল যদি ধর্ম হয়, তবে তারও একজন দেবতা থাকা উচিত; আর সেই দেবতা হলেন দিয়েগো মারাদোনা।’ ব্যস। সহজ এই যুক্তির ওপর ভর করে ১৯৯৮ সালের ৩০ অক্টোবর, মারাদোনার ৩৮তম জন্মদিনে তাঁরা মারাদোনিয়ান চার্চ তৈরির ঘোষণা দিলেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁরা মারাদোনার জন্মদিনকে ধরে বছর গণনা শুরু করলেন অর্থাৎ তৈরি করলেন এক নতুন ক্যালেন্ডার। একে বলা হয় d.D. বা después de Diego। স্প্যানিশ শব্দ ডেসপেস মানে পর। অর্থাৎ মারাদোনার পর। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের বিসি ও এডি যে অর্থে ব্যবহার করা হয়, ডি.ডি ও সেই অর্থে ব্যবহার করা হয়।
এই ক্যালেন্ডার অনুসারে, মারাদোনার জন্মদিন ৩০ অক্টোবর উদ্যাপন করা হয় ‘মারাদোনিয়ান ক্রিসমাস’। আর ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের স্মৃতি স্মরণ করার জন্য ২২ জুন পালন করা হয় ‘মারাদোনা ইস্টার’। শুধু কি তাই? শুরু হলো নতুন সদস্যদের দীক্ষা দেওয়ার জন্য খ্রিষ্টধর্মের প্রধান ও প্রথম দীক্ষা স্নানের অনুকরণে প্রতীকী বাপ্তিস্ম বা ব্যাপ্টিজম অনুষ্ঠান! এখানেই শেষ নয়।

মারাদোনিয়ান চার্চের অনুসারীরা ‘মারাদোনা’ বোঝাতে D10S শব্দটির প্রচলন করলেন। স্প্যানিশ ভাষায় Dios অর্থ ঈশ্বর, আর ১০ মানে তো জানেন, মারাদোনার বিখ্যাত জার্সি নম্বর। ফলে D10S শব্দটি একদিকে ঈশ্বর, অন্যদিকে মারাদোনার প্রতীক হয়ে উঠল বিশ্বজুড়ে ৬০টি দেশ এবং ৬০০টির বেশি শহরে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার অনুসারীর কাছে। মারাদোনার জার্সি নম্বরের সংখ্যা নিয়ে তৈরি হলো ১০টি নিয়ম। সেটিকে চার্চের অনুসারীরা বলে থাকেন ‘দশ আদেশ’।
শুধু যে কয়েকজন ফুটবল অন্তঃপ্রাণ মানুষ মারাদোনিয়ান চার্চ প্রতিষ্ঠা করেছিল, গল্পটি এখানেই শেষ নয়। শুনলে অবাক হবেন, রোমান রিকেলমে, কার্লোস তেভেজ এবং লিওনেল মেসিও আছেন এই চার্চের সদস্য হিসেবে! আছেন মারাদোনার প্রতিভা প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন যিনি, সেই ফ্রান্সিসকো কর্নেখো, ডন ফ্রান্সিস নামে যাঁর সমধিক পরিচিতি। না না, তালিকা শেষ হয়নি। মাইকেল ওয়েন! হ্যাঁ, মাইকেল ওয়েনও আছেন এই চার্চের অনুসারী হিসেবে।

মজাটা হলো অন্য জায়গায়। যে ব্রাজিলিয়ানদের ফুটবলের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার চিরশত্রু ভাবা হয়, সেই ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় রোনালদিনহো মারাদোনিয়ান চার্চের ঈশ্বরে বিশ্বাস এনেছেন বেশ আগে! শুধু তা-ই নয়, তিনি এই চার্চের কাছ থেকে জার্সি সংগ্রহ করেছেন এবং সেটি পরে ছবি তুলেও পাঠিয়েছেন!
চলুন, এবার এই চার্চের ‘দিয়েগো আমাদের’ নামের যে প্রার্থনা আছে, সেটি পড়ে নিই।
হে মাঠের দিয়েগো,
তোমার বাঁ পা পবিত্র হোক।
তোমার জাদু আমাদের মাঝে নেমে আসুক।
যেমন স্বর্গে তোমার গোল স্মরণ করা হয়,
তেমনি পৃথিবীতেও স্মরণ করা হোক।
প্রতিদিন আমাদের সেই জাদু দাও।
ইংরেজদের ক্ষমা করো,
যেমন আমরা নেপলসের মাফিয়াদের ক্ষমা করি।
আমাদের অফসাইডে পড়তে দিয়ো না,
এবং হাভেলাঞ্জ ও পেলের প্রভাব থেকে মুক্তি দাও।
দিয়েগো মারাদোনা অনন্ত প্রশান্তিময় জীবনে সুখে থাকুন। আমরা তাঁর উত্তরসূরিদের ছন্দময় খেলা উপভোগ করি।
সূত্র: ম্যান অব মেনি ডট কম, এনএসএস-স্পোর্টস ডট কম

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় দুটি পর্যটন দেশ ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড। এই দেশ দুটি আঞ্চলিক বিমান চলাচল হাব হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ক্রমবর্ধমান যাত্রী এবং কার্গো পরিবহনের চাপ সামলাতে দুই দেশই তাদের বিমানবন্দর অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে বিপুল বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা হাতে...
১৮ ঘণ্টা আগে
মানুষ জ্বর না হলেও যে ‘জ্বরে কাঁপে’, তার নাম বিশ্বকাপ ফুটবল। খুব সম্ভবত, পৃথিবীর সবচেয়ে গোমড়া মুখের মানুষটির মনেও কখনো কখনো দোলা দিয়ে যায় বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। যাঁরা মাঠে খেলা দেখার সুযোগ পাননি, কিংবা খেলাটির প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ না থাকলেও ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ আছে, বিশ্বকাপের...
১ দিন আগে
চলতি বছরের শুরুতে অ্যান্টার্কটিকা অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। এবার উত্তর মেরুর হাই আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলে নতুন এক রোমাঞ্চকর অভিযানে নেমেছেন বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালাহউদ্দিন সুমন নামে বিখ্যাত আবু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। সঙ্গে রয়েছেন ভ্রমণবিষয়ক লেখক ও উদ্যোক্তা নিলয় কুমার বিশ্বাস।
১ দিন আগে
পথ চলতে চলতে ফেনীর নিজকুঞ্জরা গ্রামে বন্ধু রাশেদের পরিত্যক্ত বাড়িতে এসে থামতে হলো। পূর্বঘোষিত ডিনার সেখানে শেষ করতে হলো। এরপর ভরা চান্দের মিঠা মিঠা আলোয় ভাইরাল গায়ক হুমায়ূন সরকারের সঙ্গে আমাদের আড্ডা চলল রাত ১১টা পর্যন্ত। তারপর গাড়ি স্টার্ট নিল গন্তব্যের উদ্দেশে।
১ দিন আগে