Ajker Patrika

আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠের ফজিলত

তাসনিফ আবীদ
আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠের ফজিলত
আস্তাগফিরুল্লাহ অর্থ হলো—আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ছবি: সংগৃহীত

মানুষ হিসেবে চলার পথে আমরা প্রতিনিয়ত ছোট-বড় অসংখ্য ভুল বা গুনাহ করে ফেলি। আর এই গুনাহের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তম আমল হলো ‘ইস্তিগফার’ বা ক্ষমা প্রার্থনা করা। ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ (أَستَغْفِرُ اللهَ) একটি আরবি শব্দ, যার সরল বাংলা অর্থ হলো—‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

বান্দা যখন আন্তরিকভাবে ইস্তিগফার পাঠ করে, তখন পরম দয়ালু আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন, তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং জীবনে সুখ ও শান্তি এনে দেন।

ইস্তিগফারের গুরুত্ব

ক্ষমা প্রার্থনা বা নিজের পাপ মোচনের জন্য ইস্তিগফার পড়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন নিষ্পাপ, তবু তিনি সাহাবিদের ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজেও প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ইস্তিগফার করতেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে বলেছেন, ‘আল্লাহর শপথ, আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে ৭০ বারের বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) ও তওবা করে থাকি।’ (সহিহ্ বুখারি)। অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে, তিনি দৈনিক ১০০ বার তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

হাদিসের আলোকে আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠের ফজিলত

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ইস্তিগফারের অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। মানবজীবনের যেকোনো সমস্যা সমাধান ও সংকটে এটি এক অনন্য হাতিয়ার:

  • ১. দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি ও অভাবনীয় রিজিক লাভ: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সব সময় গুনাহ মাফ চাইতে থাকে (আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তে থাকে), আল্লাহ তাকে প্রতিটি সংকীর্ণতা অথবা কষ্টকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে তাকে মুক্ত করেন এবং তিনি তাকে এমন সব উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুনানে আবু দাউদ)।
  • ২. পাপের ক্ষমার নিশ্চয়তা: হাদিসে এসেছে, কোনো বান্দা গুনাহ করে যখন বলে—‘হে রব, আমি পাপ করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করো।’ তখন আল্লাহ বলেন—‘আমার বান্দা জেনেছে যে তার একজন রব আছেন, যিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং পাকড়াও করেন। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম।’ (সহিহ্ বুখারি ও মুসলিম)।
  • ৩. বিশাল গুনাহের ক্ষমা: রাসুল (সা.) বলেছেন, কেউ যদি শুক্রবার ফজরের আগে তিনবার এই দোয়া পড়ে—‘আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি’, তবে তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা সমান হলেও তা ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
  • ৪. দিন-রাতের সব ভুলের ক্ষমা: হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আমার বান্দা, তোমরা দিনে-রাতে ভুল করে থাকো, আর আমি সব পাপ ক্ষমা করি। তাই তোমরা আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করব।’ (সহিহ্ মুসলিম)

ইস্তিগফারের কয়েকটি প্রচলিত দোয়া

কোরআন ও হাদিসে ক্ষমা প্রার্থনার অনেক দোয়া রয়েছে। এর মধ্যে বহুল প্রচলিত ও বরকতময় কয়েকটি দোয়া এবং তা পড়ার নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:

১. সংক্ষিপ্ত ইস্তিগফার

أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।

অর্থ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।

পড়ার নিয়ম: এই দোয়া প্রতিদিন অন্তত ৭০ থেকে ১০০ বার পড়া উচিত।

২. বিশেষ ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।

অর্থ: আমি সেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; যিনি চিরঞ্জীব, অবিনশ্বর (চিরস্থায়ী) এবং আমি তাঁর কাছে তওবা করে ফিরে আসছি।

পড়ার ফজিলত ও নিয়ম: দিনের যেকোনো ইবাদত-বন্দেগির সময় বা অবসরে এই তওবা করা যায়। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এই দোয়া পড়বে, তার পাপরাশি ক্ষমা করা হবে; যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো বড় পাপও করে থাকে। (সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিজি)।

৩. সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।

অর্থ: হে আল্লাহ, তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের ওপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ, তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কারণ, তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।

পড়ার নিয়ম ও ফজিলত: এই দোয়া প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় পাঠ করা উচিত। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি দৃঢ়বিশ্বাসের সঙ্গে এই ইস্তিগফার সকালে পড়বে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যাবে কিংবা সন্ধ্যায় পড়বে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যাবে, সে জান্নাতি হবে। (সহিহ্ বুখারি)।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত