খন্দকের ময়দানে তখন চলছে এক মহাকাব্যিক ব্যাকরণ। মুসলমানেরা দিনরাত পরিখা খনন করছেন। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) তাঁর কোদাল নিয়ে গভীর পরিখা খুঁড়ছেন। কিন্তু আজ তাঁর মনটা ভারী। কারণ তিনি দেখলেন, প্রিয় নবীজি (সা.) ক্ষুধার্ত অবস্থায় পেটে পাথর বেঁধে কাজ করছেন। জাবির (রা.)-এর হৃদয় কেঁপে উঠলো। এই কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারলেন না।
নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়ে তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দারুণ ক্ষুধার্ত দেখলাম। আমাদের ঘরে কি কিছু আছে?’
তাঁর স্ত্রী একটি চামড়ার পাত্র থেকে এক সা পরিমাণ যব বের করে দিলেন। ঘরে একটি ছোট বকরির বাচ্চাও ছিল। জাবির দ্রুত বকরিটি জবাই করলেন, আর তাঁর স্ত্রী যব পিষে আটা বানালেন। জাবিরের স্ত্রী তাকে বললেন, ‘খাবার তো অনেক কম, এতে রাসুল (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের সামনে আমাদের লজ্জিত করবেন না।’
জাবিরের হৃদয়ে তখন দ্বিধা। একদিকে নবীজির প্রতি ভালোবাসা, আরেকদিকে লজ্জিত হওয়ার ভয়। তবুও তিনি খাবার নিয়ে নবীজি (সা.)-এর কাছে গেলেন। চুপি চুপি বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ, আমাদের ঘরে এক সা যব ও একটি বকরির বাচ্চা আছে। আপনি কয়েকজনকে নিয়ে আসুন।’
নবীজি (সা.) জাবিরের কথা শুনে মৃদু হাসলেন। এরপর তিনি উচ্চ স্বরে ঘোষণা করলেন, ‘হে পরিখা খননকারীরা, জাবির তোমাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছে। এসো, তোমরা সবাই এসো।’
এ কথা শুনে জাবির (রা.) হতবাক হয়ে গেলেন। প্রায় এক হাজার ক্ষুধার্ত সাহাবি একসঙ্গে তাঁর বাড়ির দিকে আসতে লাগলেন। তাঁর স্ত্রী তো ভয়ে অস্থির। জাবির (রা.) স্ত্রীকে বললেন, ‘আমি যা শুনেছিলাম, তাই করেছি।’
নবীজি (সা.) জাবিরের বাড়িতে এসে বললেন, ‘আমি আসার আগে রুটি তৈরি করবে না এবং ডেকচি নামাবে না।’ এরপর তিনি আটার খামিরে নিজের মুখের লালা মিশিয়ে দিলেন এবং তাতে বরকতের জন্য দোয়া করলেন। ডেকচির কাছে গিয়ে তিনি একই কাজ করলেন। তারপর তিনি রুটি প্রস্তুতকারিণীকে ডেকে বললেন, ‘তুমি রুটি বানাও আর আমি এখান থেকে খাবার পরিবেশন করি।’
উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে দেখল, এক হাজার সাহাবি পেট ভরে খাবার খেলেন, কিন্তু খাবার শেষ হলো না।
জাবির (রা.) আল্লাহর কসম করে বলেন, ‘সবাই খেয়ে চলে যাওয়ার পরেও আমাদের ডেকচি টগবগ করে ফুটছিল এবং আটার খামির থেকে তখনো রুটি তৈরি হচ্ছিল।’
সেই দিন জাবির (রা.) এবং তাঁর স্ত্রী আল্লাহর কুদরত দেখলেন। তাঁরা বুঝতে পারলেন, নবীজির দোয়ায় সামান্য খাবারেও অফুরন্ত বরকত আসে। অভাবের সেই দিনে সামান্য খাবার দিয়ে তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেছিলেন।
তথ্যসূত্র: সহিহ্ বুখারি: ৪১০২

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্যের প্রতিও ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মেসওয়াক তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি দাঁত পরিষ্কারের প্রাকৃতিক উপায়ের পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাহ।
২ ঘণ্টা আগে
মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য প্রতিদান হিসেবে জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। মুমিনরা জান্নাতের নিকটবর্তী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহান আল্লাহর নির্দেশে দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং ফেরেশতারা তাঁদের সাদর সম্ভাষণ জানাবেন।
৯ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৪ ঘণ্টা আগে
ইসলামি দর্শনে ‘আহলে কিতাব’ (أهل الكتاب) একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সম্মানজনক পরিভাষা। আরবি ‘আহল’ শব্দটির অর্থ অধিবাসী, অনুসারী বা সম্পর্কিত গোষ্ঠী এবং ‘কিতাব’ শব্দের অর্থ ঐশী গ্রন্থ বা আসমানি কিতাব। ফলে শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে ‘আহলে কিতাব’ বলতে সেই সব ধর্মীয় সম্প্রদায়কে বোঝায়, যাদের ওপর...
১ দিন আগে