নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি মৌলিক রুকন। আর নামাজের পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে ‘সিজদা’ হলো মহান আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় ও বান্দার বিনম্র আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত রূপ। সিজদা শব্দের অর্থ হলো—নম্রতা, বিনয়, মাথা নত করা বা চেহারা মাটিতে রাখা। শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে বিনম্রচিত্তে শরীরের সাতটি অঙ্গ (নাকসহ কপাল, দুই হাত, দুই হাঁটু ও দুই পায়ের পাতার অগ্রভাগ) মাটিতে লুটিয়ে দিয়ে যে ইবাদত করা হয়, তাকে সিজদা বলে।
হাদিস অনুযায়ী, সিজদারত অবস্থাই হলো আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভের ও দোয়া কবুলের মোক্ষম সময়। সিজদায় আমরা সাধারণত অতি পরিচিত তাসবিহ—সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা (আমার প্রতিপালক সুমহান ও পবিত্র) পড়ে থাকি। তবে এর পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.) সিজদার ভেতর আরও কিছু চমৎকার ও অর্থবহ দোয়া পাঠ করতেন, যা হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে প্রমাণিত।
হাদিস শরিফে সিজদার তাসবিহের পাশাপাশি বা এর পরে পড়ার মতো বেশ কিছু সুন্নাহসম্মত দোয়ার বিবরণ এসেছে:
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁর রুকু ও সিজদায় কখনো কখনো এই দোয়া পড়তেন—
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলি।’
অর্থ: হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন। (বুখারি: ৭৬১, মুসলিম: ৪৮৪)
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) রুকু ও সিজদায় এটিও পাঠ করতেন—
سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
উচ্চারণ: ‘সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহ।’
অর্থ: তিনি (আল্লাহ) সম্পূর্ণরূপে দোষ-ত্রুটিমুক্ত, অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত; সমস্ত ফেরেশতা ও জিবরাইল (আ.)-এর প্রতিপালক। (সহিহ্ মুসলিম: ৪৮৭)
হজরত আলী (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) যখন সিজদা করতেন, তখন বলতেন—
اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ وَأَنْتَ رَبِّي سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়া বিকা আমানতু ওয়া লাকা আসলামতু ওয়া আনতা রাব্বি, সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাজি খালাকাহু ওয়া সাওয়ারাহু ওয়া শাক্কা সামআহু ওয়া বাসারাহু, তাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিক্বিন।’
অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার জন্যই সিজদা করছি। একমাত্র তোমার প্রতিই ইমান এনেছি এবং তোমার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। আমার মুখমণ্ডল ওই সত্তার জন্য সেজদাবনত হয়েছে, যিনি একে সৃষ্টি করেছেন, সুসমন্বিত আকৃতি দিয়েছেন এবং তাতে কান ও চোখ স্থাপন করেছেন। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা কত কল্যাণময়! (সহিহ্ মুসলিম: ১/৫৩৪, সুনানে নাসায়ি)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, সিজদায় নবী করিম (সা.) এই দোয়া খুব বেশি পাঠ করতেন—
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلاَنِيَتَهُ وَسِرَّهُ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি জামবি কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আউয়ালাহু ওয়া আখিরাহু, ওয়া আলানিয়্যাতাহু ওয়া সিররাহু।’
অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও—তার ছোট অংশ ও বড় অংশ, আগের গুনাহ ও পরের গুনাহ এবং প্রকাশ্য ও গোপন গুনাহ। (মুসলিম: ৪৮৩)
এক রাতে রাসুল (সা.)-কে বিছানায় না পেয়ে হজরত আয়েশা (রা.) খুঁজতে গিয়ে দেখেন, তিনি সিজদারত অবস্থায় এই দোয়া পড়ছেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বি-রিদাকা মিন সাখাতিকা, ওয়া বি-মুআফাতিকা মিন উকুবাতিকা, ওয়া আউজু বিকা মিনকা, লা উহসি ছানাআন আলাইকা আন্তা কামা আছনাইতা আলা নাফসিকা।’
