তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান দেশে কম্পিউটার সায়েন্সের পাঠ চুকিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে প্রবাসীদের আর্থিক লেনদেনের ভোগান্তিগুলো খুব কাছ থেকে দেখেন। সেই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই প্রতিষ্ঠা করেন ‘মাইক্যাশ’।
মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য মাতৃভাষাভিত্তিক এই সহজ ফিনটেক সেবাটি তাদের কাছে এখন বড় ভরসা। বিদেশের মাটিতে মেহেদীর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনের সেই গল্প করেছেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে। তার কথা শুনেছেন ড. মশিউর রহমান।
আপনার ক্যারিয়ার যাত্রার শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
এই যাত্রাটা খুব সরল ছিল না। ক্যাডেট কলেজের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থেকে বেরিয়ে বাস্তব জীবনে মানিয়ে নেওয়া আমার জন্য কঠিন একটা পরিবেশ ছিল। বাংলাদেশে কিছুদিন কম্পিউটার সায়েন্স পড়লেও আমি বুঝতে পারছিলাম, শুধু বই পড়ে হবে না। আমাকে এমন জায়গায় যেতে হবে, যেখানে শেখার পাশাপাশি কাজেরও সুযোগ আছে। সেই ভাবনা থেকেই আমি মালয়েশিয়ায় চলে যাই। সেখানে পড়াশোনা শেষ করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা দিয়ে কাজের সুযোগ তৈরি করতে থাকি।
প্রথম দিকের চাকরির অভিজ্ঞতা থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী পেয়েছিলেন?
চাকরি শুধু বেতন পাওয়ার জায়গা নয়, এটি বাস্তব পৃথিবী শেখার জায়গা। মালয়েশিয়ায় আমি বুঝতে পারলাম, প্রযুক্তিগত দক্ষতা যদি ব্যবহারযোগ্য হয়, তাহলে ছাত্রজীবনেও কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। আমি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করার পর দেখেছি, সময়মতো কাজ দেওয়া, টিমের সঙ্গে সমন্বয় করা, ক্লায়েন্টের প্রয়োজন বোঝা—এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে শেখানো হয় না। দ্বিতীয় শিক্ষা ছিল, বড় প্রজেক্টে কাজ করলে আপনি শুধু কোড লেখা শিখবেন না; সমস্যা ভাঙতে, অগ্রাধিকার ঠিক করতে এবং চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে শিখবেন।
আপনি কীভাবে নিজের দক্ষতা গড়ে তুলেছিলেন?
আমি খুব সচেতনভাবে দক্ষতা গড়েছি। শুধু একাডেমিক পড়াশোনার ওপর ভরসা করিনি। কম্পিউটার সায়েন্স পড়েছি ঠিকই, কিন্তু তার বাইরে প্রোগ্রামিংয়ের বাস্তব প্রয়োগ, সফটওয়্যার তৈরি, প্রোডাক্ট চিন্তা—এসব নিয়ে সময় দিয়েছি। আমি লক্ষ করেছি, অনেকে শুধু পরীক্ষায় ভালো করার জন্য পড়ে। কিন্তু চাকরির বাজারে সেটি যথেষ্ট নয়। বাজার জানতে চায়, আপনি কী বানাতে পারেন? কীভাবে সমস্যা সমাধান করেন? আমি কাজ করতে করতেই শিখেছি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দক্ষতা গড়ার সময় নিজের শক্তি কোথায়, সেটা বোঝা। সবাই সবকিছুতে ভালো হবে না। আমি প্রযুক্তি, ব্যবহারকারীর সমস্যা বোঝা এবং সেবা ডিজাইনের জায়গায় নিজের শক্তি খুঁজে পেয়েছি।
করপোরেট মানসিকতা বলতে আপনি কী বোঝেন?
করপোরেট মানসিকতা মানে শুধু অফিসে যাওয়া, ভালো পোশাক পরা বা ইংরেজিতে কথা বলা নয়। আমার কাছে করপোরেট মানসিকতা হলো দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা, সময়ের মূল্য বোঝা এবং নিজের কাজের জন্য জবাবদিহি করা। আপনি যদি একটি টিমে কাজ করেন, তাহলে আপনার কাজ অন্য কারও কাজকে প্রভাবিত করে—এই বোধটি অনুধাবন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, পেশাদারি মানে আবেগহীন হওয়া নয়। বরং আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। অনেক তরুণ ছোট সমালোচনায় ভেঙে পড়ে বা ফিডব্যাককে ব্যক্তিগত অপমান মনে করে। বাস্তবে ফিডব্যাকই উন্নতির রাস্তা খুলে দেয়।
নেতৃত্ব সম্পর্কে আপনার সবচেয়ে বড় শেখা কী?
