ন্যায়বিচার মানুষের মৌলিক অধিকার এবং আল্লাহ তাআলার নির্দেশিত একটি অপরিহার্য দায়িত্ব। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী হয়ে যাও এবং আল্লাহর জন্য ন্যায়সংগত সাক্ষ্য দান করো। এতে যদি তোমাদের নিজের বা পিতামাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়স্বজনের ক্ষতি হয়, তবুও।’ (সুরা নিসা: ১৩৫)
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্র ও শাসকের প্রধান দায়িত্বগুলোর অন্যতম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার অধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। শাসক তার অধীনদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। সে জনগণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৭১৩৮)
ইসলাম ন্যায়বিচারকে সমস্ত মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য করেছে। মুসলিম-অমুসলিম, ধনী-দরিদ্র, শক্তিশালী-দুর্বলনির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের সুবিচার পরিত্যাগে প্ররোচিত না করে। সুবিচার করো, এটাই তাকওয়ার নিকটবর্তী।’ (সুরা মায়িদা: ৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। মক্কা বিজয়ের পর তিনি সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন, যদিও মক্কাবাসী তাঁর প্রতি চরম অত্যাচার করেছিল। একবার বনু মাখজুম গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত মহিলা চুরির অপরাধে ধরা পড়লে কিছু সাহাবি তার শাস্তি লঘু করার জন্য সুপারিশ করতে চাইলেন। এতে রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংসের কারণ এই ছিল যে তাদের মধ্যে কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হতো, আর দুর্বল কেউ চুরি করলে তার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করা হতো।’ (সহিহ বুখারি: ৬৭৮৭)
আজকের যুগে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনের শাসনের অভাবে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। ইসলামের নীতিমালা অনুসরণ করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার প্রাপ্য অধিকার এবং যথাযথ ন্যায়বিচার পাবে।

২০২৬ সালে পবিত্র রমজান মাস কি ২৯ দিনে হবে, না ৩০ দিনে? মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের মুসলিমদের মধ্যে এই কৌতূহল এখন তুঙ্গে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষস্থানীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ বছরের রমজানের সময়সূচি, রোজার দৈর্ঘ্য ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন।
৭ ঘণ্টা আগে
পবিত্র কোরআনের ৯৯তম সুরা হলো সুরা জিলজাল (سورة الزلزلة)। এটি পবিত্র মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা আট। এই সুরায় কিয়ামত দিবসের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প, পৃথিবীর তথ্য প্রদান এবং মানুষের কৃতকর্মের সূক্ষ্ম হিসাবের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
লোকমুখে একটি কথা প্রচলিত—‘মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব’ বা আশরাফুল মাখলুকাত। কিন্তু এই শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড কী? কেন মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বলা হয়? কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের ৫টি কারণ জানুন।
১ দিন আগে
পবিত্র কোরআনের ১০৪ নম্বর সুরা হলো সুরা হুমাজাহ (سورة الهمزة)। ৩০তম পারার এই সুরা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। ৯ আয়াতবিশিষ্ট এই সুরায় আল্লাহ তাআলা পরনিন্দা, গিবত ও অর্থলিপ্সার মতো জঘন্য তিনটি সামাজিক ব্যাধি ও তার পরিণাম সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
১ দিন আগে