Ajker Patrika

কৌশলগত প্রস্তুতি: বিজেএসে চতুর্থ হানিফ

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক করেছেন। বর্তমানে পড়ছেন স্নাতকোত্তরে। সম্প্রতি ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ‘সিভিল জজ’ পদে চতুর্থ হয়েছেন। তাঁর কথা শ্রুতলিখন করেছেন আজকের পত্রিকার আনিসুল ইসলাম নাঈম। 

আনিসুল ইসলাম নাঈম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮: ১৮
কৌশলগত প্রস্তুতি: বিজেএসে চতুর্থ হানিফ
মোহাম্মদ হানিফ মিয়া।

আমার জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায়। করিমগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি শেষ করি। গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পাই। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ৩.৬২ সিজিপিএ নিয়ে এলএলবি শেষ করি। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলএমে অধ্যয়নরত।

বিজেএস দেওয়ার স্বপ্ন

বিজেএস দেওয়ার স্বপ্ন মূলত আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ছিল। সে সময় চিন্তা করেছিলাম ১৯তম বিজেএস পরীক্ষায় বসব। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সেশনের স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষা তুলনামূলক আগে শেষ হয়ে যায়। পাশাপাশি ১৮তমের সার্কুলার হয়ে যায়। এ জন্য ১৮তমে পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। বিজেএসে আবেদন করে পড়া শুরু করি। এই জার্নিতে একদম ফ্রেশার হিসেবে যাত্রা শুরু করি। তবে আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সময় থেকে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি।

যেভাবে বিচারক হলাম

১৮তম আমার প্রথম বিজেএস ছিল। তখন সিনিয়র ও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক ভাই ও আপুদের নক দিয়ে শুনতাম কীভাবে কী করতে হবে; কোথা থেকে পড়াশোনাা শুরু করব। প্রস্তুতিতে আমার বিভাগের মাহারাজ হাসান তামিম ভাই এবং তানভীর হাসান ভাই বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন। এ ছাড়াও মাহি উদ্দিন (ঢাবি–আইন বিভাগ) ভাইয়ের রেকর্ডেড বিজেএস রিলেটেড ক্লাস করতে দিয়েছেন। নিশাত আপু (ঢাবি–আইন বিভাগ), তালহা ভাই (ঢাবি–আইন বিভাগ) উনারা যেকোনো প্রয়োজনে গাইডলাইন দিয়েছেন। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি উনাদের দেওয়া গাইডলাইন, বই, নোটগুলো টু দ্য পয়েন্টে ফলো করতে। আমার ভালো ফল করার পেছনে এগুলোর পাশাপাশি স্ট্র্যাটিজিক্যালি রেগুলার পড়া অনেক কার্যকর ছিল। তবে আমি ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার ব্যাপারে খুব ডেডিকেটেড ছিলাম। বিজেএস এক্সাম ছিল আমার সারা জীবনের সকল স্বপ্নের ধারক। তাই পড়াশোনায় কোনো কার্পণ্য করিনি। সাবজেক্ট এবং সিলেবাস টার্গেট করে পড়তাম। কখনো দেখা গেছে ১৬ ঘণ্টাও পড়েছি। কখনো ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়ার পর উঠে গেছি। খেয়াল রেখেছি সিলেবাস শেষ করার বিষয়ে। আলহামদুলিল্লাহ ফাইনালি আমি ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় মেধাতালিকায় চতুর্থ স্থান

অধিকার করেছি।

প্রিলিমিনারি অংশের প্রস্তুতি

বিজেএস প্রিলিমিনারি মূলত ভাগ্যের খেলা। এখানে দেখা যায়, অনেক পড়াশোনা করেও কেউ কেউ পাস করেন না। আবার অনেকে অল্প পড়েও পাস করেন। এ ক্ষেত্রে সিলেবাস ধরে পড়া উচিত। প্রতিটি আইনের বেয়ার অ্যাক্ট একদম টু দ্য পয়েন্টে আয়ত্ত করার পাশাপাশি অ্যানালিটিক্যাল ক্যাপাবিলিটি বিল্ডআপ করাও জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের দুর্বলতা এবং শক্তিমত্তার জায়গা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী পড়াশোনা করে কনফিডেন্স তৈরি করা। প্রিলিমিনারি যেহেতু সবগুলো কোর্সের এক্সাম, তাই আত্মবিশ্বাস না থাকলে পরীক্ষার আগের সময়ে গোলমাল লেগে যায়।

লিখিত অংশের প্রস্তুতি

লিখিত পরীক্ষা শুধু একটা নির্দিষ্ট সময়ের প্রস্তুতি দিয়ে কভার করা পসিবল না। আমার কাছে মনে হয় লিখিত পরীক্ষা নির্ভর করে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের জেনারেল নলেজ এবং এলএলবি অনার্সের পড়াশোনার ওপর। এদিকে যাদের বেসিক ভালো তাদের জন্য লিখিত পরীক্ষা স্বস্তির বিষয়। অন্যথায় এখানে অমানসিক পরিশ্রম করে প্রিপারেশন কভার করতে হয়। প্রচুর পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, টানা ১০ দিন পরীক্ষা দেওয়া অনেকের জন্য

অসম্ভব হয়ে ওঠে।

বিজেএস ভাইভা

বিজেএস ভাইভা আসলে মানসিক প্রস্তুতি ছাড়া কিছুই নয়। যারা লিখিত পরীক্ষায় ভালো করে, তাদের জন্য ভাইভা জাস্ট ফরমালিটি। কিন্তু যেহেতু ভাইভার আগে রিটেনের নম্বর জানা যায় না। তাই সবাই একটু চিন্তিত থাকে। এই সময়ে স্ট্রেস কাটিয়ে ওঠার জন্য নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিকভাবে সবল থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

একাডেমিক পড়াশোনায় ফোকাস

নতুনদের উচিত একাডেমিক পড়াশোনায় ফোকাস করা। কেননা একাডেমিক রেজাল্টের একটা হিডেন প্রভাব অবশ্যই প্রিলি, রিটেন এমনকি ভাইভাতেও রয়েছে। তা ছাড়া বিজেএসের সিলেবাসের সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির একাডেমিক সিলেবাসের মিল রয়েছে। নতুনদের প্রতি পরামর্শ হলো, বিজেএস সিলেবাস মাথায় রেখে একাডেমিক পড়াশোনায় ফোকাস করুন। আর যাঁদের পড়াশোনা শেষ, তাঁদের বলব পারফেক্ট বুকলিস্ট সংগ্রহ করে সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত