মরুভূমির তপ্ত বুকে হঠাৎ যেমন ঝরে যায় নির্মল বৃষ্টি, যেমন ঘন অন্ধকারের বুক চিরে উদিত হয় প্রথম প্রভাত; তেমনি মানবসভ্যতার অন্তহীন অবক্ষয়ের যুগে তিনি এসেছিলেন আলোর দূত হয়ে। তিনি আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। যিনি পৃথিবীকে দিয়েছেন মুক্তির আলো, মানুষকে দিয়েছেন শান্তির দিশা, আর মানবতাকে দিয়েছেন সত্যিকারের মর্যাদা।
অমানিশা ভেঙে ভোরের সূচনা
হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের আগে পৃথিবী ছিল এক ভয়াল অন্ধকারে ঢাকা। কন্যাশিশুকে জীবিত কবর দেওয়া হতো, দাস-দাসীর কোনো অধিকার ছিল না। হারিয়ে গিয়েছিল মানুষের বিবেক। তখন আল্লাহর বাণী পৃথিবীতে আলো হয়ে নেমে এল, ‘বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি প্রেরিত রাসুল।’ (সুরা আরাফ: ১৫৮)। এ যেন আকাশে প্রথম সূর্যোদয়ের মতো; বিভ্রান্ত পৃথিবী পেল নতুন জীবন।
সমতার মহাগান
আরাফাতের ময়দানে তিনি উচ্চারণ করলেন মানবতার শ্রেষ্ঠ জয়গান, ‘তোমাদের সবার পিতা একজন, মা একজন। তোমরা সবাই সমান। কোনো আরবের ওপর অনারবের, শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠ সে, যে আল্লাহভীরু।’ (মুসনাদে আহমদ: ২৩৪৮৯, জামে তিরমিজি: ৩২৭০)
এই ঘোষণা ইতিহাসের পাতায় খোদাই করে দিল—মানুষ মানুষকেই ভালোবাসবে। বিভাজন নয়, ঐক্যই হবে সভ্যতার ভিত্তি।
নারীর চোখে মুক্তির আলো
যে সমাজে কন্যা ছিল লজ্জার বোঝা, সেখানে তিনি কন্যাকে জান্নাতের সুখবর দিলেন। ‘যার কন্যাসন্তান আছে এবং সে তাকে জীবিত কবর দেয়নি, তাকে অপমান করেনি, পুত্রকে প্রাধান্য দিয়ে বঞ্চিত করেনি, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৫১৪৬)
নারী পেল সম্মান, পেল উত্তরাধিকার, পেল মর্যাদা। আজও পৃথিবীর নারীর মুক্তির ইতিহাস শুরু হয় নবীজি (সা.)-এর হাত ধরেই।
আখলাকের আলোকবর্তিকা
নবীজি (সা.) শুধু বাণী দেননি; তাঁর জীবনই ছিল বাণীর প্রতিচ্ছবি। তিনি ঘোষণা করলেন, ‘আমি তো উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।’ (মুয়াত্তা মালেক: ১৬১৪)
শত্রুকে ক্ষমা করা, দুর্বলকে রক্ষা করা, দুঃখীকে ভালোবাসা, সত্যকে আঁকড়ে ধরা—এসব ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবন। এক ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর সততা, এক নেতা হিসেবে তাঁর ন্যায়পরায়ণতা, এক স্বামী ও পিতা হিসেবে তাঁর ভালোবাসা—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন মানবতার সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিমূর্তি।
পূর্ণাঙ্গ সভ্যতার দিশারি
মহানবী (সা.) শুধু নামাজের ইমাম নন, তিনি এক পূর্ণাঙ্গ সভ্যতার স্থপতি। রাজনীতি থেকে পরিবার, অর্থনীতি থেকে আইন—সব ক্ষেত্রেই তিনি দিলেন সাম্য ও ন্যায়ের শিক্ষা। তিনি দেখালেন কীভাবে দুনিয়া ও আখিরাতের ভারসাম্য বজায় রেখে জীবনকে সুন্দর করা যায়।
আজকের পৃথিবীর প্রয়োজন
আজ যখন পৃথিবী জ্বলছে বৈষম্য, যুদ্ধ আর ঘৃণার আগুনে, তখন নবীজি (সা.)-এর শিক্ষা আরও জরুরি। তাঁর কণ্ঠ আজও যেন বাতাসে ভেসে আসে, ‘মানুষ মানুষের ভাই।’ এ এক বাণী, যা পারে বিভক্ত দুনিয়াকে জুড়ে দিতে, আহত পৃথিবীকে সান্ত্বনা দিতে।
মহানবী (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, আল্লাহ ছাড়া কারও সামনে মাথা নত কোরো না। দুর্বলকে পদদলিত নয়, বরং রক্ষা করো। নারীর সম্মান রক্ষা করো, শিশুকে ভালোবাসো। সত্যকে আঁকড়ে ধরো, মিথ্যার সঙ্গে আপস কোরো না।
নবীজি (সা.) এসেছিলেন একাকী, হাতে ছিল না সেনাবাহিনী, কোষাগারে ছিল না সোনা-রুপা। কিন্তু তিনি জয় করেছিলেন হৃদয়, ভেঙেছিলেন অন্যায়ের শিকল, জ্বালিয়েছিলেন দয়ার প্রদীপ। পৃথিবীর বুকে যত মানবতা, যত ন্যায়, যত সত্যের দীপ্তি—সবকিছুর কেন্দ্রে আছেন তিনি।
আল্লাহর বাণীই তাঁর শ্রেষ্ঠ পরিচয়, ‘আমি তো তোমাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া: ১০৭)।
হ্যাঁ, মানবজাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ উপহারই হলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
লেখক: শিক্ষক, মা’হাদুল মাদীনাহ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি ‘গুজব’ নামক এক বিষবৃক্ষ আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে করে তুলছে বিষাক্ত। না জেনে কোনো সংবাদ প্রচার করা বা কোনো ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া আজ যেন একটা কঠিন ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
১৪৪৭ হিজরির হজের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবী থেকে সৌভাগ্যবান হাজি সাহেবগণ আল্লাহর ঘরে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। সেখানে পৌঁছানোর পর হজের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগের দিনগুলো আত্মশুদ্ধি, হজের প্রস্তুতি ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সুবর্ণ একটি সুযোগ। একজন সচেতন হজযাত্রী...
৯ ঘণ্টা আগে
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর বিতর নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার তৃতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে সুরা মেলানোর পর একটি বিশেষ আমল করতে হয়—যাকে আমরা দোয়া কুনুত বলি। হানাফি মাজহাব মতে, বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পাঠ করা ওয়াজিব।
৯ ঘণ্টা আগে
তুরস্কের কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের আরতভিন প্রদেশের বোরচকা জেলার মারাল গ্রামের জীর্ণ এক কাঠের মসজিদ। বাইরে থেকে দেখলে মসজিদটিকে একদম সাদামাটা আর একঘেয়ে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। পাহাড়ের এক ঢালু খাঁজে, আঁকাবাঁকা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপনাটিকে প্রথম দর্শনে কোনো প্রাণহীন পরিত্যক্ত ঘর ভেবে ভুল করা স্বাভাবিক।
৯ ঘণ্টা আগে