Ajker Patrika

মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বলা হয় যে ৫ কারণে

ইসলাম ডেস্ক 
মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বলা হয় যে ৫ কারণে
ছবি: সংগৃহীত

লোকমুখে একটি কথা প্রচলিত—‘মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব’ বা আশরাফুল মাখলুকাত। কিন্তু এই শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড কী? পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের এই শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে রয়েছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য।

১. আল্লাহর কুদরতি হাতে মানুষের সৃষ্টি

বিশ্বজগতের সাধারণ সৃষ্টির প্রক্রিয়া হলো আল্লাহর আদেশ ‘কুন’ (হও) বলা মাত্রই তা হয়ে যাওয়া। কিন্তু মানুষের সৃষ্টি অত্যন্ত স্বতন্ত্র। হজরত আদম (আ.)-কে সিজদা না করার কারণে ইবলিসের উদ্দেশে আল্লাহ বলেছিলেন, ‘হে ইবলিস, যাকে আমার নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদা করতে তোকে কিসে বাধা দিল?’ (সুরা সোদ: ৭৫)

নিজ হাতে সৃষ্টির এই সম্মান কেবল মানুষের জন্যই নির্ধারিত, যা তাকে অন্য সব সৃষ্টির তুলনায় উচ্চ মর্যাদা দান করেছে।

২. সুন্দরতম অবয়ব ও ভারসাম্যপূর্ণ গঠন

মানুষের গঠনশৈলী অন্য সব প্রাণীর চেয়ে আলাদা এবং সুন্দর। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে।’ (সুরা তিন: ৪)। প্রখ্যাত সুফি আল্লামা ইবনুল আরাবি (রহ.) বলেন, আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে মানুষের চেয়ে সুন্দর আর কেউ নেই। আল্লাহ মানুষকে কথা বলা, শোনা এবং দৃষ্টিশক্তির পাশাপাশি কৌশল ও প্রজ্ঞা দান করেছেন, যা মূলত আল্লাহর গুণেরই প্রতিফলন।

৩. সুষ্ঠু বিবেক ও শুদ্ধ জ্ঞান

বিবেক ও জ্ঞান—এই দুটিই মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছে। বিবেকহীন জ্ঞান যেমন অকেজো, তেমনি জ্ঞানহীন বিবেকও নিষ্ফল।

বিবেক ও মস্তিষ্ক: মেধা ও বুদ্ধি মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা তথ্যের হার্ডডিস্ক হিসেবে কাজ করে।

বোধশক্তি ও অন্তর: পক্ষান্তরে বিবেক বা উপলব্ধি মানুষের অন্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের অন্তর রয়েছে অথচ তারা তা দ্বারা উপলব্ধি করে না।’ (সুরা আরাফ: ১৭৯)

একজন প্রকৃত মানুষের কাজ হলো আল্লাহর সৃষ্টিজগৎ নিয়ে গবেষণা করা এবং পবিত্র কোরআনের বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তাভাবনা করা। এই গভীর চিন্তাই তাকে অন্যান্য সৃষ্টি থেকে আলাদা করে।

৪. পৃথিবীর দায়িত্বশীল ও খলিফা

মহান আল্লাহ পৃথিবীর সবকিছু মানুষের অনুগত করে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা বাকারা: ২৯)। পৃথিবীর সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা এবং সবকিছুর সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা মানুষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। যারা এই দায়িত্ব অবহেলা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তারা মানবতার শত্রু এবং পশুর চেয়েও জঘন্য।

৫. মহান আল্লাহর ইবাদত ও বিধান অনুসরণ

পৃথিবীতে শান্তি বজায় রাখতে একটি পরিকল্পিত জীবনবিধানের প্রয়োজন। মানুষ যদি নিজের মনমতো চলতে থাকে, তবে সে বিশৃঙ্খলাকে শান্তি মনে করতে পারে। এ প্রসঙ্গে কোরআনে এসেছে, ‘যখন তাদের বলা হয়, তোমরা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে আমরা বরং শান্তি প্রতিষ্ঠা করছি।’ (সুরা বাকারা: ১১-১২)

প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত রয়েছে আল্লাহর দেওয়া বিধান অর্থাৎ আল-কোরআনের পূর্ণ অনুসরণের মধ্যে। মহান রাব্বুল আলামিন মানুষের সফলতার পথ বাতলে দিয়েছেন তাঁর ইবাদত ও বিধিনিষেধের মাধ্যমে।

মানুষ কেবল আকৃতির কারণে সেরা নয়, বরং তার দায়িত্ববোধ, জ্ঞান, সুন্দর অবয়ব ও স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের কারণে সে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’। যখন মানুষ তার এই গুণাবলি হারিয়ে ফেলে, তখনই সে পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট স্তরে নেমে যায়। যাদের সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা পশুর মতো, বরং পশুর চেয়ে বেশি নিকৃষ্ট।’ (সুরা আরাফ: ১৭৯)। তাই প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে আমাদের বিবেক ও ইমানের সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইসিসি-পিসিবির সঙ্গে জরুরি মিটিংয়ে হঠাৎ লাহোরে বিসিবি সভাপতি

১৩ অস্ত্রসহ সুব্রত বাইনের সহযোগী দীপু গ্রেপ্তার

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শেষ সময়ে এমপিওর তোড়জোড়

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ভারত-আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ তীব্র হয়: সাবেক সেনাপ্রধানের জবানবন্দি

আজকের রাশিফল: আপনার উন্নতি দেখে অনেকের জ্বলবে, চ্যাট হিস্ট্রি সাবধানে রাখুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত