ফিচার ডেস্ক, ঢাকা

এক দেশ থেকে আরেক দেশে অবাধ যাতায়াত, পছন্দের দেশে বসবাস ও কাজ করার অধিকার—এসব কারণে মানুষ ঝুঁকছে দ্বৈত নাগরিকত্ব বা দ্বিতীয় পাসপোর্টের দিকে। এই দৌড়ে শামিল হয়েছেন হলিউড অভিনেতা জর্জ ক্লুনিও। ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি নিজের ও পরিবারের জন্য ফরাসি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব কী এবং কেন জনপ্রিয়
দ্বৈত নাগরিকত্ব হলো, জন্মভূমি ছাড়াও একই ব্যক্তির অন্য দেশের নাগরিক হওয়া। ভ্রমণপ্রেমী, প্রবাসী ও নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখা মানুষের কাছে এটি বহুদিন ধরে আকর্ষণীয়। কঠোর ভিসা নিয়ম, দীর্ঘ ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়ানোর জটিলতা এড়িয়ে সহজে চলাফেরা করতে কে না চায়?
অনেকের জন্য এটি শুধু ভ্রমণের সুবিধা নয়, বিদেশে বসবাস কাজের সুযোগও বাড়িয়ে দেয়। আবার কেউ কেউ দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা না করলেও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষার জন্য দ্বিতীয় পাসপোর্টকে একধরনের ‘ইনস্যুরেন্স’ হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তনের আভাস
একুশ শতকের রাজনীতিতে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে সমালোচনাও তৈরি হয়। ২০২৫ সালে ইউরোপের কয়েকটি দেশ বংশসূত্রে নাগরিকত্ব এবং তথাকথিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির শর্ত কঠোর করেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো একটি প্রস্তাব এনেছেন, যার মাধ্যমে আমেরিকানদের অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব রাখা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব কতটা ছড়িয়েছে
বিশ্বে ঠিক কত মানুষ একাধিক দেশের নাগরিক, এর নির্ভুল হিসাব পাওয়া কঠিন। কারণ, বেশির ভাগ দেশ নাগরিকদের বাধ্য করে না জানাতে যে তাঁদের কাছে একাধিক পাসপোর্ট আছে কি না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, দ্বৈত নাগরিকত্বের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২১ সালের আদমশুমারিতে দেখা গেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ২ জনের কাছে একাধিক পাসপোর্ট রয়েছে। ২০১১ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১ জনের মতো। অর্থাৎ এক দশকে দ্বৈত নাগরিকত্বের হার হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। যুক্তরাষ্ট্রেও একই চিত্র। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জন আমেরিকানের মধ্যে প্রায় ৬ জন নিজেদের দ্বৈত নাগরিক বলে জানিয়েছেন।
কারা দ্বিতীয় পাসপোর্ট নিচ্ছেন
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, অনেক অভিবাসী নতুন দেশে নাগরিকত্ব নিলেও জন্মভূমির নাগরিকত্ব ছাড়তে চাননি। সাম্প্রতিক সময়ে ধনিক শ্রেণিও বিশ্বজুড়ে সহজে চলাচল এবং ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে দ্বৈত নাগরিকত্বের দিকে ঝুঁকেছে। এখন এই আগ্রহ আরও বাড়ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাঁচজনের একজন দেশ ছাড়তে আগ্রহী। বিশেষ করে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে বিদেশে নতুন জীবন গড়ার আগ্রহ গত এক দশকে চার গুণ বেড়েছে।
এই মানসিকতার প্রভাব পড়েছে দ্বিতীয় পাসপোর্টের আবেদনে। আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স জানায়, ২০২৫ সালে তাদের সহায়তা নেওয়া গ্রাহকদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিলেন মার্কিনরা। একই সঙ্গে ব্রেক্সিটের পর ইউরোপে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ হারানোয় ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যেও দ্বিতীয় নাগরিকত্বের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নাগরিকত্ব পাওয়ার উপায়
সাধারণত তিনটি পথে মানুষ দ্বিতীয় নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। সেগুলো হলো—
