আপনার জিজ্ঞাসা
মুফতি শাব্বির আহমদ

আসসালামু আলাইকুম। আমাদের সমাজে নবীজি (সা.)-কে নিয়ে একটি ঘটনা খুব প্রচলিত, যার মূল বিষয়বস্তু হলো ‘একদিন মহানবী (সা.) পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একটি হরিণীকে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। হরিণীটি তখন তাঁর কাছে মিনতি করে বলে যে তার দুটি ছোট বাচ্চা আছে, যারা দুধ না পেলে মারা যাবে। সে দুধ পান করিয়ে ফিরে আসার ওয়াদা করলে নবীজি (সা.) তাকে ছেড়ে দেন এবং নিজে তার দায়িত্ব নিয়ে গাছের নিচে বসে থাকেন। এরপর শিকারি এসে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। কিন্তু হরিণীটি ফিরে আসার পর সেই শিকারি লোকটি মুসলমান হয়ে যায় এবং হরিণীটিকেও মুক্ত করে দেয়।’ এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাই।
জুবায়ের হোসেন, চট্টগ্রাম।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। হরিণীর সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর কথোপকথন এবং তার ফিরে আসার এই ঘটনা আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত। অনেকে এটিকে নবীজি (সা.)-এর মুজিজা বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে হাদিস বিশারদগণ (মুহাদ্দিসিনে কেরাম) এই ঘটনার বিশুদ্ধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। বিখ্যাত হাদিস গবেষকগণ এই ঘটনাকে দুর্বল, বানোয়াট বা ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।
মোল্লা আলী কারি (রহ.) বলেন, হরিণীর আনুগত্য সম্পর্কিত ঘটনাটি নবীজি (সা.)-এর প্রশংসায় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত। তবে হাদিস ও তাফসির বিশারদ ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘এই ঘটনার কোনো ভিত্তি নেই। যে ব্যক্তি এটিকে রাসুল (সা.)-এর দিকে সম্পর্কিত করবে, সে মিথ্যা বলবে।’
শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.) এ ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত দুর্বল ও ভিত্তিহীন বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এর সনদগুলোতে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং মূল বর্ণনার মধ্যেও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়। (আল-মাসনু ফি মারিফাতিল হাদিসিল মাউজু)
এ-সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর সনদ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনোটিই গুরুতর অভিযোগ থেকে মুক্ত নয়। তাই এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকা আবশ্যক। এই বর্ণনাগুলোর মূল বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেগুলোর মধ্যে প্রচুর পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। মোটকথা, এগুলোর মধ্যে স্পষ্টতই বাড়াবাড়ি রয়েছে।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

আসসালামু আলাইকুম। আমাদের সমাজে নবীজি (সা.)-কে নিয়ে একটি ঘটনা খুব প্রচলিত, যার মূল বিষয়বস্তু হলো ‘একদিন মহানবী (সা.) পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একটি হরিণীকে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। হরিণীটি তখন তাঁর কাছে মিনতি করে বলে যে তার দুটি ছোট বাচ্চা আছে, যারা দুধ না পেলে মারা যাবে। সে দুধ পান করিয়ে ফিরে আসার ওয়াদা করলে নবীজি (সা.) তাকে ছেড়ে দেন এবং নিজে তার দায়িত্ব নিয়ে গাছের নিচে বসে থাকেন। এরপর শিকারি এসে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। কিন্তু হরিণীটি ফিরে আসার পর সেই শিকারি লোকটি মুসলমান হয়ে যায় এবং হরিণীটিকেও মুক্ত করে দেয়।’ এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাই।
জুবায়ের হোসেন, চট্টগ্রাম।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। হরিণীর সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর কথোপকথন এবং তার ফিরে আসার এই ঘটনা আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত। অনেকে এটিকে নবীজি (সা.)-এর মুজিজা বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে হাদিস বিশারদগণ (মুহাদ্দিসিনে কেরাম) এই ঘটনার বিশুদ্ধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। বিখ্যাত হাদিস গবেষকগণ এই ঘটনাকে দুর্বল, বানোয়াট বা ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।
মোল্লা আলী কারি (রহ.) বলেন, হরিণীর আনুগত্য সম্পর্কিত ঘটনাটি নবীজি (সা.)-এর প্রশংসায় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত। তবে হাদিস ও তাফসির বিশারদ ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘এই ঘটনার কোনো ভিত্তি নেই। যে ব্যক্তি এটিকে রাসুল (সা.)-এর দিকে সম্পর্কিত করবে, সে মিথ্যা বলবে।’
শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.) এ ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত দুর্বল ও ভিত্তিহীন বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এর সনদগুলোতে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং মূল বর্ণনার মধ্যেও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়। (আল-মাসনু ফি মারিফাতিল হাদিসিল মাউজু)
এ-সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর সনদ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনোটিই গুরুতর অভিযোগ থেকে মুক্ত নয়। তাই এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকা আবশ্যক। এই বর্ণনাগুলোর মূল বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেগুলোর মধ্যে প্রচুর পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। মোটকথা, এগুলোর মধ্যে স্পষ্টতই বাড়াবাড়ি রয়েছে।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

নামাজ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি যেমন আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে, তেমনই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
৫ ঘণ্টা আগে
নামাজ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি যেমন আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে, তেমনই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
১৯ ঘণ্টা আগে
শীতের সকাল মানেই ঘন কুয়াশা, কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর আরামদায়ক বিছানার প্রবল আকর্ষণ। এই সময়ে ঘুমের ঘোর ভেঙে জেগে ওঠা যে কারও জন্যই বেশ কষ্টসাধ্য। ঠিক এই মুহূর্তেই ফজরের নামাজ একজন মুমিনের ইমানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। শীতের ভোরে অজু-গোসলের কষ্ট আর বিছানার মোহ ত্যাগ করা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার
১ দিন আগে
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার ঐতিহাসিক খন্দক যুদ্ধক্ষেত্রে একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ আধুনিকায়নের পাশাপাশি ওই ঐতিহাসিক যুদ্ধের রণকৌশল প্রদর্শনের জন্য একটি আধুনিক ‘সিমুলেশন সাইট’ বা কৃত্রিম যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।
১ দিন আগে