
মানুষ আগমনের বহু আগ থেকেই করুণাময় আল্লাহ তাঁর অনুপম নেয়ামতধারায় এই পৃথিবীকে সুসজ্জিত করে রেখেছেন। মানুষের বাসযোগ্য করার জন্য যা কিছুর প্রয়োজন, তাঁর সবকিছুই এই নিখিল জাহানের পরতে পরতে বিছিয়ে রেখেছেন। কিন্তু মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ। যে মহান রব এত এত নেয়ামতে সিক্ত করলেন, মানুষ সে রবেরই বিরুদ্ধাচরণ শুরু করল। তাই রাব্বুল আলামিন সুরা রহমানে জানতে চান, ‘তোমরা উভয়ে কোন নেয়ামত অস্বীকার করবে?’
এখানে ‘উভয়ে’ বলতে ‘মানুষ’ ও ‘জিন’ জাতিকে বোঝানো হয়েছে। কেননা এই দুই জাতির কল্যাণার্থেই আল্লাহ তাআলা আলো–ছায়া, সাগর-নদী, পাহাড়-পর্বত, ঝরণাধারা ও নির্মল বাতাস যেমন সৃজন করেছেন, তেমনি ফুল-ফসল পত্র-পল্লবে প্রকৃতিকে করেছেন নয়নাভিরাম। আর সুপথে চলার জন্য দিয়েছেন পবিত্র কোরআন। তার এই অগণিত নেয়ামতের কিঞ্চিৎ তুলে ধরা হয়েছে সুরা রহমানে। এরশাদ হয়েছে, ‘পরম করুণাময়। তিনি শিখিয়েছেন কোরআন।’ (সুরা রহমান: ১-২)
কোরআন বড় নেয়ামত
রাব্বুল আলামিন দয়াপরবশ হয়ে মানুষকে কোরআন শিখিয়েছেন। জীবনে চলার পথে ছোট-বড় সব সমস্যার সমাধান যেমন এই কোরআন থেকে সহজেই পাওয়া যায়, তেমনি পৃথিবী ও মহাবিশ্বের নানা রহস্য উন্মোচনে আহরণ করা যায় তথ্য-উপাত্ত। কোরআন সন্ধান দেয় নতুন দিগন্তের। আল্লাহ তাআলা এই রত্নভান্ডার আমাদের হাতের মুঠোয় দিয়ে বলেন, ‘আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্য। অতএব, কোনো চিন্তাশীল আছে কি।’ (সুরা ক্বামার: ১৭)
ভাষাই মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ
আল্লাহ তাআলা কোরআন যেমন শিখিয়েছেন, তেমনি শিখিয়েছেন ভাষা। মানবজীবনকে পূর্ণতা দান ও শ্রেষ্ঠ জাতিতে উন্নীত করার জন্য ভাষার বিকল্প নেই। যার মুখে ভাষা নেই, সেই কেবল ভাষার প্রকৃত গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে। ধারণা করা হয়, পৃথিবীতে জীবন্ত ভাষা আছে ৬ হাজারেরও অধিক। পৃথিবীতে এই যে এতো ভাষা, এই ভাষার উচ্চারণগত ভিন্নতাও অসংখ্য রকমের। বৈচিত্র্যময় এ ভাষা মানুষের জ্ঞানভান্ডারকে সমৃদ্ধ ও গতিশীল করে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তাঁর আরও এক নিদর্শন হচ্ছে—ভাষা ও বর্ণের বিচিত্রতা। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য রয়েছে নিদর্শনাবলি।’ (সুরা রুম: ২২)
কোরআন ও ভাষার মতো এমন বিস্ময়কর নেয়ামত পেয়েও যারা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না, তাঁর একাত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করে না, সেই অবিশ্বাসীদের চারপাশের নেয়ামতরাজির প্রতি ইঙ্গিত করে মহান রব জানতে চান, ‘এই নেয়ামতসমূহ তাদের কে দিয়েছেন?’
আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘সূর্য ও চাঁদ (নির্ধারিত) হিসাব অনুযায়ী চলে। আর তারকা ও গাছপালা সিজদা করে।’ (সুরা রহমান: ৫-৬)
চাঁদ-সূর্য নেয়ামত
আল্লাহ তাআলা মানুষ ও জিনের প্রয়োজনেই চন্দ্র ও সূর্য সৃষ্টি করেছেন। যেন তা দিয়ে তারা দিনের বেলায় নিজেদের কাজ-কর্ম সহজ ও নির্বিঘ্নে করতে পারে। ভাবুন তো, যদি না থাকত এই রুপালি চাঁদটা, তাহলে আমাদের চারপাশের পরিবেশ কেমন হতো? ২৪ ঘণ্টার দিন শেষ হয়ে যেত মাত্র ৬ ঘণ্টায়। সমুদ্রে থাকত না জোয়ার-ভাটা। জমিতে ফলত না সোনার ফসল। আল্লাহ তাআলা আরও অনেক প্রয়োজনে এই চাঁদ-সূর্য সৃষ্টি করেছেন। এরশাদ হয়েছে, ‘মহিমাময় সেই রব, যিনি আকাশে কক্ষপথ বানিয়েছেন এবং তাতে এক উজ্জ্বল প্রদীপ ও আলোকিত চাঁদ সৃষ্টি করেছেন সেই ব্যক্তির জন্য, যে উপদেশ গ্রহণের ইচ্ছা রাখে কিংবা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চায়।’ (সুরা ফুরকান: ২৫-৬১)
আকাশে নেয়ামতের মেলা
আবার রাতের অন্ধকারে মানুষ যেন পথ না ভোলে, তার জন্য আকাশে বসালেন তারার মেলা। মানুষ অন্তত এই সুদৃশ্য আকাশ দেখে আল্লাহ তাআলার তারিফ করতে পারত। কিন্তু তা না করে উল্টো এই চন্দ্র-সূর্য, তারকারাজিকে ‘রব’ বলে ডাকতে শুরু করল। সুরা রহমানে আল্লাহ তাআলা তাঁর আরেক নেয়ামত ‘আকাশ’–এর কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘আর তিনি আকাশকে সমুন্নত করেছেন এবং দাঁড়িপাল্লা (ন্যায়নীতি) স্থাপন করেছেন।’ (সুরা রহমান: ০৭)
মহান আল্লাহর অজস্র সৃষ্টিকর্মের মধ্যে এক রহস্যময় সৃষ্টির নাম হলো আকাশ। বিশাল এই আকাশের নান্দনিকতা, নিপুণতা, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করলে মনের পর্দায় ভেসে ওঠে আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতের অসংখ্য নিদর্শন। এরশাদ হয়েছে, ‘আমি নির্মাণ করেছি তোমাদের ওপর মজবুত সপ্ত আকাশ।’ (সুরা নাবা: ১২)
বৃক্ষ, ফল, ফুল—আরও কত কী!
