ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.)-এর বিচারব্যবস্থা রাসুল (সা.)-এর যুগের অনুসৃত বিচারব্যবস্থারই বাস্তব নমুনা ছিল। বিচারের জন্য আলাদা কোনো মন্ত্রণালয় ছিল না। তাঁর আমলে বিচারিক কাজে এবং বিচারে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এগুলো পরবর্তীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনুসরণীয় হয়ে আছে।
খলিফা আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলে বিচারব্যবস্থা প্রশাসন থেকে আলাদা ছিল না। আবু বকর (রা.) একাই ছিলেন খলিফা ও বিচারক। তবে সব সময় তিনি বিচারের কাজ করতে পারতেন না। মদিনায় বিচারকার্য পরিচালনার জন্য তাঁর সাহায্যের প্রয়োজন হতো। রাসুল (সা.)-এর যুগের তুলনায় বিচারপ্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এ জন্য তিনি ওমর (রা.)কে মদিনায় বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। আবু বকর (রা.) ছিলেন প্রথম বিচারক এবং ওমর (রা.) ছিলেন দ্বিতীয় বিচারক। মদিনার বাইরে তিনি গভর্নর এবং বিচারক পদে অনেককে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগকেই রাসুল (সা.) স্বয়ং সেসব কাজে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় বিচারব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় আইনের পরিমাণ ছিল অনেক কম। কোরআন, সুন্নাহ এবং রাসুল (সা.)-এর নৈতিক আদেশ। তখনো ওহি নাজিল হচ্ছিল। এ জন্য সাহাবিরা নিজেদের চিন্তা-ভাবনার ওপর নির্ভর করেননি। কিন্তু রাসুল (সা.)-এর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বিচারব্যবস্থায় নতুন নতুন ইস্যু তৈরি হয় এবং আইনের নতুন উৎসের সৃষ্টি হয়। এ জন্য আবু বকর (রা.) কোরআন ও সুন্নাহর পাশাপাশি ইজমা ও কিয়াসকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেন।
কোনো বিচার এলে প্রথমে আবু বকর (রা.) পবিত্র কোরআনে এর সমাধান খুঁজতেন। কোরআনে নির্দেশ পেয়ে গেলে সে অনুযায়ীই বিচার করতেন। আর সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না পেলে তিনি সুন্নাহ তালাশ করতেন। রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় বিভিন্ন বিচারকার্যে নেওয়া সিদ্ধান্তসমূহ সামনে রাখতেন।
সেখানে সমাধান পেয়ে গেলে সে অনুযায়ীই বিচার করতেন। সুন্নাহতে কোনো সমাধান না পেলে তখন অন্যান্য সাহাবিকে সে বিষয়ে কোনো সমাধান দিতে দেখেছেন কি না, জিজ্ঞেস করতেন। কেউ জেনে থাকলে তিনি সমাধান বলে দিতেন। আবু বকর (রা.) সেভাবেই বিচার করতেন এবং বলতেন, ‘সব প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, যিনি আমাদের মধ্যে এমন একজনকে দিয়েছেন, যে রাসুল (সা.)-এর কাছ থেকে এটা মনে রেখেছে।’ তেমন কাউকে না পেলে সমসাময়িক বিজ্ঞ সাহাবিদের একত্র করতেন এবং তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন, তা অনুসরণ করতেন। সেভাবেই ফায়সালা দিতেন। কোনো ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কোরআন, সুন্নাহ ও ইজমা না পেলে তিনি ব্যক্তিগত অভিমত ও বিশ্লেষণ (কিয়াস) প্রয়োগ করতেন।
দৈহিক শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া তিনি শাস্তি প্রয়োগ করতেন না। আবু বকর (রা.) বলেন, ‘যদি কাউকে দেখতাম যে তার জন্য দৈহিক শাস্তি প্রাপ্য, তখন নিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে শাস্তি প্রয়োগ করতাম না। ন্যূনতম একজন হলেও সাক্ষীর ওপর নির্ভর করতাম।’
দুর্বলকে বাঁচানোই ছিল তাঁর বিচারব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। পাশাপাশি নির্যাতিতকে সুবিচার দিতেন। দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার দেওয়া এবং সমাজের ধনীদের আলাদা দৃষ্টিতে না দেখার প্রতি গভীর মনোযোগ রাখতেন।
লেখক: অনুবাদক

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৪ ঘণ্টা আগে
মানবজাতির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হলেন আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)। তিনি এমন এক পরিবার ও বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যা ছিল তৎকালীন সমগ্র আরবের মধ্যে সবচেয়ে অভিজাত, সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ। সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক অভিমত অনুযায়ী, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল, সোমবার...
১৭ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২১ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, নির্ভরযোগ্য এবং অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম হলো ‘মা’। একজন মানুষ যখন প্রথম পৃথিবীর আলো দেখে, তখন তার প্রথম আশ্রয়, প্রথম নিরাপত্তা এবং মমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন মা। মাতৃত্ব নারীর অহংকার। সন্তান গর্ভে ধারণ করা এবং জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা আল্লাহ তাআলা একমাত্র নারীকেই দিয়েছেন।
১ দিন আগে