
মানুষ হিসেবে চলার পথে আমরা প্রতিনিয়ত ছোট-বড় অসংখ্য ভুল বা গুনাহ করে ফেলি। আর এই গুনাহের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তম আমল হলো ‘ইস্তিগফার’ বা ক্ষমা প্রার্থনা করা। ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ (أَستَغْفِرُ اللهَ) একটি আরবি শব্দ, যার সরল বাংলা অর্থ হলো—‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
বান্দা যখন আন্তরিকভাবে ইস্তিগফার পাঠ করে, তখন পরম দয়ালু আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন, তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং জীবনে সুখ ও শান্তি এনে দেন।
ক্ষমা প্রার্থনা বা নিজের পাপ মোচনের জন্য ইস্তিগফার পড়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন নিষ্পাপ, তবু তিনি সাহাবিদের ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজেও প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ইস্তিগফার করতেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে বলেছেন, ‘আল্লাহর শপথ, আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে ৭০ বারের বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) ও তওবা করে থাকি।’ (সহিহ্ বুখারি)। অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে, তিনি দৈনিক ১০০ বার তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ইস্তিগফারের অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। মানবজীবনের যেকোনো সমস্যা সমাধান ও সংকটে এটি এক অনন্য হাতিয়ার:
কোরআন ও হাদিসে ক্ষমা প্রার্থনার অনেক দোয়া রয়েছে। এর মধ্যে বহুল প্রচলিত ও বরকতময় কয়েকটি দোয়া এবং তা পড়ার নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:
أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।
পড়ার নিয়ম: এই দোয়া প্রতিদিন অন্তত ৭০ থেকে ১০০ বার পড়া উচিত।
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: আমি সেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; যিনি চিরঞ্জীব, অবিনশ্বর (চিরস্থায়ী) এবং আমি তাঁর কাছে তওবা করে ফিরে আসছি।
পড়ার ফজিলত ও নিয়ম: দিনের যেকোনো ইবাদত-বন্দেগির সময় বা অবসরে এই তওবা করা যায়। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এই দোয়া পড়বে, তার পাপরাশি ক্ষমা করা হবে; যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো বড় পাপও করে থাকে। (সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিজি)।
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ, তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের ওপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ, তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কারণ, তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।
পড়ার নিয়ম ও ফজিলত: এই দোয়া প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় পাঠ করা উচিত। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি দৃঢ়বিশ্বাসের সঙ্গে এই ইস্তিগফার সকালে পড়বে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যাবে কিংবা সন্ধ্যায় পড়বে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যাবে, সে জান্নাতি হবে। (সহিহ্ বুখারি)।

নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং সর্বোত্তম ইবাদত। জামাতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়। তবে জামাতে বা ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধান মেনে চলতে হয়।
১ ঘণ্টা আগে
অজুর মধ্যে এমন কিছু আবশ্যক কাজ রয়েছে, যার কোনো একটি বাদ পড়লে অজু সম্পূর্ণ হবে না এবং নামাজও শুদ্ধ হবে না। এগুলোকে ‘অজুর ফরজ’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা মায়িদার ৬ নম্বর আয়াত এবং হাদিসের সুনির্দিষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী অজুর ফরজ মোট ৪টি।
৯ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৩ ঘণ্টা আগে
অজু মুমিনের আত্মিক পবিত্রতা, শারীরিক পরিচ্ছন্নতা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অজুর মাধ্যমে মুমিনের অন্তর পবিত্রতার আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। তাই কোরআন ও হাদিসে অজুর গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
১ দিন আগে