নেতৃত্ব মানে সামনে দাঁড়িয়ে নির্দেশ দেওয়া নয়; বরং বাস্তব সমস্যাকে বোঝা এবং মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। মাইক্যাশ তৈরির সময় আমি বুঝেছি, শুধু প্রযুক্তি জানলেই নেতা হওয়া যায় না। ব্যবহারকারীর জীবন, টিমের সীমাবদ্ধতা, বিনিয়োগকারীর উদ্বেগ, রেগুলেটরের চাহিদা—সবকিছু একসঙ্গে বুঝতে হয়। একজন নেতা হিসেবে কখন ঝুঁকি নিতে হবে, কখন অপেক্ষা করতে হবে, আর কখন দিক পরিবর্তন করতে হবে—এই বিচার খুব জরুরি। আরেকটি বড় শিক্ষা হলো নেতৃত্বের মধ্যে অহংকারের জায়গা নেই। আপনি যদি ভাবেন আপনি সব জানেন, তাহলে শিখতে পারবেন না।
আন্তর্জাতিক পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা আপনাকে কী শিখিয়েছে?
আন্তর্জাতিক পরিবেশে কাজ করলে প্রথমেই বোঝা যায়, শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা যথেষ্ট নয়। যোগাযোগ, সংস্কৃতি বোঝা এবং ব্যবহারকারীর বাস্তবতা বোঝাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, এমনকি মিয়ানমার-সংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, এক দেশের সমাধান অন্য দেশে হুবহু কাজ নাও করতে পারে। যেমন অনেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, কিন্তু সেবা তাদের ভাষায় নয় বা তাদের ব্যবহার-প্যাটার্নের সঙ্গে মানানসই নয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশ্বাসযোগ্যতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতা আমাকে স্থানীয় সমস্যা বুঝে বৈশ্বিক মানের সমাধান ভাবতে শিখিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একজন শিক্ষার্থীর কী কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু পরীক্ষার জায়গা ভাবলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন। বিশ্ববিদ্যালয় হলো নিজেকে পেশাগতভাবে তৈরি করার জায়গা। এখানে তিনটি প্রস্তুতি জরুরি। এক, একটি ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা তৈরি করুন। যেমন প্রোগ্রামিং, ডিজাইন, ডেটা অ্যানালাইসিস। যা দিয়ে আপনি বাস্তব কাজ করতে পারেন। দুই, ছোট প্রকল্পে কাজ করুন। ক্লাসের বাইরে কোনো সমস্যা সমাধান করে দেখান। তিন, বাজার বোঝার চেষ্টা করুন। কোন সেক্টরে কী ধরনের কাজ হচ্ছে, কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে, কীভাবে মানুষ নিয়োগ পায়—এসব জেনে রাখুন। এর বাইরে ইন্টার্নশিপ বা পার্টটাইম কাজের সুযোগ থাকলে সেটি নিতে হবে।
ভবিষ্যতের চাকরির বাজার ও শিল্পপ্রবণতা নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হবে বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান দিয়ে টিকে থাকা কঠিন হবে। প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা, ডিজিটাল পেমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, কাস্টমার সাপোর্ট—এসব খাতে সুযোগ বাড়বে। প্রতিযোগিতাও বাড়বে। আমি মনে করি, বাংলাদেশি তরুণদের জন্য বড় সুযোগ আছে ব্যাক-অফিস অপারেশন, সফটওয়্যার নির্মাণ, সাপোর্ট সিস্টেম এবং ডিজিটাল সার্ভিসে। আমাদের মাইক্যাশের ব্যাক-অফিসই বাংলাদেশে। এটি দেখায় যে দক্ষ জনবল থাকলে আন্তর্জাতিক কাজ দেশে বসেই করা সম্ভব। আমি বলব, ভবিষ্যতে যাঁরা শিখতে থাকবেন, বদলাতে পারবেন এবং ব্যবহারকারীর ভাষায় কাজ করতে পারবেন, তাঁরাই এগিয়ে থাকবেন।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ কী?
তরুণদের বলব, খুব তাড়াহুড়া করে উদ্যোক্তা হওয়ার মোহে ভেসে যাবেন না। উদ্যোক্তা হওয়া আকর্ষণীয় শোনায়, কিন্তু এটি কঠিন, অনিশ্চিত এবং অনেক সময় একাকী পথ। আমি মনে করি, অন্তত চার-পাঁচ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে অভিজ্ঞতা নেওয়া খুব দরকার। আরেকটা কথা হলো, সাফল্যকে শুধু টাকা বা পরিচিতি দিয়ে মাপবেন না। দিনের শেষে আপনি কতটা স্থির, কতটা তৃপ্ত, এবং কতটা সৎভাবে এগোচ্ছেন—সেটাই আসল।

রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল) পদে লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ এপ্রিল এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) জুনিয়র স্টোরম্যান পদে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে মোট ২৪ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) লে. কমান্ডার সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ডেটা এন্ট্রি বা কন্ট্রোল সুপারভাইজার (১০ম গ্রেড) পদের ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ মার্চ এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মোট ২১ জন প্রার্থী অংশ নেবেন।
২ ঘণ্টা আগে
জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটিতে ডিলার পদে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ১১ মার্চ এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
২ দিন আগে