ফেরাউন—শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রাচীন মিসরের বিশাল পিরামিড আর ক্ষমতার দম্ভে মত্ত এক স্বেচ্ছাচারী শাসকের ছবি। তবে ইতিহাসে ফেরাউন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নয়, এটি ছিল প্রাচীন মিসরের রাজবংশীয় উপাধি। গবেষকদের মতে, আমালেকা রাজাদের খেতাব ছিল ফেরাউন। মিসরের আদি অধিবাসী কিবতিদের রাজাদেরও ফেরাউন বলে সম্বোধন করা হতো। আর প্রাচীন মিসরীয়রা তাদের রাজাকে সূর্য দেবতার প্রতিনিধি বা কখনো সরাসরি উপাস্য মনে করত।
মুসা (আ.)-এর সময়ের ফেরাউন আসলে কে?
হজরত মুসা (আ.)-এর সময়ে কোন ফেরাউন রাজত্ব করেছিলেন, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে তিনটি প্রধান মত প্রচলিত রয়েছে: ১. দ্বিতীয় রামেসিস: সে রামেসিস ও পিথম নগরী নির্মাণ করেন। অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, মুসা (আ.) তাঁর আমলেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ২. মারনেপতাহ: কেউ কেউ বলেন, দ্বিতীয় রামেসিসের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারী মারনেপতাহর রাজত্বকালে মুসা (আ.)-এর হিজরতের ঘটনা ও ফেরাউনের ডুবে মরার ঘটনাটি ঘটে। ৩. ওয়ালিদ ইবনে মাসআব: কোনো কোনো প্রাচীন ঐতিহাসিক সূত্রে মুসা (আ.)-এর যুগের ফেরাউনের নাম ওয়ালিদ ইবনে মাসআব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রামেসিস দ্বিতীয়: দম্ভ ও পতনের প্রতীক
অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম ও আধুনিক ইতিহাসবিদ একমত যে রামেসিস দ্বিতীয় ছিলেন মুসা (আ.)-এর সমসাময়িক সেই ফেরাউন, যে নিজেকে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালক’ দাবি করেছিল। তার রাজত্বকালে নির্মিত সুউচ্চ সৌধ এবং নিজেকে উপাস্য প্রমাণের চেষ্টা ইতিহাসে তাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছে। সে তার মূর্তিকে দেব-দেবীদের মূর্তির পাশে স্থাপন করে প্রজাদের বাধ্য করত তার উপাসনা করতে।
ইতিহাসে ফেরাউন নামটি আজ জুলুম ও অহংকারের প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছে। ফেরাউনের লাশ আজও মিসরের জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে, যা কিয়ামত পর্যন্ত আসা মানুষের জন্য আল্লাহর এক জীবন্ত নিদর্শন। রাজপ্রাসাদ, পিরামিড আর অঢেল ক্ষমতা যে মানুষকে রক্ষা করতে পারে না, ফেরাউনের ইতিহাস তারই প্রমাণ।

যারা আগেভাগে মসজিদে আসে এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে—তাদের জন্য রয়েছে অতুলনীয় সওয়াবের প্রতিশ্রুতি। এমনকি কারও নামের পাশে লেখা হতে পারে উট সদকার সওয়াবও! হাদিস ও কোরআনের আলোকে আমরা জেনে নিতে পারি—এই দিনটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তা কীভাবে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়।
১৩ ঘণ্টা আগে
তৎকালীন আরব সমাজ যখন ঘোর অমানিশায় আচ্ছন্ন ছিল, মজলুমের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছিল আকাশ-বাতাস, আর মানবসভ্যতা বঞ্চনার হিমালয়ের নিচে ডুকরে কাঁদছিল—ঠিক তখনই ন্যায়বিচারের উজ্জ্বল ধ্রুবতারা হয়ে আগমন করেন আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
১৪ ঘণ্টা আগে
একটি সংসারের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন দুজন মানুষ—স্বামী ও স্ত্রী। একই ছাদের নিচে আলাদা চিন্তা ও অভ্যাসের দুজন মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহনশীলতার মাধ্যমে গড়ে তোলেন একটি নতুন জীবন। সুখী সংসার এক দিনে গড়ে ওঠে না; তা সময়ের পরতে পরতে নির্মিত হয়। সংসারের এই হাসি ইহকাল পেরিয়ে...
১৪ ঘণ্টা আগে
ঘুমন্ত অবস্থায় চিন্তা ও কল্পনার ওপর মানুষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সে ইচ্ছা করলেও কোনো নির্দিষ্ট স্বপ্ন দেখতে পারে না, আবার অপছন্দের স্বপ্নও ঠেকাতে পারে না। এ কারণেই ইসলাম স্বপ্নকে মানুষের ইচ্ছাকৃত কর্মের অন্তর্ভুক্ত করেনি।
১৪ ঘণ্টা আগে