পার্থিব জীবনের সমস্ত মোহ ত্যাগ করে একজন মুমিন যখন আল্লাহর মেহমান হয়ে পবিত্র বায়তুল্লাহর পানে ছুটে যান, তখন তাঁর প্রতি থাকে স্রষ্টার বিশেষ রহমত। আর এই পবিত্র যাত্রাপথে হজে বা ওমরাহে গিয়ে যদি কেউ ইন্তেকাল করেন, তবে পরকালে তাঁর জন্য রয়েছে এক অনন্য ও বিশেষ মর্যাদা। মহান আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তি অফুরন্ত প্রতিদান লাভ করেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশে নিজ ঘর থেকে হিজরত করে বের হলো, অতঃপর মৃত্যু তাকে পেয়ে বসল, তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায় নির্ধারিত হয়ে যায়। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ (সুরা নিসা: ১০০) এই আয়াতের আলোকে স্পষ্ট যে, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোনো সৎপথে মৃত্যুবরণকারী বান্দা লাভ করেন উত্তম প্রতিদান।
হজ বা ওমরাহ পালনের নিয়তে ঘর থেকে বের হয়ে পথের মধ্যে মৃত্যুবরণ করলে মহান রাব্বুল আলামিন তাঁকে জীবন্ত হাজি বা ওমরাহকারীর সওয়াব দান করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
‘কেউ হজ করার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা গেলে তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত হজের সওয়াব লেখা হয়। আর কেউ ওমরাহ করতে বের হয়ে মারা গেলে তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত ওমরাহর সওয়াব লেখা হয়।’
—(তাবারানি: ৫৩২১; বাইহাকি: ৪১০০)
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ, ওমরাহ অথবা আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হবে আর পথেই মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য গাজি, হাজি বা ওমরাহ পালনকারীর সওয়াব ধার্য করবেন।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ: ২৫৩৯)
হজে গিয়ে মৃত্যুবরণ করার অলৌকিক ও ইমানজাগানিয়া এক মর্যাদার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে এক ব্যক্তি আরাফায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ তিনি তাঁর বাহন উটনী থেকে পড়ে যান এবং তাঁর ঘাড় ভেঙে তিনি মারা যান।
তখন রাসুল (সা.) সাহাবিদের নির্দেশ দিয়ে বললেন, ‘তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দুই কাপড়ে কাফন পরাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা ঢাকবে না; কেননা, কিয়ামাতের দিন সে “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” বা তালবিয়া পড়া অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।’ (সহিহ বুখারি: ১২৬৫; সহিহ মুসলিম: ২৭৬৩)
হজ আদায়কারী ব্যক্তি দুনিয়াতেই আল্লাহর সম্মানিত মেহমান হিসেবে মর্যাদা পান। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর প্রতিনিধি বা মেহমান হলো তিন ব্যক্তি—গাজি (ইসলামের পথে সশস্ত্র যোদ্ধা), হাজি ও ওমরাহ পালনকারী।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ: ২৫৩৭)

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ ও পূর্ব চত্বরে আয়োজিত মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা আজ রোববার (১১ অক্টোবর) শেষ হতে যাচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে আবারও উঁচুতে তুলে ধরেছে কৃতী শিক্ষার্থী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা। তিনি ঢাকার মিরপুর-১-এ অবস্থিত খ্যাতনামা ইসলামি বিদ্যাপীঠ মারকাযু ফয়জিল কোরআন...
৮ ঘণ্টা আগে
পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে নফল ইবাদতের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। আরবি ‘হুজুদ’ মূল শব্দ থেকে ‘তাহাজ্জুদ’ শব্দের উৎপত্তি, যার আভিধানিক অর্থ হলো ঘুম থেকে জেগে ওঠা।
১৫ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৯ ঘণ্টা আগে