রুকু নামাজের অন্যতম রোকন। এ ব্যাপারে সব ইমাম একমত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা রুকু করো, সিজদা করো।’ (সুরা হজ: ৭৭) রাসুল (সা.) এক সাহাবিকে নামাজ শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘...এরপর রুকু করবে ভারসাম্যপূর্ণভাবে।’
নামাজের অন্য রোকনগুলোর মতো এটি আদায়ের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। অনেকে সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি বাদ দিয়ে ইচ্ছেমতো রুকু করেন। আমাদের এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রুকুর সুন্নাহসম্মত পন্থা হলো বিশেষ কোনো অপারগতা না থাকলে পিঠকে নিচের দিকে না ঝুঁকিয়ে সোজা রাখা। অর্থাৎ নিতম্ব ও পিঠ সমান সমান হওয়া। কারও একান্ত অপারগতা থাকলে তার জন্য খানিকটা ঝুঁকে থাকার অবকাশ রয়েছে।
আবু মাসউদ আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কারও নামাজ ঠিকঠাক মতো হবে না, যতক্ষণ না সে রুকু ও সিজদায় নিজের পিঠকে সোজা না রাখবে।’ (তিরমিজি, নাসায়ি ও আবু দাউদ) রুকুর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতে ভারসাম্য ঠিক রাখা জরুরি। অর্থাৎ রুকুতে যাওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে উঠে না যাওয়া। শরীরের প্রতিটি জোড়া আপন জায়গায় স্থির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। এক সাহাবি রুকু-সিজদায় তাড়াহুড়ো করার কারণে তিনবার ফের নামাজ পড়তে বলেছিলেন মহানবী (সা.)। পরে যখন ওই সাহাবি নবীজিকে অনুরোধ করলেন, তখন নবীজি তাকে বললেন, ‘রুকুতে যাওয়ার পর সেখানে শান্ত অবস্থায় কিছুক্ষণ থাকো। তারপর রুকু থেকে শান্ত হয়ে ওঠো।’ (বুখারি ও মুসলিম) রুকুতে যাওয়ার পর কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ বলতে হবে। এটা সুন্নত। (আবু দাউদ) আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, তা হলো, দাঁড়ানো ও বৈঠক ছাড়া বাকি রোকনগুলো তথা রুকু, সিজদা ও দুই সিজদার মাঝখানের সময়গুলো সমান হওয়া চাই। (বুখারি ও মুসলিম)
লেখক: শিক্ষক ও হাদিস গবেষক

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত কায়েমের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর তোমরা আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা তহা: ১৪)। নামাজের প্রতিটি রুকন সঠিকভাবে পালন করা নামাজ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। এর মধ্যে ‘রুকু’ অত্যন্ত...
৪ ঘণ্টা আগে
বিয়ে সামাজিক বন্ধন, অনন্য ইবাদত। বিয়ের আকদ বা মূল অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো বিয়ের খুতবা পাঠ করা। বর ও কনের ইজাব-কবুলের (প্রস্তাব ও গ্রহণ) ঠিক আগে আল্লাহর প্রশংসা ও কোরআনের আয়াত-সংবলিত এই খুতবা পাঠের মাধ্যমে একটি নতুন জীবনের বরকতময় সূচনা হয়।
৬ ঘণ্টা আগে
ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর ও শিক্ষণীয় ঘটনা হলো আসহাবুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর ঘটনা। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের দাম্ভিক শাসক আবরাহা পবিত্র কাবা শরিফ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কায় অভিযান চালায়। মানুষের তৈরি বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর কুদরতি শক্তির সেই লড়াইয়ের ইতিহাস আজও মুমিনদের...
৯ ঘণ্টা আগে
নামাজ মুমিনের মিরাজ এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। নামাজের প্রতিটি রুকন ও আমলের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। এর মধ্যে নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, যা দরুদে ইবরাহিম নামে পরিচিত। নবী করিম (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের শ্রেষ্ঠতম...
১৫ ঘণ্টা আগে