বংশসূত্রে নাগরিকত্ব: যদি বাবা-মা, দাদা-দাদি বা আরও আগের কোনো পূর্বপুরুষ কোনো দেশের নাগরিক হন, তাহলে সেই সূত্র ধরে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। তবে কত দূর পর্যন্ত বংশের প্রমাণ গ্রহণযোগ্য হবে, তা প্রতিটি দেশের আইনে ভিন্নভাবে নির্ধারিত।
দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের মাধ্যমে নাগরিকত্ব: নির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ ৫ বা ১০ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর আবেদন করতে হয় এ ক্ষেত্রে। ভাষা, ইতিহাস, চরিত্র যাচাইসহ নানা শর্ত থাকে এখানে।
বিনিয়োগের মাধ্যমে: বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায় বিভিন্ন দেশে।
সুবিধাগুলো কী
ঝুঁকি ও অসুবিধা
উদাহরণ হিসেবে গ্রেনাডার কথা বলা যায়। দেশটির নাগরিকেরা আগে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ ভিসা সুবিধা পেত। ২০২৫ সাল থেকে সেই নিয়ম কঠোর করা হয়েছে।
আজকের অনিশ্চিত বিশ্বে দ্বিতীয় পাসপোর্ট শুধু ভ্রমণের সুবিধা নয়; এর সঙ্গে নিরাপত্তা, সুযোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। তবে সুবিধার পাশাপাশি আইনি, রাজনৈতিক ও আর্থিক দিকগুলো ভেবে দেখা জরুরি।
সূত্র: সিএনএন

এক দেশ থেকে আরেক দেশে অবাধ যাতায়াত, পছন্দের দেশে বসবাস ও কাজ করার অধিকার—এসব কারণে মানুষ ঝুঁকছে দ্বৈত নাগরিকত্ব বা দ্বিতীয় পাসপোর্টের দিকে। এই দৌড়ে শামিল হয়েছেন হলিউড অভিনেতা জর্জ ক্লুনিও। ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি নিজের ও পরিবারের জন্য ফরাসি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব কী এবং কেন জনপ্রিয়
দ্বৈত নাগরিকত্ব হলো, জন্মভূমি ছাড়াও একই ব্যক্তির অন্য দেশের নাগরিক হওয়া। ভ্রমণপ্রেমী, প্রবাসী ও নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখা মানুষের কাছে এটি বহুদিন ধরে আকর্ষণীয়। কঠোর ভিসা নিয়ম, দীর্ঘ ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়ানোর জটিলতা এড়িয়ে সহজে চলাফেরা করতে কে না চায়?
অনেকের জন্য এটি শুধু ভ্রমণের সুবিধা নয়, বিদেশে বসবাস কাজের সুযোগও বাড়িয়ে দেয়। আবার কেউ কেউ দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা না করলেও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষার জন্য দ্বিতীয় পাসপোর্টকে একধরনের ‘ইনস্যুরেন্স’ হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তনের আভাস
একুশ শতকের রাজনীতিতে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে সমালোচনাও তৈরি হয়। ২০২৫ সালে ইউরোপের কয়েকটি দেশ বংশসূত্রে নাগরিকত্ব এবং তথাকথিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির শর্ত কঠোর করেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো একটি প্রস্তাব এনেছেন, যার মাধ্যমে আমেরিকানদের অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব রাখা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব কতটা ছড়িয়েছে
বিশ্বে ঠিক কত মানুষ একাধিক দেশের নাগরিক, এর নির্ভুল হিসাব পাওয়া কঠিন। কারণ, বেশির ভাগ দেশ নাগরিকদের বাধ্য করে না জানাতে যে তাঁদের কাছে একাধিক পাসপোর্ট আছে কি না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, দ্বৈত নাগরিকত্বের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২১ সালের আদমশুমারিতে দেখা গেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ২ জনের কাছে একাধিক পাসপোর্ট রয়েছে। ২০১১ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১ জনের মতো। অর্থাৎ এক দশকে দ্বৈত নাগরিকত্বের হার হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। যুক্তরাষ্ট্রেও একই চিত্র। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০০ জন আমেরিকানের মধ্যে প্রায় ৬ জন নিজেদের দ্বৈত নাগরিক বলে জানিয়েছেন।
কারা দ্বিতীয় পাসপোর্ট নিচ্ছেন
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, অনেক অভিবাসী নতুন দেশে নাগরিকত্ব নিলেও জন্মভূমির নাগরিকত্ব ছাড়তে চাননি। সাম্প্রতিক সময়ে ধনিক শ্রেণিও বিশ্বজুড়ে সহজে চলাচল এবং ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে দ্বৈত নাগরিকত্বের দিকে ঝুঁকেছে। এখন এই আগ্রহ আরও বাড়ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাঁচজনের একজন দেশ ছাড়তে আগ্রহী। বিশেষ করে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে বিদেশে নতুন জীবন গড়ার আগ্রহ গত এক দশকে চার গুণ বেড়েছে।