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার অসন্তুষ্টি থেকে এবং আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই। আমি আপনার পাকড়াও থেকে আপনারই নিকট আশ্রয় চাই। আমি আপনার প্রশংসা গুনে শেষ করতে সক্ষম নই; আপনি ঠিক সেরূপই, যেরূপ প্রশংসা আপনি নিজের জন্য করেছেন। (সহিহ্ মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ (সা.) সিজদায় মহান আল্লাহর কুদরত ও মহিমার স্তুতি গেয়ে এ দোয়াও পড়তেন—
سُبْانَ ذِي الْجَبَرُوتِ، وَالْمَلَكُوتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ
উচ্চারণ: ‘সুবহানা জিল জাবারুতি, ওয়াল মালাকুতি, ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল আজামাতি।’
অর্থ: পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি সেই সত্তার, যিনি প্রবল প্রতাপ, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গৌরব-গরিমা এবং অতুলনীয় মহত্ত্বের অধিকারী। (সুনানে আবু দাউদ: ৮৭৩)
সিজদা দোয়া কবুলের চমৎকার স্থান হলেও নামাজের ভেতরে দোয়া করার ক্ষেত্রে শরিয়তের অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কড়া কিছু নিয়ম রয়েছে। অজ্ঞতাবশত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে নামাজ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সিজদায় কেবল পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত (মাথুর) দোয়াগুলোই পড়া যাবে। কোরআন-হাদিসের দোয়া পাঠ করলে নামাজে কোনো সমস্যা হয় না।
মুহাদ্দিস ও ফকিহদের মতে, ফরজ নামাজের সিজদায় সুন্নাহ নির্ধারিত তাসবিহ বা সংক্ষিপ্ত সুন্নত দোয়াগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। ইমামের পেছনে ফরজ নামাজ পড়ার সময় নিজস্ব লম্বা দোয়া পড়ার সুযোগ নেই, কারণ, এতে সাধারণ মুসল্লিদের কষ্ট হতে পারে এবং নামাজের নিয়ম বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তবে নফল নামাজ, বিশেষ করে শেষ রাতের তাহাজ্জুদের নামাজে বান্দা একাকী দীর্ঘ সিজদা দিয়ে হাদিসে বর্ণিত এই বিশেষ ও দীর্ঘ দোয়াগুলো মন ভরে পড়তে পারেন। আর যদি কেউ নিজের ব্যক্তিগত বা জাগতিক কোনো প্রয়োজনের জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে চান, তবে তাঁর উচিত নামাজের বাইরে বা সিজদা থেকে উঠে মোনাজাতে সম্পূর্ণ বাংলায় নিজের মনের আকুতি রবের দরবারে পেশ করা।

আমরা প্রতিদিন চলার পথে, প্রযুক্তির পর্দায় কিংবা খবরের মাধ্যমে নানা রকম সুন্দর ও আকর্ষণীয় জিনিস দেখতে পাই। ঘরবাড়ি, গাড়ি, চমৎকার কোনো দৃশ্য, কারও মেধা, সুন্দর কোনো শিশু কিংবা মুসলিম ভাইয়ের ভালো কোনো সংবাদ দেখে মুগ্ধ হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।
৪ ঘণ্টা আগে
আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি সুন্দর, সুশোভিত ও গৌরবময় সমাজ বিনির্মাণে শিশুদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পবিত্র কোরআনে শিশুদের পার্থিব জীবনের শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য হিসেবে আখ্যায়িত করে মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা।’ (সুরা কাহাফ: ৪৬)
১১ ঘণ্টা আগে
সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অপ্রত্যাশিত কোনো আনন্দ বা বহুল প্রত্যাশিত কোনো সাফল্যের সংবাদে আমরা উৎফুল্ল হই এবং আনন্দ প্রকাশ করি। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, যেকোনো আনন্দের মুহূর্তে উৎফুল্লতার আতিশয্যে অহংকারী না হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতায় অবনত হতে।
১১ ঘণ্টা আগে
গত শতাব্দীর ষাটের দশকের কথা। সে সময় মিসরের বিখ্যাত ‘কোরআনুল কারিম’ রেডিওর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মুরাত্তাল’ (মাঝারি বা ধীরগতির) খতম রেকর্ড করেন শায়খ কারি মুহাম্মদ সিদ্দিক মিনশাবি। রেডিওর উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি সেই খতমটি শোনামাত্রই চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় এবং এমন অভূতপূর্ব তিলাওয়াতের..
১১ ঘণ্টা আগে