বোহেমিয়ান বা বোহো স্টাইল সারা বিশ্বের শিল্প-সংস্কৃতি আর শৈলী থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি হওয়া একটি লাইফস্টাইল। জিপসি কিংবা যাযাবর শ্রেণির জনগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত যে জীবনযাপন-প্রক্রিয়া, বোহো স্টাইল মূলত সেটাই। যেহেতু এর মূল বিষয় কোনো এক জায়গায় স্থির না থাকা, তাই এতে যেমন ভারতীয় প্রভাব পাওয়া যাবে, তেমনি পাওয়া যাবে লাতিন আমেরিকার জীবনযাত্রার প্রভাবও। আবার আফ্রিকান প্রভাব থেকেও এটি মুক্ত নয়। ইউরোপিয়ান স্টাইলও এটি নিজেদের মধ্যে আত্তীকরণ করেছে। ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট সূত্রে বোহো স্টাইলকে বেঁধে ফেলার উপায় নেই। তবে বোহো স্টাইলের মূলমন্ত্র খুঁজতে গেলে বলতেই হবে, মিক্সিং, ম্যাচিং, লেয়ারিং ও এক্সপ্লোরিংয়ের কথা।
ভ্রমণপ্রিয়, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়, অনেক জাতিসত্তার খোঁজ রাখা আমাদের তরুণ প্রজন্মের জীবনযাপনে বোহেমিয়ান বা বোহো স্টাইলের ছোঁয়া পাওয়া যায় ইদানীং। এর ছাপ ফুটে উঠছে তাদের পোশাক ও অন্দরসজ্জায়।
আপনার ঘরবাড়ি বোহো স্টাইলে সাজাতে চাইলে যে জিনিসগুলো অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন:
স্টাইল হবে অরগানিক
বোহো জীবনযাত্রা মূলত প্রকৃতিঘেঁষা। তাই আপনার আবাসস্থলে প্রচুর পরিমাণে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে, থাকতে হবে গাছপালা। এর সঙ্গে গৃহসজ্জায় উজ্জ্বল রং আর জ্যামিতিক নকশার ব্যবহার ঠিকঠাকমতো করতে পারলেই আপনার ঘরের বোহো লুক তৈরি হবে।
গৃহসজ্জায় স্তরের ব্যবহার
বোহেমিয়ান স্টাইলের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এতে বিভিন্ন রং আর নকশার স্তরের ব্যবহার। ধরুন রংচঙে ফুলতোলা নকশি কাঁথা ছোট একটা মইয়ে ঝুলিয়ে রেখে দিলেন দেয়ালের সঙ্গে ঠেকিয়ে, ফ্লোরে বিছালেন জ্যামিতিক নকশার রঙিন কার্পেট, ওপর থেকে ঝুলে থাকল জমকালো পুঁতির ঝালর। এমন সব রং ও নকশার মিশ্রণে ঘরে আনা যাবে বোহো লুক।
বুননে বোহো
বোহেমিয়ান অন্দরসজ্জায় বুনন করা জিনিসের ব্যবহার লক্ষণীয়। সেটা হোক হাতে বোনা শীতল পাটি কিংবা ছোট-বড় ঝুড়ি। আবার কুরুশের নকশা করা ঝালরও হতে পারে আপনার বোহো সজ্জার অংশ।
আরামদায়ক স্টাইল
বোহেমিয়ান স্টাইলে এত এত রং, নকশা, স্তর ইত্যাদি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য কিন্তু একটাই। সেটা হচ্ছে গৃহসজ্জায় উষ্ণ, নিরাপদ ও আরামদায়ক একটা ছাপ আনা। তাই ঘরদোর সাজানোতে খুব বেশি গোছাল ভাব না এনে একটু ছন্নছাড়া কিন্তু স্বস্তির ভাব আনার চেষ্টা করবেন।
সাজে নিজস্বতার ছোঁয়া
বোহেমিয়ান ডিজাইন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং বৈশ্বিক শৈলীকে ধারণ করে। ঘরের শিল্প, আসবাব—সবকিছুকে আপনার ব্যক্তিগত রুচি আর ভ্রমণের গল্প বলতে দিন। দেশ-বিদেশ থেকে আনা স্যুভেনির দিয়ে ঘর সাজিয়ে তুলুন। কাশ্মীরি উলের চাদর কিংবা নেপাল থেকে আনা হাতের কাজের কাঠের টেবিলখানা– সবকিছুই চমৎকার মানিয়ে যাবে বোহেমিয়ান স্টাইলের সঙ্গে। এ তো গেল বাড়িঘর সাজানোর কথা। তবে গৃহসজ্জার পাশাপাশি নিজেকেও বোহেমিয়ানরূপে সাজিয়ে তোলা যায় সহজেই।