এই মানসিকতার প্রভাব পড়েছে দ্বিতীয় পাসপোর্টের আবেদনে। আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স জানায়, ২০২৫ সালে তাদের সহায়তা নেওয়া গ্রাহকদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিলেন মার্কিনরা। একই সঙ্গে ব্রেক্সিটের পর ইউরোপে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ হারানোয় ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যেও দ্বিতীয় নাগরিকত্বের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নাগরিকত্ব পাওয়ার উপায়
সাধারণত তিনটি পথে মানুষ দ্বিতীয় নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। সেগুলো হলো—
বংশসূত্রে নাগরিকত্ব: যদি বাবা-মা, দাদা-দাদি বা আরও আগের কোনো পূর্বপুরুষ কোনো দেশের নাগরিক হন, তাহলে সেই সূত্র ধরে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। তবে কত দূর পর্যন্ত বংশের প্রমাণ গ্রহণযোগ্য হবে, তা প্রতিটি দেশের আইনে ভিন্নভাবে নির্ধারিত।
দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের মাধ্যমে নাগরিকত্ব: নির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ ৫ বা ১০ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর আবেদন করতে হয় এ ক্ষেত্রে। ভাষা, ইতিহাস, চরিত্র যাচাইসহ নানা শর্ত থাকে এখানে।
বিনিয়োগের মাধ্যমে: বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায় বিভিন্ন দেশে।
সুবিধাগুলো কী
ঝুঁকি ও অসুবিধা
উদাহরণ হিসেবে গ্রেনাডার কথা বলা যায়। দেশটির নাগরিকেরা আগে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ ভিসা সুবিধা পেত। ২০২৫ সাল থেকে সেই নিয়ম কঠোর করা হয়েছে।
আজকের অনিশ্চিত বিশ্বে দ্বিতীয় পাসপোর্ট শুধু ভ্রমণের সুবিধা নয়; এর সঙ্গে নিরাপত্তা, সুযোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। তবে সুবিধার পাশাপাশি আইনি, রাজনৈতিক ও আর্থিক দিকগুলো ভেবে দেখা জরুরি।
সূত্র: সিএনএন

মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমির বুকে ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। দেশটিতে এ বছর যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘ড্রিম অব দ্য ডেজার্ট’ নামে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম বিলাসবহুল পর্যটন ট্রেন। এই বিশেষ ট্রেনের মাধ্যমে সৌদি আরব শুধু নতুন পরিবহনব্যবস্থা নয়, বিলাসবহুল ভ্রমণের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা উপহার...
১০ মিনিট আগে
স্বল্পতম দূরত্বে না হলেও ইকোনমি ক্লাসে দীর্ঘ ভ্রমণে আরামদায়ক অভিজ্ঞতা পেতে সিট নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যাত্রা আরামদায়ক না হলে ভ্রমণের আনন্দে ভাটা পড়ে। সামনে বা পেছনে সিট নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাস্তব কিছু সুবিধা ও অসুবিধা আছে।
৬ ঘণ্টা আগে
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে চলছে হাড়কাঁপানো শীত। বছরের এ সময়ে আর্কটিকের এই বিশাল দ্বীপ প্রায় ২৪ ঘণ্টা অন্ধকারের চাদরে ঢাকা থাকে। কিন্তু এই হিমশীতল নীরবতা ভেঙে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ৫৬ হাজার জনসংখ্যার দ্বীপটি। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তাঁর ‘গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন’।
৯ ঘণ্টা আগে
বর্তমান যুগে মানুষ বই পড়ার চেয়ে স্ক্রিনে স্ক্রল করতে বেশি অভ্যস্ত। এমন সময়ও প্যারিস শহরের মাঝখানে সেইন নদীর ধারে টিকে আছে সাড়ে চার শ বছরের বেশি পুরোনো এক বইয়ের বাজার। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে এই বাজারে যাঁরা বই বিক্রি করেন, তাঁদের বলা হয় বুকিনিস্ত। পেশাটির সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে এটি শুধু জীবিকা...
১৬ ঘণ্টা আগে