আপনার জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপে আমরা পরস্পর সালাম জানিয়ে থাকি। এসব সালামের জবাব দেওয়া কি আবশ্যক? যদি আবশ্যক হয়, তাহলে কীভাবে উত্তর দিতে হবে? ইসলামের সঠিক বিধান জানতে চাই।
আলাউদ্দীন মাহবুব, সাভার, ঢাকা
উত্তর: তথ্যপ্রযুক্তি মানুষের জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ ও গতিশীল করেছে। বর্তমানে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ ও বার্তা আদান-প্রদানের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো কিংবা ই-মেইল। দূর-দূরান্তে থাকা স্বজন বা পরিচিতজনদের সঙ্গে মুহূর্তেই মেসেজ বা ভয়েস পাঠাতে এই অ্যাপসগুলোর জুড়ি নেই। ডিজিটাল এই যোগাযোগব্যবস্থায় মুসলিম ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে সালাম আদান-প্রদান করেন। কেউ টেক্সট লিখে কিংবা কেউ ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে সালাম দেন।
একজন মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের যে কয়টি মৌলিক অধিকার রয়েছে, তার মধ্যে সালাম বিনিময় অন্যতম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজন মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের ছয়টি বিশেষ হক রয়েছে; তার একটি হলো—সাক্ষাৎ হলে তুমি তাকে সালাম দেবে...’ (সহিহ মুসলিম: ২১৬২)
ইসলামি শরিয়তের মৌলিক নিয়ম হলো—কাউকে সালাম দেওয়া সুন্নত, কিন্তু সেই সালামের উত্তর বা জবাব দেওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক। কোরআন ও হাদিসে এমন কোনো পার্থক্য করা হয়নি যে অফলাইনে বা সরাসরি সাক্ষাতে সালাম দিলে জবাব দিতে হবে, আর অনলাইনে বা টেক্সটে দিলে দিতে হবে না। তাই সালামের উত্তর না দিলে আমলনামায় গুনাহ লেখা হয়।
মেসেঞ্জার বা ই-মেইলে আসা সালামের জবাব কীভাবে দেবেন?
ইসলামি গবেষক ও ফকিহদের মতে, আধুনিক যুগের লেখার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করার বিষয়টি সরাসরি কথা বলার মতোই গণ্য হয়। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ই-মেইল কিংবা যেকোনো অ্যাপে লিখিত বা ভয়েসে সালাম পাঠালে তার জবাব দেওয়া আবশ্যক।
ইসলামি আইনবিদেরা মেসেঞ্জারের সালামের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও সহজ সমাধানের কথা উল্লেখ করেছেন:
ক. লিখে বা মুখে উত্তর দেওয়া: কেউ টেক্সটে বা মেসেঞ্জারে সালাম পাঠালে লিখিতভাবে টেক্সটের উত্তর (যেমন: ওয়া আলাইকুমুস সালাম) দিয়ে দেওয়া যায়। অথবা লেখা না পাঠিয়ে নিজ মুখে জবাব উচ্চারণ করে নিলেও ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।
খ. শুনিয়ে দেওয়া বা পাল্টা মেসেজ পাঠানো জরুরি নয়: অনলাইনে পাঠানো সালামের উত্তর সরাসরি প্রেরককে শুনিয়ে দেওয়া বা তাঁকে পাল্টা মেসেজ পাঠাতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এমনকি তাঁকে ফোন করে বা ফিরতি টেক্সট পাঠিয়ে জানানোও জরুরি নয়। একা একা মুখে সালামের উত্তর উচ্চারণ করে নিলেই ওয়াজিব দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে।
বিখ্যাত ফতোয়ার গ্রন্থগুলোতে বলা হয়েছে, ‘লিখে পাঠানো বা বার্তা মাধ্যমের সালামের জবাব লিখেও দেওয়া যায়, আবার মুখে উচ্চারণ করেও দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে মৌখিক জবাব তাকে শুনিয়ে দেওয়া জরুরি নয় এবং পাল্টা উত্তর লেখা কিংবা ফোন করে জানানোও আবশ্যক নয়; বরং একাকী মুখে জবাব দিয়ে দিলেই হবে।’ (রদ্দুল মুহতার: ৬/৪১৫, ফয়জুল কাদির: ৪/৩১)
মোটকথা হলো, অনলাইন বা অফলাইন যে মাধ্যমেই হোক না কেন, কোনো মুসলিমের কাছ থেকে সালাম পেলে তা অবহেলা বা কার্পণ্য না করে উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেখে ব্যস্ততার কারণে ফিরতি টেক্সট দিতে না পারলেও, অন্তত নিজ মুখে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম’ উচ্চারণ করে জবাব দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি হাসান আরিফ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন আজীবন এক আপসহীন ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা যুদ্ধক্ষেত্র—যেকোনো চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি ও শত্রুভাবাপন্ন পরিবেশেও তিনি কখনো নিজের স্থান থেকে তিল পরিমাণ বিচ্যুত হননি।
১ ঘণ্টা আগে
জুমাবার একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন। এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, ইমানি চেতনা ও সামাজিক সংহতির প্রতীক। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান মসজিদে সমবেত হয়ে এ দিন আল্লাহর ইবাদত করেন। কিন্তু এই ইবাদতের সূচনা কীভাবে হয়েছিল? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে নবুওয়াতের শুরুর যুগে।
১ ঘণ্টা আগে
ইতিহাস, নন্দনতত্ত্ব ও আধ্যাত্মিকতার মিলনমেলা—ইস্তাম্বুলের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা নীল মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে ‘সুলতান আহমেদ মসজিদ’ নামে পরিচিত, শত শত বছর ধরে উসমানীয় স্থাপত্যের আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা জানিয়ে আসছে।
২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৭ ঘণ্টা আগে