ঢিলেঢালা পোশাক আর প্যাটার্নের ব্যবহার
একরঙা পোশাক থেকে সরে গিয়ে বাহারি প্যাটার্ন ও প্রিন্টের পোশাক পরুন। ফুলতোলা প্রিন্ট, আদিবাসী শিল্পের নকশা বা প্যাটার্ন, প্রাকৃতিক রঙের টাইডাই—এসবই বোহো স্টাইলের পোশাকের অন্তর্গত। এ ছাড়া একেবারে আঁটসাঁট ধরনের পোশাক বেছে না নিয়ে একটু আরামদায়ক ঢিলেঢালা ধরনের পোশাক ব্যবহার করুন।
ফ্যাশন অনুষঙ্গ
যেকোনো বোহেমিয়ান স্টাইলে অনুষঙ্গ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঢাউস আকারের সানগ্লাস থেকে শুরু করে লম্বা পুঁতির মালা—সবই আপনাকে ফ্যাশনেবল একটি লুক এনে দেবে অনায়াসে। এ ছাড়া হাতের কাজের কাঠের, মাটির বা লেদারের গয়নাগাটি বোহো স্টাইলে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে।
ম্যাক্সি দিয়ে ম্যাক্সিমাইজ
ম্যাক্সি স্কার্ট, ম্যাক্সি ড্রেস, প্লাজো প্যান্ট, মোটকথা লম্বা আর বড় ঘেরওয়ালা যেকোনো পোশাক বোহো স্টাইলের অংশ। লুকটাকে পূর্ণতা দিতে অবশ্যই সঙ্গে যথাযথ অনুষঙ্গ ব্যবহার করবেন।
মাটির রং
বোহো পোশাকে প্রাকৃতিক বিভিন্ন রং, বিশেষ করে মাটির রঙের ব্যবহার লক্ষণীয়। আপনি বেশি উজ্জ্বল রং পছন্দ না করলে ক্রিম, সোনালি, বাদামি, হালকা সবুজ ইত্যাদি রং বেছে নিতে
পারেন।
বেছে নিন চপ্পল
বোহো স্টাইলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, বাহারি জুতার বদলে হালকা-পাতলা ধরনের দুই ফিতাওয়ালা চপ্পলের ব্যবহার। তবে চপ্পলের নকশা ও রঙে অবশ্যই বোহেমিয়ান ছাপ থাকতে হবে।

এক অপার সৌন্দর্যভূমি বান্দরবানের থানচি। পাহাড়, নদী আর পাথরের এক অনন্য মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে এই পাহাড়ি জনপদ। দুই পাহাড়ের বুক চিরে আপন গতিতে বয়ে চলা সাঙ্গু নদী যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস। আর সেই রুপালি নদীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পাথরের দেশের এক মুকুটধারী রাজা।
৩ ঘণ্টা আগে
বর্ষাকালে ভ্রমণে কোথায় যাওয়া যায়, সে কথা ভাবছেন? তাহলে এই লেখা আপনার জন্য। বর্ষাকালে বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গা যৌবন ফিরে পায় এবং সৌন্দর্যের ঝাঁপি মেলে ধরে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বর্ষাকালে দেশে ভ্রমণের সেরা দশ দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।
৪ ঘণ্টা আগে
বহুদিনের একটি ইচ্ছা পূরণ করার জন্য রওনা হলাম ঘিওরের কাউটিয়া গ্রামের পথে। গন্তব্য কালীগঙ্গা নদীতীরে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী একটি বটগাছ। উত্তর-পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে কালীগঙ্গা। নদীর সেই চিরচেনা রূপের সমান্তরালে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন বটবৃক্ষ।
৫ ঘণ্টা আগে
বর্ষায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য দারুণ এক ঋতু। তবে এই ঋতুতে ভ্রমণ করার জন্য প্রয়োজন বিশেষ প্রস্তুতি; বিশেষ করে পোশাক ও ব্যাগ হতে হবে পানিরোধী। আর জুতা হতে হবে বিশেষ ধরনের, যাতে পানি পড়লেও নষ্ট না হয় এবং হাঁটার সময় পিছলে পড়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
৬ ঘণ্টা আগে