সুরা রহমানে আল্লাহ তাআলা আকাশ, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্রের মতো নেয়ামতের বর্ণনা যেমন দিয়েছেন, তেমনি জমিন, গাছপালা, সুগন্ধি ফুল, ফলমূল ও খোসাযুক্ত খেজুরের কথা বলেছেন। এরশাদ হয়েছে, ‘আর জমিনকে বিছিয়ে দিয়েছেন সৃষ্ট জীবের জন্য। তাতে রয়েছে ফলমূল ও খেজুরগাছ। যার খেজুর আবরণযুক্ত। আর আছে খোসাযুক্ত দানা (শস্য) ও সুগন্ধিযুক্ত ফুল।’ (সুরা রহমান: ১১, ১২ ও ১৩)
নেয়ামতের ভান্ডার সাগর
আল্লাহর নেয়ামতের মধ্যে সাগর অন্যতম। সাগর যেন এক রহস্যপুরী। এ রহস্যপুরীর তলদেশে রক্ষিত গ্যাস, কয়লা, মনোমুগ্ধকর প্রবাল ও মণিমুক্তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে সুরা রহমানে। তিনি বলেছেন, ‘উভয় সমুদ্র থেকে উৎপন্ন হয় মণিমুক্তা ও প্রবাল।’ (সুরা রহমান: ২২)
সাগরের আরেক রহস্য তুলে ধরা হয়েছে এই সুরায়। এরশাদ হয়েছে, ‘তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন, যারা পরস্পর মিলিত হয়। উভয়ের মধ্যে রয়েছে এক আড়াল। যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।’ (সুরা রহমান: ১৯-২০)
পর্বতসম জলযান আল্লাহর নেয়ামত
সুরা রহমানে আল্লাহ তাআলা পাহাড়সম জাহাজের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘সমুদ্রে বিচরণশীল পর্বতসম জাহাজগুলো তাঁরই নিয়ন্ত্রণাধীন।’ (সুরা রহমান: ২৪)
নেয়ামত পূর্ণতা পাবে জান্নাতে
জান্নাতের অনুপম সৌন্দর্যের চিত্রও তুলে ধরেছেন আল্লাহ তাআলা। যেখানে ‘তাসনিম’ ও ‘সালসাবিল’ নামের দুটি ঝরণাধারা থাকবে। দুই ঝরণার চারপাশে চমৎকার ও সুস্বাদু ফুল-ফলের বৃক্ষ থাকবে। যেখানে জান্নাতিরা রেশমের বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে, তাদের নাগালেই ঝুলবে জান্নাতি ফল। আর থাকবে তিলোত্তমা হুর।
যে মহান আল্লাহ আমাদের এত সব নেয়ামতে সিক্ত করলেন, আমরা কী করে তাঁর প্রতি অকৃতজ্ঞ হই, অবাধ্য হই, লঙ্ঘন করি তাঁর দেওয়া বিধান! আমাদের উচিত—তওবা করে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করা। তাঁর অগণিত নেয়ামতের শুকরিয়া জ্ঞাপন করা। তাহলে আল্লাহ তাআলা নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা আমার নিয়ামতপ্রাপ্তির শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে তোমাদের নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেওয়া হবে, আর অকৃতজ্ঞ হলে কঠিন আজাবে নিপতিত করা হবে।’ (সুরা ইবরাহিম: ৭)
লেখক: ইমাম ও খতিব, কসবা জামে মসজিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো মহিমান্বিত রাত ‘লাইলাতুল কদর’ অন্বেষণ করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে শবে কদর অন্বেষণ করো।’ (সহিহ্ বুখারি: ২০২০)। ইতিকাফকারী ব্যক্তি যেহেতু পুরো সময় ইবাদতে থাকেন, তাই তাঁর শবে কদর পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
১৭ ঘণ্টা আগে
বিংশ শতাব্দীর মুসলিম উম্মাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক, প্রখ্যাত সাহিত্যিক সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.)। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের রায়বেরেলির এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সাইয়েদ আবদুল হাই ছিলেন ‘নুজহাতুল খাওয়াতির’-এর মতো কালজয়ী গ্রন্থের রচয়িতা।
১৮ ঘণ্টা আগে
সুমামা কিছুটা অবাক হলেন। তিনি এমন কোমল প্রশ্ন আশা করেননি। তবুও তাঁর মুখের ভাব কঠোর রেখে বললেন, ‘হে মুহাম্মদ, ভাবছি তো অনেক কিছুই। তবে আমি আপনার কাছে উত্তম আচরণেরই আশা করছি। যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন, তবে আপনি একজন খুনিকে হত্যা করবেন। আর যদি আপনি দয়া করেন, তবে আপনি একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির ওপর...
১৮ ঘণ্টা আগে
রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ কেবল পুরুষদের জন্য নয়; বরং নারীদের জন্যও এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী ‘লাইলাতুল কদর’ লাভের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ইতিকাফ। নবী করিম (সা.)-এর পবিত্র স্ত্রীরাও নিয়মিত ইতিকাফ পালন করতেন।
১৯ ঘণ্টা আগে